প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
মালয়েশিয়ায় বিদেশি শ্রমিকের ওপর নির্ভরতা কমানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে শিল্পমন্ত্রী দাতুক সেরি জোহরি আবদুল গনি মন্তব্য করেছেন যে, মূলত নোংরা, ঝুঁকিপূর্ণ ও কঠিন (৩ডি) কাজের ক্ষেত্রে বিদেশি কর্মী নিয়োগ সীমিত করা উচিত।
মন্ত্রী বলেছেন, দীর্ঘ সময় ধরে মালয়েশিয়ায় ব্যবসা পরিচালনা করা অনেক প্রতিষ্ঠান এখনও বিদেশি শ্রমিকের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল। এটি দেশের শ্রমবাজার ব্যবস্থাপনায় একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ কারণে বিদেশি কর্মীদের নিয়োগের ক্ষেত্রে ৩ডি খাতের কাজের ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
সোমবার (২ নভেম্বর) দেওয়ান রাকিয়াতে (মালয়েশিয়ার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ) দেওয়া বক্তব্যে তিনি জানান, বর্তমানে মালয়েশিয়ায় প্রায় ২৬ লাখ বিদেশি কর্মী রয়েছেন। ত্রয়োদশ মালয়েশিয়া পরিকল্পনা (১৩এমপি) অনুযায়ী বিদেশি কর্মীর সংখ্যা ধীরে ধীরে কমার কথা থাকলেও বাস্তবে তা ঘটেনি।
মন্ত্রী আরও বলেন, মালয়েশিয়ায় ১০ থেকে ২০ বছর ধরে কার্যক্রম পরিচালনা করছে এমন অনেক প্রতিষ্ঠান এখনও বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের চাহিদা জানিয়ে যাচ্ছে। ফলে বিদেশি শ্রমিকের ওপর নির্ভরতা কমানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে উঠছে।
তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবসা পরিচালনা করা অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান বিদেশি শ্রমিকের ওপর নির্ভরতা বজায় রেখেছে। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা। তাই বিদেশি কর্মী নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা মূলত নোংরা, ঝুঁকিপূর্ণ ও কঠিন কাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। বাকরি আসনের সংসদ সদস্য তান হং পিনের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সংসদ সদস্য তান জানান, দেশের অনেক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি করেছে। তবে উৎপাদন কার্যক্রম সচল রাখতে এখনও কিছু অদক্ষ শ্রমিকের প্রয়োজন হয়, যাদের অধিকাংশই বিদেশি নাগরিক।
তিনি অভিযোগ করেন, বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের জন্য আবেদন করা অনেক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে কম খরচে শ্রমিক পেতে ইন্দোনেশিয়া কিংবা ভিয়েতনামে কারখানা স্থানান্তরের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এই ধরনের পরামর্শ মালয়েশিয়ার শিল্প ও বিনিয়োগ খাতের জন্য নেতিবাচক বার্তা বহন করে। এতে কারখানা ও উদ্যোক্তারা দেশ ছেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
তান হং পিন জানতে চান, বিভিন্ন শিল্প খাতে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহার কতটা সম্প্রসারিত হয়েছে, তা মূল্যায়নে মন্ত্রণালয় কোনো উদ্যোগ নেবে কিনা। তিনি আরও জানতে চান, যেসব প্রতিষ্ঠান প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করেও প্রয়োজনীয় শ্রমিকের চাহিদা পূরণ করতে পারছে না, তাদের ক্ষেত্রে বিদেশি কর্মী নিয়োগ নীতিতে আরও নমনীয়তা আনা হবে কিনা।
এর আগে গত ৮ সেপ্টেম্বর জোহরি আবদুল গনি জানিয়েছিলেন, বিদেশি কর্মী নিয়োগের আবেদনকারী শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করতে হবে, কেন তাদের ৩ডি কাজের জন্য বিদেশি শ্রমিক প্রয়োজন।
এছাড়া ৩ডি খাতের বাইরে অন্য কোনো পদে বিদেশি কর্মী নিয়োগের আবেদন করা হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে প্রস্তাবিত বেতন এবং ওই পদে নিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম শিক্ষাগত বা পেশাগত যোগ্যতার বিবরণ দিতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিদেশি শ্রমিকের ওপর নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বাস্তব শ্রমিক চাহিদা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং উৎপাদন ব্যয় বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। অন্যথায় শ্রমিক সংকটের কারণে মালয়েশিয়ার উৎপাদন ও বিনিয়োগ খাত প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন