প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ট্রান্সফরমার চুরি রোধে চরম ব্যর্থতা এবং চুরির ঘটনায় মামলা গ্রহণ না করার অভিযোগের প্রেক্ষিতে আদালতের নির্দেশে মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল হাসানকে অপসারণ করা হয়েছে। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কঠোর নজরদারি ও আদেশের পর তাঁকে চাঁদপুর থেকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশে বদলি করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) এই বিষয়টি নিশ্চিত করেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি (প্রশাসন) নাজিমুল হক। তিনি জানান, আদালতের নির্দেশনার পাশাপাশি এটি রুটিন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেও সম্পন্ন হয়েছে।
এর আগে, ৯ সেপ্টেম্বর চাঁদপুরের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. নসরুল্লাহ আদালতে ওসি কামরুল হাসানকে ট্রান্সফরমার চুরির মতো গুরুতর অপরাধ ধামাচাপা দেওয়ার জন্য ‘অযোগ্য ও অদক্ষ’ হিসেবে আখ্যা দেন। তিনি নির্দেশ দেন, বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে তা তাঁর সার্ভিস বুকে সংরক্ষণ করতে হবে এবং আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে আদালতকে অবহিত করতে হবে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি ও চাঁদপুরের পুলিশ সুপারকে (এসপি)। আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়, মামলা হিসেবে নথিভুক্ত না হওয়া পল্লী বিদ্যুতের ২৩টি চুরির আবেদনের পরবর্তী তিন কার্যদিবসের মধ্যে সরাসরি এজাহার (এফআইআর) হিসেবে গণ্য করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
আদালত সূত্রে জানা যায়, চাঁদপুরের পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর জেনারেল ম্যানেজার গত সাড়ে তিন মাসে এলাকায় ২৫টি বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় পৃথক পৃথক এজাহারের আবেদন করেন। কিন্তু ওসি মাত্র দুটি মামলা গ্রহণ করে বাকি ২৩টি আবেদন ঝুলিয়ে রাখেন। আদালত কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠালে ওসি দাবি করেন, আবেদনের মধ্যে বাদীর পূর্ণাঙ্গ নাম-ঠিকানা ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) না থাকায় মামলা করা সম্ভব হয়নি। তবে নথি পর্যালোচনা করে আদালত দেখতে পান, ওসির দেওয়া জবাব ভিত্তিহীন। পল্লী বিদ্যুতের দেওয়া প্রতিটি আবেদনেই চুরির সঠিক স্থান, তারিখ এবং খোয়া যাওয়া ট্রান্সফরমারগুলোর সুনির্দিষ্ট পিন বা সিরিয়াল নম্বর স্পষ্ট ছিল।
আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, গত ১ মে থেকে ১৮ আগস্টের মধ্যে সাড়ে তিন মাসে ২৫টি চুরির আবেদন করা হলেও আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে প্রতিবেদন চাওয়ার আগে কোনো পদক্ষেপই নেননি ওসি কামরুল। এমনকি পরবর্তীতে কারণ দর্শানো ছাড়া অবশিষ্ট ২৩টি জিডি বা এজাহার আমলে নেওয়ার ন্যূনতম সদিচ্ছা দেখাননি তিনি।
আদালতের মতে, বিদ্যুতের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ সরকারি সম্পত্তি চুরির তথ্য পাওয়ার পরও এফআইআর না করা দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলার শামিল। ওসির এমন নির্লিপ্ততা ও নিষ্ক্রিয়তা মূলত অপরাধীদের উৎসাহিত করেছে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত করে জনরোষ সৃষ্টির সুযোগ তৈরি করেছে।
আইনি বাধ্যবাধকতা উল্লেখ করে রায়ে বলা হয়, পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে ওসি কামরুল হাসান ‘পুলিশ রেগুলেশন অব বেঙ্গল’-এর ২৪৩ ও ২৪৪ বিধি এবং ফৌজদারি কার্যবিধির (১৮৯৮) ১৫৪ নম্বর ধারা স্পষ্ট লঙ্ঘন করেছেন। তাঁর এ ধরনের বেআইনি নিষ্ক্রিয়তা দণ্ডবিধির ১৬৬ ও ২১৭ ধারা এবং দ্য পুলিশ অ্যাক্টের (১৮৬১) ২৯ ধারায় দণ্ডনীয় অপরাধ।
আদালতের সুনির্দিষ্ট বার্তার পরপরই পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে তোলপাড় শুরু হয় এবং দ্রুততম সময়ে তাঁকে ওই পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে চট্টগ্রাম রেঞ্জে বদলি করা হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন