প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
বিগত কয়েক বছরে পিরোজপুর পৌরসভার সড়কগুলোতে দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন হয়নি, যা মূলত দুর্নীতি, অনিয়ম এবং দলীয় কোন্দলের কারণে। যদিও পিরোজপুর পৌরসভা একটি প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা, এখানে অধিকাংশ সড়কের অবস্থা দেখে মনে হয় যেন গ্রামের কোনো কাদা-মাটির রাস্তা। বড় বড় খানাখন্দে পানি জমে থাকা সড়কগুলো এখন চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পৌরসভায় মোট ৩৫০ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে বর্তমানে ২৬০ কিলোমিটার সড়ক ভাঙাচোরা অবস্থায় রয়েছে। এর ফলে বর্ষা মৌসুমে লক্ষাধিক পৌরবাসী চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন, এবং প্রতিনিয়ত সড়কে ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, পিরোজপুর পৌরসভা ১৯৯০ সালে প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় উন্নীত হয়। তবে সময়ের চেয়ে এখানে নাগরিক সুবিধা একেবারেই বিপর্যস্ত। পৌরসভার ৩৫০ কিলোমিটার রাস্তার ৯০ শতাংশই ভাঙা ও বেহাল। বর্ষা মৌসুমে এই দুর্ভোগ আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে, ফলে নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে উঠেছে সীমাহীন দুর্ভোগ এবং ভোগান্তি।
বর্তমানে পিরোজপুর পৌরসভায় এই ৩৫০ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে কাঁচা সড়ক রয়েছে ৩৫-৪০ কিলোমিটার এবং চলাচলের উপযোগী রয়েছে মাত্র ৯০ কিলোমিটার। বাকি ২৬০ কিলোমিটার সড়কই বর্তমানে চলাচলের অযোগ্য। পৌরসভার রায়েরকাঠি এলাকার ২নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা ফজলুল হক সিকদার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘পৌরসভার ভিতরে যতগুলি রাস্তা রয়েছে, অধিকাংশ রাস্তা ভাঙা এবং খানাখন্দে ভরা। আমরা পৌরবাসী বছরের পর বছর দুর্ভোগ নিয়ে চলাফেরা করছি। ভাঙা রাস্তায় রিকশা অথবা অটোতে চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার কবলে পড়তে হয়। কবে নাগাদ রাস্তাগুলি ভালো হবে, তা হয়তো আমরা দেখে যেতে পারব না।’
একই ধরনের ভুক্তভোগী পৌরসভার পালপাড়া এলাকার ৪ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা, ডিম ব্যবসায়ী সিরাজুল তার কষ্টের কথা জানিয়ে বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরে দোকানে দোকানে পাইকারিভাবে ডিম সরবরাহ করে আসছি। কিন্তু ভ্যানে করে ডিম নিয়ে যাওয়ার সময় রাস্তা ভাঙার কারণে ঝাঁকিতে ঝাঁকিতে প্রতিদিন ৮-১০টা ডিম ভেঙে যায়, যার কারণে আমি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।’ পৌরসভার অধিকাংশ রাস্তা খারাপ থাকায় প্রতিনিয়ত ভ্যানের বিভিন্ন যন্ত্রাংশের ক্ষতি হয়, ফলে ব্যবসায় লাভের মুখ দেখছি না। সাধারণ পৌরবাসী কর্তৃপক্ষের চরম উদাসীনতাকেই এই বেহাল দশার জন্য দায়ী করেছেন। তবে এ বিষয়ে পিরোজপুর পৌর প্রশাসক মাহামুদুর রহমান মামুন জানিয়েছেন, পর্যাপ্ত ফান্ড বা বরাদ্দ না থাকায় সড়ক সংস্কার করা সম্ভব হচ্ছে না। নাগরিক সুবিধা কিছুটা ব্যাহত হওয়ার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘বরাদ্দ না থাকায় সড়ক সংস্কার করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে নাগরিক সুবিধা। নতুন বরাদ্দ পেলে দ্রুত সড়ক মেরামত করে পৌরবাসীর দুর্ভোগ লাঘব করা হবে।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন