প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউস একটি নতুন সরাসরি সম্প্রচার চ্যানেল চালু করেছে, যার নাম ‘ট্রাম্প টিভি’৷
চ্যানেলটির সম্প্রচার সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় শুরু হয়। এএফপির প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ট্রাম্প টিভিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য, বিভিন্ন ভিডিও এবং উল্লেখযোগ্য মুহূর্ত ২৪ ঘণ্টা সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। এই বিষয়গুলো নিয়মিতভাবে হালনাগাদ করা হবে।
চ্যানেলটি চালু হওয়ার পর সেখানে গত ৩ জুলাই মাউন্ট রাশমোরে ট্রাম্পের দেওয়া একটি বক্তব্যের পুরোনো ভিডিও সম্প্রচার করা হচ্ছিল।
এই চ্যানেলটির উদ্বোধন এমন এক সময়ে হয়েছে, যখন ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান সংবাদমাধ্যমগুলোর বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করেছে। গত শুক্রবার ট্রাম্প সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোকে হোয়াইট হাউসে নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দেন। পরে, ওই তিন সংবাদমাধ্যম প্রশাসনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করে।
এই নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচটি বড় টেলিভিশন নেটওয়ার্ক—এবিসি, সিবিএস, সিএনএন, ফক্স ও এনবিসি—হোয়াইট হাউসের যৌথ সংবাদ সংগ্রহ কার্যক্রম বন্ধ রাখে। সেদিন সিএনএন হোয়াইট হাউসের টেলিভিশন সংবাদ সংগ্রহের দায়িত্বে থাকার কথা ছিল।
সাধারণত, হোয়াইট হাউসের গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান ও প্রেসিডেন্টের কার্যক্রমের ভিডিও ধারণের জন্য এক বা একাধিক সংবাদমাধ্যমকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরে অন্যান্য টেলিভিশন চ্যানেলগুলো সেই ভিডিও ব্যবহার করতে পারে। এই ব্যবস্থাকেই যৌথ সংবাদ সংগ্রহ বলা হয়।
পাঁচটি বড় সংবাদমাধ্যম এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে, "সরকারের কার্যক্রম সম্পর্কে সঠিক ও স্বাধীন তথ্য পাওয়ার অধিকার জনগণের রয়েছে। কোনো সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন পছন্দ না হওয়ায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা উচিত নয়।"
ট্রাম্প দীর্ঘকাল ধরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত সংবাদমাধ্যমের সমালোচনা করে আসছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, এসব সংবাদমাধ্যম তার প্রশাসন সম্পর্কে মিথ্যা বা নেতিবাচক খবর প্রকাশ করে।
সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোকে নিষিদ্ধ করার ঘোষণার পরও ট্রাম্প নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেননি। সংবাদমাধ্যমকে তিনি ‘ক্যানসার’ এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও সংবাদমাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক প্রচারণা চালানোর অভিযোগ করেছেন। তবে তিনি বলেন, এসব সংবাদমাধ্যম এখনও খবর প্রকাশ করতে পারবে এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতাও থাকবে।
ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞার পর শনিবার সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোর সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউস প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। তাদের সংবাদকর্মীদের প্রবেশপত্রও বাতিল করা হয়।
এই তিন সংবাদমাধ্যম আদালতে গিয়ে এই সিদ্ধান্ত সাময়িকভাবে স্থগিত করার আবেদন করেছে। তাদের দাবি, হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার বাতিলের সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে থাকা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বুধবার এ বিষয়ে শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
এদিকে, সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ওই তিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, তারা হোয়াইট হাউসের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই করবে।
সংবাদমাধ্যমগুলোর বিরোধের মধ্যেই সোমবার হোয়াইট হাউসের দক্ষিণ লনে নতুন হেলিপ্যাড উদ্বোধন করেন ট্রাম্প। তবে বড় টেলিভিশন নেটওয়ার্কগুলো যৌথ সংবাদ সংগ্রহ বন্ধ রাখায় অনুষ্ঠানটি তাদের মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারিত হয়নি।
হোয়াইট হাউসের নিজস্ব ওয়েবসাইটে অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করা হলেও ট্রাম্পের বক্তব্যের পুরো শব্দ শোনা যায়নি।
এএফপিসহ কয়েকটি আলোকচিত্র সংবাদমাধ্যমও নিষিদ্ধ তিন সংবাদমাধ্যমের প্রতি সংহতি জানিয়ে হেলিপ্যাড উদ্বোধনের ছবি প্রকাশে বিলম্ব করে।
সংবাদমাধ্যমগুলোর সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের এই বিরোধের মধ্যে ‘ট্রাম্প টিভি’ চালু হলো। নতুন চ্যানেলটিতে ট্রাম্পের বক্তব্য, ভিডিও এবং হোয়াইট হাউসের বিভিন্ন কার্যক্রম সরাসরি সম্প্রচারের পাশাপাশি পুরোনো গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যও দেখানো হচ্ছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের বড় টেলিভিশন নেটওয়ার্কগুলো হোয়াইট হাউসের সংবাদ সংগ্রহ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘটনা দেশটির সংবাদমাধ্যম ও প্রশাসনের সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিরল পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
সূত্র: এএফপি
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন