প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
মহেশখালীতে সামিট এলএনজি টার্মিনাল রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য বন্ধ থাকায় দেশের গ্যাস সরবরাহ ৪৯১ মিলিয়ন ঘনফুট কমে গেছে। বুধবার সকাল ৮টা থেকে এই রক্ষণাবেক্ষণ কাজ শুরু হয়েছে এবং এটি ৭ নভেম্বর বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলবে বলে পেট্রোবাংলা পূর্বে জানিয়েছিল।
দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট, কিন্তু দেশীয় ক্ষেত্র থেকে উত্তোলিত গ্যাস ও আমদানি করা এলএনজি মিলিয়ে জাতীয় গ্রিডে ২ হাজার ৫৭০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ সম্ভব হচ্ছিল। পেট্রোবাংলা জানায়, সামিট এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ থাকলে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক গ্যাস সরবরাহ ২ হাজার ৫৭০ মিলিয়ন ঘনফুট থেকে কমে ২ হাজার ২৫০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে আসতে পারে। আমদানি করা এলএনজি থেকে সরবরাহ ৯২০ মিলিয়ন ঘনফুট থেকে কমে ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট হতে পারে বলে সংস্থাটি জানিয়েছিল।
তবে বুধবার সকাল ৮টায় রক্ষণাবেক্ষণ কাজ শুরু হওয়ার পর সকাল ১০টায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৭৯ মিলিয়ন ঘনফুট। এর মধ্যে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে ১ হাজার ৫৬৫ মিলিয়ন ঘনফুট এবং আমদানি করা এলএনজি থেকে ৫১৪ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ হচ্ছিল।
অর্থাৎ, ওই সময় মোট সরবরাহ করা গ্যাসের পরিমাণ পেট্রোবাংলার পূর্বাভাসের তুলনায় ১৭১ মিলিয়ন ঘনফুট কম ছিল। চারদিন ধরে সারা দেশে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যকে মঙ্গলবার গুজব হিসেবে চিহ্নিত করেছে পেট্রোবাংলা।
সংস্থার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কিছু সংবাদমাধ্যমের ফটোকার্ড ব্যবহার করে একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গুজব ছড়াচ্ছে। এর মাধ্যমে জনগণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে।
পেট্রোবাংলা ওই বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করে, রক্ষণাবেক্ষণের সময় সারা দেশে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হবে না। তবে কিছু এলাকায় সাময়িকভাবে গ্যাসের চাপ কম থাকতে পারে। গুজবে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে সংস্থাটির পক্ষ থেকে।
দেশে আমদানি করা এলএনজি সরবরাহের জন্য মহেশখালীতে দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। একটি পরিচালনা করছে সামিট গ্রুপ এবং অন্যটি যুক্তরাষ্ট্রের এক্সিলারেট এনার্জি।
সামিটের টার্মিনালের দৈনিক গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট, আর এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালের সক্ষমতা ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট। দুটি টার্মিনালের সম্মিলিত সক্ষমতা দৈনিক ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর আগে মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে সমস্যা দেখা দেওয়ার কারণে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বিঘ্নিত হয়েছিল।
পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, এর আগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরেও সামিটের টার্মিনালে একই ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ কাজ করা হয়েছিল।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন