প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
চলতি বছরে খুলনাঞ্চলের ৪টি জেলায় পাট চাষে বড় সাফল্য এসেছে। গত বছর চাষের জন্য নির্ধারিত জমির চেয়ে এবার শতভাগেরও বেশি জমিতে আবাদ হয়েছে। কৃষি বিভাগের মতে, ৯০ হাজার ৫৩৫ মেট্রিক টন সম্ভাব্য উৎপাদনে ৯০০ কোটি ৩৪ লাখ টাকার বাণিজ্য হবে। এই অঞ্চলে ইতোমধ্যেই পাট কাটা শুরু হয়েছে। কৃষকেরা এবার বড় আয়ের আশায় মুখিয়ে আছেন। পাট চাষিরা মনে করছেন, উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হলে তাদের মুখে হাসি ফুটবে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের খুলনাঞ্চল সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর ৪ জেলায় পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৮ হাজার ২৮৭ হেক্টর। সেখানে ৩৮ হাজার ৩৬১ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে খুলনা জেলায় ১ হাজার ২৫৭ হেক্টর, বাগেরহাট জেলায় ১ হাজার ৯২০ হেক্টর, সাতক্ষীরা জেলায় ১১ হাজার ৬১০ হেক্টর এবং নড়াইল জেলায় ২৩ হাজার ৫শ’ হেক্টর জমিতে আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে খুলনা জেলায় ১ হাজার ২৩০ হেক্টর (হার ৯৭.৯%), বাগেরহাট জেলায় ১ হাজার ৯৩৯ হেক্টর (হার ১০১.০%), সাতক্ষীরা জেলায় ১১ হাজার ৬৭৫ হেক্টর (হার ১০০.৬%) ও নড়াইল জেলায় ২৩ হাজার ৫১৭ হেক্টর (হার ১০০.১%) পাট চাষ হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার বেশি।
একইভাবে পাট উৎপাদনের সম্ভাব্য লক্ষ্যমাত্রা খুলনায় ২ হাজার ৮০৭ মেট্রিক টন, বাগেরহাটে ৪ হাজার ৪০১ মেট্রিক টন, সাতক্ষীরায় ২৫ হাজার ৬৫২ মেট্রিক টন এবং নড়াইলে ৫৭ হাজার ৬৭৫ মেট্রিক টন ধরা হয়েছে। কৃষি দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, ৪ জেলার সম্মিলিত সম্ভাব্য উৎপাদন ৯০ হাজার ৫৩৫ মেট্রিক টন পাট। এর বিপরীতে সম্ভাব্য আয় নির্ধারণ করা হয়েছে (গত বছরের স্থানীয় মোকামের দর অনুযায়ী, প্রতি মণ ৪ হাজার টাকা) খুলনায় ২৮ কোটি ৬ লাখ ৬২ হাজার ২শ’ টাকা, বাগেরহাটে ৪৪ কোটি ১ লাখ ১২ হাজার ৪শ’ টাকা, সাতক্ষীরায় ২৫৬ কোটি ৫১ লাখ ৬২ হাজার ৬শ’ টাকা এবং নড়াইলে ৫৭৬ কোটি ৭৫ লাখ ৪৩ হাজার ৬শ’ টাকা। এভাবে ৪ জেলার সম্ভাব্য আয় প্রথমে ৯০০ কোটি ৩৪ লাখ ৮০ হাজার ৮শ’ টাকায় পৌঁছাচ্ছে।
খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার গাজিরহাট ইউনিয়নের কৃষক শাহাবুদ্দিন জানান, দ্রুত সময়ের মধ্যে পাট কাটা শুরু করতে চান। এই বছর বেশি ভারী বৃষ্টি হওয়ায় সেচের পানির প্রয়োজন হয়নি বলেও জানিয়েছেন তিনি। উপজেলায় কৃষি অফিস থেকেও সার্বিক বিষয়ে পরামর্শ ও সহায়তা পেয়েছেন।
উপজেলার গাজীরহাট ইউনিয়নের বামনডাঙ্গা ব্লকের দায়িত্বরত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা এম. এম আব্দুল্লাহ বাসস’কে জানান, চলতি অর্থবছরে পাটের আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৫ হেক্টর, ইতোমধ্যে এটি শতভাগ অর্জিত হয়েছে। এখন পাট কাটার কাজও শুরু হয়েছে।
দিঘলিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার মো. শফিকুল ইসলাম বাসস’কে বলেছেন, অত্র উপজেলায় চলতি অর্থবছরে পাটের আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ৪০ হেক্টর জমি নির্ধারণ করা ছিল, যা শতভাগ অর্জিত হয়েছে এবং কৃষকরা এখন পাট কাটার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পাটের আঁশ সংরক্ষণের সঠিক প্রক্রিয়ায় কৃষকদের সার্বিক বিষয়ে পরামর্শ ও সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।
নড়াইলের কালিয়া উপজেলার জোকারচর গ্রামের কৃষক তৈয়েবুর কাজী জানিয়েছেন, তিনি ৪ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন। প্রতি বছরই তিনি পাটের চাষাবাদ করেন এবং ইতোমধ্যে পাট কর্তন শুরু করেছেন। এ বছর বেশি বৃষ্টির কারণে ক্ষেতে পানি জমে গাছ ভেঙে পড়েছে। এজন্য পাট কর্তনে খরচ বেশি লাগছে।
কালিয়া উপজেলা কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আলী রেজা মিঠু জানান, বড়নাল ইলিয়াছাবাদ ইউনিয়নের দায়িত্বরত ব্লকে চলতি অর্থবছরে পাটের আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ২৫ হেক্টর নির্ধারণ করা হলেও অর্জিত হয়েছে ২৭ হেক্টর। তিনি জানান, এই বছর পাটের আবাদ ভালো হয়েছে।
কালিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার জাহাঙ্গীর আলম বাসস’কে জানান, কালিয়া উপজেলায় চলতি অর্থবছরে পাটের আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ৪,৪০৮ হেক্টর নির্ধারণ করা হয়েছে, যা শতভাগ অর্জন সম্পন্ন হয়েছে। ইতোমধ্যে পাট কর্তন শুরু হয়েছে। এ বছর উপজেলার ৬৫০ জন কৃষককে পাটের প্রণোদনা হিসাবে (বীজ, ডিএবি ও এমওপি সার) প্রদান করা হয়েছে। কৃষকদের পাট জাঁক দেওয়ার সময় কাদা-মাটি লাগিয়ে পাটের উজ্জ্বলতা না হারানোর বিষয়ে বিশেষ পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নড়াইল জেলার উপ-পরিচালক মো. আরিফুর রহমান জানান, চলতি অর্থবছরে নড়াইল জেলার পাটের আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ২৩,৫০০ হেক্টর ছিল, এর বিপরীতে ২৩,৫১৭ হেক্টর অর্জিত হয়েছে। এ বছর পাটের আবাদ বেশ ভালো হয়েছে। পাট চাষে উৎসাহী করার জন্য ৩২০০ জন কৃষককে প্রণোদনা হিসাবে বীজ ও সার প্রদান করা হয়েছে। কৃষকদের প্রদানকৃত বীজ (তোষা, সবুজ সোনা) চমৎকার ফলন হয়েছে। এ জাতটি আগামী বছর পাট উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলা কৃষি অফিসার মো. আবু সাঈদ শুভ্র জানান, উপজেলায় চলতি অর্থবছরে পাটের আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৫,০২০ হেক্টর, যা শতভাগ অর্জিত হয়েছে। ইতোমধ্যে কর্তন শুরু হয়েছে। এ বছর অধিক বৃষ্টিপাতের কারণে পাট চাষে বিকল্প পানির প্রয়োজন না হওয়ায় কৃষকের খরচ কমেছে। উপজেলায় ৫শ’ জন কৃষককে পাটের প্রণোদনা হিসাবে (বীজ, ডিএবি ও এমওপি সার) প্রদান করা হয়েছে এবং কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে যেন তারা পাট জাক দেওয়ার সময় কাদা-মাটি লাগিয়ে পাটের উজ্জ্বলতা হারাতে না পারে।
এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের খুলনা অঞ্চল খুলনার অতিরিক্ত পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম বাসস’কে বলেছেন, পাট চাষে আগ্রহী করার জন্য কৃষকদের প্রণোদনা হিসাবে উন্নত জাতের পাটের বীজ ও সার প্রদান করা হচ্ছে। এ বছর পর্যাপ্ত বৃষ্টি হওয়ায় বিকল্প সেচের প্রয়োজন হয়নি। ফলে কৃষকের খরচ কমেছে। চলতি অর্থবছরে পাট আবাদ ও উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা শতভাগ অর্জিত হয়েছে।
তিনি আরো যোগ করেন, ইতোমধ্যেই কৃষকরা পাট কাটতে শুরু করেছেন। এই অঞ্চলের পাটের সম্ভাব্য উৎপাদন ও আয় দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পাশাপাশি কৃষকদেরকেও আর্থিকভাবে স্বাবলম্বি করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন