প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন জানিয়েছেন, সরকার দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আনছে, যা বিশ্বমানের দক্ষ মানবসম্পদ ও প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির পাঠ্যপুস্তকে আধুনিক বিষয়গুলো যেমন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), রোবোটিক্স, মেশিন লার্নিং এবং সাইবার সিকিউরিটি যুক্ত করা হচ্ছে। এ ছাড়া, কারিগরি শিক্ষাকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে মূলধারার শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত করে সব শিক্ষার্থীর জন্য বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা রয়েছে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর নভোথিয়েটারে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬’-এর প্লেনারি সেশনে তিনি এ তথ্য জানান।
মাহ্দী আমিন উল্লেখ করেন, সরকার দেশের স্টেম (বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত) শিক্ষাব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে, যা বৈশ্বিক কাঠামোর সঙ্গে তাল মিলাতে সহায়তা করবে। প্রধানমন্ত্রী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায় ছাড়াও উচ্চশিক্ষা বা টারশিয়ারি লেভেলে স্টেম শিক্ষাকে সমানভাবে প্রাধান্য দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন।
তিনি কারিকুলাম সংস্কারের বিশদ রূপরেখা তুলে ধরে জানান, তাত্ত্বিক শিক্ষার সীমাবদ্ধতা দূর করতে এবং পুঁথিগত বিদ্যা ও বাস্তব প্রয়োগের মধ্যে দূরত্ব কমাতে প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত প্রয়োজনীয় সংস্কার চলছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র হিসেবে মাহ্দী আমিন জানান, আগামী শিক্ষাবর্ষে চতুর্থ শ্রেণিতে ‘স্পোর্টস’ ও ‘কালচার’ নামে দুটি নতুন বিষয় যুক্ত হবে। ষষ্ঠ শ্রেণিতে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে, যা শিক্ষার্থীদের বাস্তব জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় ইন্টারপার্সোনাল ও ট্রান্সফারেবল দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করবে।
উপদেষ্টা আরও বলেন, বর্তমানে কারিগরি শিক্ষা সব শিক্ষার্থীর জন্য বাধ্যতামূলক নয়, তবে আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে ষষ্ঠ শ্রেণিতে এটি অন্তর্ভুক্ত করা হবে এবং পর্যায়ক্রমে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত দেশের সব প্রান্তের ও স্তরের স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হবে। সরকারের উদ্দেশ্য হলো উন্নত দেশের মতো কারিগরি শিক্ষাকে মূলধারার শিক্ষার সঙ্গে একীভূত করা।
মাহ্দী আমিন উচ্চশিক্ষাকে বাস্তব জীবনের চাহিদার সঙ্গে যুক্ত করার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং জানান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় আড়াই হাজার অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠানে টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল শিক্ষাকে কারিকুলামের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার কাজ চলছে।
তিনি বলেন, মানসম্মত গবেষণা থেকে উদ্ভাবন, উদ্ভাবন থেকে নতুন স্টার্ট-আপ এবং সেখান থেকে বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে একটি টেকসই ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা হবে। শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান ত্বরান্বিত করতে দেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি করে 'সেন্টার অব এক্সিলেন্স' বা উৎকর্ষ কেন্দ্র গড়ে তোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বাংলাদেশি তরুণদের আন্তর্জাতিক মানের মেধার প্রশংসা করে বলেন, বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশি তরুণরা সুনামের সঙ্গে কাজ করছেন। তরুণদের উপযুক্ত রসদ ও প্ল্যাটফর্ম দিতে পারলে তারা বিশ্ব জয় করতে সক্ষম। সরকার ‘ব্রেন ড্রেন’ রুখে দিয়ে তা ‘ব্রেন সার্কুলেশনে’ রূপান্তর করতে চায়।
এক্ষেত্রে, বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো দেশীয় অ্যালামনাইদের এনডাউমেন্ট ফান্ড, সিএসআর ফান্ড ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে শক্তিশালী ইন্ডাস্ট্রি-অ্যাকাডেমিয়া ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার পাশাপাশি বিদেশে কর্মরত দেশীয় বিশেষজ্ঞদের বিশেষ ফেলোশিপের মাধ্যমে দেশের কারিকুলাম ও শিল্প বিকাশে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
‘স্টেম ফর অ্যা ফিচার-রেডি বাংলাদেশ : বিল্ডিং দ্য ব্যাকবোন অব দ্য ইনোভেটিভ ইকোনোমি’ শীর্ষক এই সেমিনারের সঞ্চালনা করেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন।
আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ, ইউনেস্কো ঢাকা অফিসের শিক্ষা প্রধান এস কিয়াং কো, দেশের শীর্ষ টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তানভীর মোহাম্মদ, ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি-আইইউবি’র উপাচার্য অধ্যাপক ড. ম. তামিম প্রমুখ। সূত্র: বাসস
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন