প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
চীন ও হংকংয়ের চিকিৎসকরা মায়ের পেট থেকে পৃথিবীর আলো দেখার আগেই অস্ত্রোপচার করে একটি অনাগত শিশুর জীবন রক্ষা করেছেন। গর্ভে থাকা শিশুটির বুকে দ্রুত বেড়ে ওঠা টিউমারের চিকিৎসায় সফলভাবে মাইক্রোওয়েভ অ্যাবলেশন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে।
শেনজেনের বাওয়ান ওমেনস অ্যান্ড চিলড্রেনস হসপিটাল এবং চাইনিজ ইউনিভার্সিটি অব হংকংয়ের চিকিৎসকদের একটি বিশেষজ্ঞ দল এ জটিল অস্ত্রোপচারটি সম্পন্ন করে। এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে চলতি বছরের ২০ আগস্ট ‘আলট্রাসাউন্ড ইন অবস্টেট্রিকস অ্যান্ড গাইনিকোলজি’ জার্নালে।
চিকিৎসকদের অস্ত্রোপচারের সময় ৪০ বছর বয়সী এক নারী উপস্থিত ছিলেন, যিনি ২২ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। পরীক্ষায় তার গর্ভে থাকা শিশুর মাইক্রোসিস্টিক কনজেনিটাল পালমোনারি এয়ারওয়ে ম্যালফরমেশন (সিপিএএম) শনাক্ত করা হয়।
এটি একটি বিরল জন্মগত সমস্যা, যেখানে ভ্রূণের ফুসফুসের স্বাভাবিক টিস্যুর পরিবর্তে অসংখ্য ছোট সিস্ট বা তরলপূর্ণ থলি তৈরি হয়। দ্রুত বৃদ্ধি পেলে, এ ধরনের টিউমার ভ্রূণের হৃদপিণ্ড ও ফুসফুসে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে হার্ট ফেইলিওর এবং শরীরে অতিরিক্ত তরল জমার মতো জটিলতা তৈরি করতে পারে।
স্ক্যানের মাধ্যমে দেখা যায়, শিশুটির বুকের ডান পাশে প্রায় পুরো অংশজুড়ে ৫ সেন্টিমিটার আকারের একটি টিউমার রয়েছে। এই টিউমারের চাপে শিশুটির হৃদপিণ্ড ও ফুসফুস মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। একই সঙ্গে শিশুটির পেটে বিপজ্জনক মাত্রায় তরল জমে অ্যাসাইটিস দেখা দেয়।
সাধারণত এ ধরনের পরিস্থিতিতে বড় তরলপূর্ণ সিস্ট খালি করা কিংবা টিউমারের প্রধান রক্ত সরবরাহ বন্ধ করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু এই শিশুর টিউমারটি ছিল অসংখ্য ক্ষুদ্র সিস্টে গঠিত এবং এর কেন্দ্রে কোনো বড় রক্তনালী ছিল না। ফলে প্রচলিত পদ্ধতি কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা ছিল কম।
এ অবস্থায় চিকিৎসকরা অভিনব একটি পদ্ধতি বেছে নেন। হাই-ডেফিনিশন ও রিয়েল-টাইম আল্ট্রাসাউন্ডের মাধ্যমে টিউমারে পৌঁছানোর নিরাপদ পথ নির্ধারণ করা হয়। এরপর মায়ের পেট, জরায়ুর দেয়াল এবং ভ্রূণের বুকের দেয়াল ভেদ করে একটি সূক্ষ্ম অ্যাবলেশন নিডল সরাসরি টিউমারের কেন্দ্রে প্রবেশ করানো হয়।
এরপর মাইক্রোওয়েভ প্রযুক্তির মাধ্যমে টিউমারের ভেতরের পানির অণুগুলোকে দ্রুত উত্তপ্ত করে টিস্যু ধ্বংস করা হয়। পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে সময় লাগে মাত্র দুই মিনিট।
অস্ত্রোপচারের পুরো সময় আল্ট্রাসাউন্ডের মাধ্যমে টিউমারের ছড়িয়ে পড়া তাপের মাত্রা ও পরিসর পর্যবেক্ষণ করেন চিকিৎসকরা, যাতে অনাগত শিশুর আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
অস্ত্রোপচারের মাত্র তিন দিন পর সুফল দেখা যায়। টিউমারের আকার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে এবং নতুন করে তরল জমাও বন্ধ হয়ে যায়।
এরপর ৩৭ সপ্তাহ পর্যন্ত সফলভাবে গর্ভধারণের পর ওই নারী সন্তানের জন্ম দেন। জন্মের সময় শিশুটির ওজন ছিল ২ দশমিক ৯ কেজি। নবজাতকের শারীরিক অবস্থা মূল্যায়নের অ্যাপগার স্কেলে শিশুটি পায় পূর্ণ ১০ নম্বর।
চিকিৎসকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জন্মের চার মাস পরেও শিশুটির শরীরে টিউমার পুনরায় বেড়ে ওঠার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি।
চিকিৎসকদের এই সাফল্য গর্ভে থাকা শিশুর জটিল জন্মগত রোগের চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন