প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি অব্যাহত রাখা দেশগুলোর ওপর কঠোর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট নতুন একটি বিল আনার উদ্যোগ নিয়ে এগুচ্ছে। এই প্রস্তাবিত বিলে ভারত ও চীনসহ মোট পাঁচটি দেশের জন্য আমদানি পণ্যের ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপের বিধান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বুধবার (১৫ জুলাই) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর এক প্রতিবেদনে উল্লিখিত তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন সিনেট থেকে জানা গেছে, মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল নতুন বিলটির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল ও গ্যাস ক্রয়কারী প্রধান কয়েকটি দেশের ওপর সুস্পষ্ট আমদানি শুল্ক আরোপের প্রস্তাব রাখা হয়েছে এই বিলে। এই শুল্কের হার সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে, তবে বিশেষ কিছু পরিস্থিতিতে ছাড় দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
নতুন বিলে মূল লক্ষ্য কেবল রাশিয়ার তেল আমদানিকারক দেশগুলোই নয়, যারা নিয়মিত ক্রেমলিনের কাছ থেকে প্রাকৃতিক গ্যাসও আমদানি করছে, তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। এই বিলে উল্লেখিত প্রধান পাঁচটি দেশ হলো ভারত, চীন, স্লোভাকিয়া, হাঙ্গেরি ও আজারবাইজান।
এর আগে, গত বছর রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম এই বিষয়ে একটি বিল সিনেটে উত্থাপন করেছিলেন, যেখানে রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়া দেশগুলোর পণ্যের ওপর ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব ছিল। তবে নানাবিধ আইন ও রাজনৈতিক জটিলতায় ঐ বিলটি শেষ পর্যন্ত আইনে পরিণত হতে পারেনি। বর্তমানের নতুন প্রস্তাবটিকে পুরোনো বিলের একটি পরিমার্জিত ও সংশোধিত সংস্করণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মার্কিন সিনেটের একাধিক সূত্র জানিয়েছে যে নতুন সংশোধিত এই বিলটির পক্ষে ইতিমধ্যে ২৬ জন সিনেটর সমর্থন জানিয়েছেন। আশা করা হচ্ছে, আগামী দিনগুলোতে বিলটির পক্ষে সমর্থনকারী সিনেটরদের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। এটি পাস হলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি হবে।
তবে শুল্কনীতি নিয়ে মার্কিন অভ্যন্তরীণ আদালত ট্রাম্প প্রশাসনের সময় এক বড় ধাক্কা খেয়েছিল। সর্বোচ্চ আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছিল যে জাতীয় জরুরি অবস্থার জন্য ব্যবহৃত বিশেষ আইন প্রয়োগ করে বিভিন্ন দেশের ওপর ডোনাল্ড ট্রাম্প যে বাড়তি আমদানি শুল্ক চাপিয়েছিলেন, তা সম্পূর্ণ বেআইনি ছিল।
আদালতের ঐ রায়ের পর সাময়িকভাবে ১০ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপের বিকল্প ঘোষণা করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে সম্প্রতি তার সেই শুল্কনীতিও মার্কিন আদালতে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। আদালতের এই পরিস্থিতির মধ্যেই আইনপ্রণেতারা নতুনভাবে ভারত ও চীনের মতো বন্ধু এবং প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর ওপর অতিরিক্ত শুল্ক চাপানোর আইনি পথ খুঁজছেন।
ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকে পশ্চিমা বিশ্বের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ভারত এবং চীন রাশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও গ্যাস কিনে আসছে। নয়াদিল্লি বরাবরই দাবি করছে যে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানি তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য এবং সাধারণ মানুষের সাশ্রয়ের স্বার্থে এই আমদানি সচল রাখা দরকার। তবে, যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন বিলটি পাস হলে ভারতের মতো দেশের জন্য এক নজিরবিহীন বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন