প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে একটি লরির ধাক্কায় একটি লোকাল বাস উল্টে চাপা পড়ে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের (আইআইইউসি) শিক্ষার্থী মাইশা মুশফিরাত নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় একই বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থী ও একজন পথচারী আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে উপজেলার কুমিরায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসংলগ্ন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনার প্রতিবাদে এবং ছয় দফা দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক ও রেলপথ অবরোধ করেন। ফলে সড়ক ও রেলপথে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (দুপুর ২টা ৪০ মিনিট) অবরোধ চলছিল।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রামমুখী ৮ নম্বর রুটের একটি লোকাল বাস মহাসড়কে দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় কেডিএস লজিস্টিকসের একটি লরি বাসটিকে পাশ থেকে ধাক্কা দেয়। এর ফলে বাসটি উল্টে মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের ওপর পড়ে। বাসের নিচে চাপা পড়ে মাইশা মুশফিরাত, রাজিয়া সুলতানা ও এক পথচারী আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন ও সহপাঠীরা তাদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মাইশাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত মাইশা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বাড়ি মীরসরাই উপজেলার খৈয়াছড়া ইউনিয়নের বটকাটিয়া গ্রামে। তিনি সাখাওয়াত হোসেন ও সালমা আক্তার দম্পতির মেয়ে। আহত রাজিয়া সুলতানাও একই বিভাগের শিক্ষার্থী। তার পায়ে আঘাত লেগেছে। প্রথমে তাকে চমেক হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে মেট্রোপলিটন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আইআইইউসির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য আনোয়ার সিদ্দিক চৌধুরী।
আনোয়ার সিদ্দিক চৌধুরী জানান, শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক ও রেলপথ অবরোধ করেছেন ছয় দফা দাবিতে। তাদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বাদী হয়ে মামলা দায়ের, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লরিচালককে গ্রেপ্তার এবং চালক ও মালিকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ। এছাড়া সড়ক দখল করে কেডিএস লজিস্টিকসের অবৈধ দখল বন্ধ, ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকের উভয় পাশে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ, হতাহতদের পরিবারকে যথাযথ আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং প্রধান ফটক এলাকায় নিরাপদে সড়ক পারাপার নিশ্চিত করতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
বারআউলিয়া হাইওয়ে থানার সার্জেন্ট শামীম আলম বলেন, দুর্ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা ছয় দফা দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করেছেন। তাঁদের শান্ত করে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।
রেলওয়ে চট্টগ্রামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুজন জানান, সকাল ৯টা থেকে রেলপথ অবরোধ করে রেখেছে শিক্ষার্থীরা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন