প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
মোহনগঞ্জ উপজেলার খালুয়া দাখিল মাদ্রাসায় দীর্ঘ সময় ধরে ১১টি শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। মাত্র ১০ জন শিক্ষক দিয়ে ৪১৩ জন শিক্ষার্থীর পাঠদান চালাতে গিয়ে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে চরম সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
শিক্ষক সংকটের পাশাপাশি, পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ, ওয়াশব্লক এবং যাতায়াতের উপযোগী সড়ক না থাকার কারণে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
মাদ্রাসা সূত্রে জানা যায়, ১৯৬৫ সালে প্রতিষ্ঠিত খালুয়া দাখিল মাদ্রাসাটি ১৯৮৪ সালে এমপিওভুক্ত হয়। বর্তমানে এখানে ৪১৩ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে এবং শিক্ষকের সংখ্যা ১০ জন। অফিস সহকারীসহ অন্যান্য পদে পাঁচজন স্টাফ কর্মরত আছেন। তবে, প্রতিষ্ঠানে মোট ১১টি শিক্ষকের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে।
মাদ্রাসার শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, প্রয়োজনের তুলনায় শিক্ষকের সংখ্যা কম থাকায় বিভিন্ন শ্রেণির পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে শিক্ষকদের অতিরিক্ত চাপ নিতে হচ্ছে। দীর্ঘ সময় ধরে শূন্য পদে শিক্ষক না থাকায় নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে, যা শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
শুধু শিক্ষক সংকট নয়, অবকাঠামোগত সমস্যাও রয়েছে মাদ্রাসাটিতে। পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ না থাকায় কয়েকটি টিনশেড কক্ষে পাঠদান করতে হচ্ছে। পাশাপাশি, একটি পুরোনো ও জরাজীর্ণ একতলা ভবনও রয়েছে। ৪১৩ জন শিক্ষার্থীর জন্য পর্যাপ্ত পানি ও স্যানিটেশন সুবিধাও নেই। শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় ওয়াশব্লক না থাকায় তাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
মাদ্রাসা সংশ্লিষ্টরা বলেন, শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত শূন্য পদগুলোতে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ নির্মাণে নতুন ভবন অনুমোদনের দাবি জানান তাঁরা। ওয়াশব্লকসহ প্রয়োজনীয় স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করারও দাবি তাঁদের।
এদিকে, মাদ্রাসাটিতে যাতায়াতের ক্ষেত্রেও রয়েছে ভোগান্তি। পাকা সড়ক থেকে মাদ্রাসা পর্যন্ত যাওয়ার রাস্তাটি এখনো কাঁচা। বর্ষাকালে রাস্তাটিতে কাদা জমে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে, ফলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
খালুয়া দাখিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার মোহাম্মদ আ. হেলিম ১১ জন শিক্ষকের পদ শূন্য থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, শিক্ষক সংকটের কারণে পাঠদান পরিচালনায় সমস্যা হচ্ছে। দ্রুত শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগ এবং মাদ্রাসার অবকাঠামোগত উন্নয়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন