প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
নোয়াখালীর সুবর্ণচরে একটি ধানক্ষেতের পাশে রাস্তা থেকে মো. নাঈম (১৪) নামে এক মাদরাসাছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশ প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে মনে করছে। তবে তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে তারা।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার চরজুবলী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্য বাগ্যা গ্রামের এবায়েদ উল্যার বাড়ির কাছে ধানক্ষেতের পাশে রাস্তা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত নাঈম লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার ইব্রাহীম খলিলের ছেলে। সে দীর্ঘদিন ধরে সুবর্ণচরে নানার বাড়িতে বসবাস করে চরজব্বর ইউনিয়নের দারুল উলুম মাদানী নগর মাদরাসার নাজেরা বিভাগে পড়াশোনা করছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নাঈমের মা-বাবার বিচ্ছেদ প্রায় তিন বছর আগে ঘটে। এরপর থেকে সে নানার বাড়িতে থাকত এবং মাদরাসায় পড়াশোনা করত। স্থানীয়দের মতে, সে বুলু নেতা সমাজের এবায়েদ উল্যার মেয়ের সন্তান।
নিহতের নানা এবায়েদ উল্যাহ জানান, শনিবার নাঈম মাদরাসা থেকে চলে আসে। পরে তার বাবা ফোন করে তাদের ছেলের অবস্থান জানায়। এরপর তার নানি আমেনা খাতুন ওই স্থান থেকে নাতিকে বাড়িতে নিয়ে আসে। সোমবার রাতে নাঈম রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। সকালে ফজরের নামাজের সময় নামাজ পড়তে উঠলে ঘরের দরজা খোলা দেখে সে শোবার ঘরে নেই।
পরে সকাল ৭টার দিকে বাড়ি থেকে প্রায় ১০০ গজ দূরে সার আনতে যাওয়ার সময় ধানক্ষেতের পাশে রাস্তার ওপর নাঈমের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়।
এবায়েদ উল্যাহ অভিযোগ করেন, "২০-২৫ দিন আগে আমার মেয়ের নতুন করে বিয়ে হয়। এরপর নাঈমের বাবা ইব্রাহীম খলিল ও তার মা সুমি আক্তার নানাভাবে হুমকি-ধমকি দেয়। তারা বলে কীভাবে ছেলের আয়-রোজগার খায় দেখে নেবে।" নিহতের মা তার বাবাকে সন্দেহ করছেন। সকালে ছেলের মৃত্যুর খবর দেওয়ার জন্য তাকে অনেকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরে নিজে ফোন করলে তাকে ছেলের মৃত্যুর খবর জানানো হয়। এরপর দুপুর ১টা পর্যন্ত ছেলের মরদেহ দেখতে আসেননি বাবা।
অভিযোগের বিষয়ে নিহতের বাবা ইব্রাহীম খলিলের মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) আহমেদ পেয়ার বলেন, "খবর পেয়ে আমি নিজে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। নিহতের থুতনির নিচে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তবে এটি কীভাবে হয়েছে এবং মৃত্যুর সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক আছে কি না, তা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।"
তিনি আরও জানান, নিহতের বাবার সঙ্গে কথা হয়েছে। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম অথবা ফেনীতে রয়েছেন এবং ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন