প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মনোনীত সংসদ সদস্য মাহবুবা হাকিমের হলফনামায় ভুল তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। এই বিষয়টি ইতিমধ্যে সামনে এসেছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে এই তথ্যটি প্রকাশিত হয়।
তথ্য অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র ও হলফনামা জমা দেওয়ার শেষ সময় ছিল ২১ এপ্রিল। মাহবুবা হাকিম ১৯ এপ্রিল তার হলফনামায় স্বাক্ষর করেন। পরদিন ২০ এপ্রিল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ওয়েবসাইটে দলের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে তার পরিচিতি প্রকাশ করা হয়। সেখানে উল্লেখ করা হয় যে, তার শিক্ষাগত যোগ্যতা বুটেক্স থেকে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন।
কিন্তু স্বাক্ষরিত হলফনামায় দেখা যাচ্ছে, সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতার ঘরে ‘এলএলএম, ব্যারিস্টার এট ল’ লেখা রয়েছে। যদিও দলটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত পরিচিতিতে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ডিগ্রি ছাড়া অন্য কোনো উচ্চতর ডিগ্রির উল্লেখ নেই।
এদিকে সংসদ সদস্য হওয়ার পর বিভিন্ন বক্তব্যে মাহবুবা হাকিম নিজেকে টেক্সটাইল প্রকৌশলী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তার ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলেও তিনি প্রকৌশলী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। গত ১৫ আগস্ট ইনস্টিটিউশন অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড টেকনোলজিস্টস (আইটিইটি), বাংলাদেশে নতুন সম্মানীয় পৃষ্ঠপোষক হিসেবে তাকে মনোনীত করা হয়। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর ২০ মে বুটেক্স প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
২০০৫ সালের ২৪ মার্চ কলেজ অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজিকে (বর্তমানে বুটেক্স) বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের দাবিতে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মাহবুবা হাকিম অংশগ্রহণ করেছিলেন।
এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, হলফনামায় প্রদত্ত তথ্যটি কোনো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যা নয়; বরং নথি প্রস্তুতের সময় অনাকাঙ্ক্ষিত যান্ত্রিক বা টাইপজনিত ভুলের কারণে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে।
দলটির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, মাহবুবা হাকিমের প্রকৃত শিক্ষাগত যোগ্যতা বুটেক্স থেকে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিগ্রি সম্পন্ন করা। কিন্তু হলফনামায় সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতার ঘরে ‘এলএল.এম, ব্যারিস্টার এট ল’ উল্লেখ হওয়ায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। হলফনামা তৈরির সময় পূর্বনির্ধারিত একটি ফরম্যাট ব্যবহার করা হয়েছিল। সেই ফরম্যাটে কাজ করার সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে পূর্বের তথ্য থেকে কপি-পেস্টের মাধ্যমে এই ভুলটি হয়েছে। ফলে প্রকৃত তথ্য থাকা সত্ত্বেও উপস্থাপনায় অসঙ্গতি দেখা দেয়।
এই তথ্য সামনে আসার পর নানা আলোচনা চলছে—এটি কি আসলেই দলের ইচ্ছাকৃত ভুল, নাকি কপি-পেস্ট করতে গিয়ে ভুল হয়েছে? আর এই তথ্য এত দিন পর সামনে আসার কারণই বা কী? আগে কেন এটি সামনে আসেনি, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে?
হলফনামায় ভুল তথ্য আসার কারণ জানতে চাইলে মাহবুবা হাকিম বলেন, নমিনেশন ফরম প্রস্তুতসহ মূল সনদ গ্রহণের দায়িত্ব দলের দুজন দায়িত্বশীল ব্যক্তির ওপর ছিল। হতে পারে টাইপজনিত, অর্থাৎ করণিক ভুলের কারণে এখানে ‘ব্যারিস্টার এট ল’ এসেছে। হলফনামায় ‘এলএল.এম, ব্যারিস্টার এট ল’-এর ওপর কলমের দাগ কাটা—আমি যেহেতু ব্যারিস্টার নই এবং বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সনদ জমা দেওয়া হয়েছে, তাই হয়তো নির্বাচন কমিশন থেকেই যাচাই-বাছাইয়ের সময় সেখানে দাগ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, সবার প্রথমে এই ভুলটি নিয়ে কথা বলেছেন নমিনেশন ফরম নিয়ে কাজ করা দলের একজন। তার সপ্তাহখানেক পরেই গত সপ্তাহে গণমাধ্যমকর্মী পরিচয় দিয়ে একজন আমার সঙ্গে এই ত্রুটি নিয়ে কথা বলেন। তাকে যথাসম্ভব আমার পক্ষ থেকে শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদের বিষয়টি পরিষ্কার করা হয়।
এত দিন পর এই তথ্যটি সামনে আসার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই তথ্য নিয়ে এখন পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন থেকে কিছু বলা হয়নি। নিউজটি এভাবেও করা যেত—ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবা হাকিম এমপির হলফনামায় ব্যারিস্টার এট ল কেন? হতে পারে আমাকে সামাজিকভাবে মর্যাদা ক্ষুণ্ন ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করতে। কিন্তু তারা বুঝলেন না যে, বুটেক্সের একজন ইঞ্জিনিয়ার হলফনামায় ব্যারিস্টার পরিচয় দিয়ে কী লাভ, যেখানে আমি, আমার দল, বিভিন্ন মিডিয়া শুরু থেকেই আমার পরিচয় টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে বলে আসছি। এই ঘটনার জন্য সরকারি দল থেকে আমার ওপর কোনো রকম চাপ আসছে না।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন