প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
সরকারি নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণ করলে রুট পারমিট বাতিল করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি জানান, এ ক্ষেত্রে জরিমানা আরোপের ব্যবস্থা থাকবে এবং ভবিষ্যতে রুট পারমিট প্রদান নিয়ে জবাবদিহি করতে হবে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন।
নতুনভাবে নির্ধারিত বাস ভাড়ার প্রজ্ঞাপন আজই প্রকাশিত হবে জানিয়ে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, গেজেট হয়ে যাওয়ার অর্থ হলো এটি কার্যকর হয়ে যাবে। বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের কারণে এবং একটি অবধারিত পরিস্থিতির কারণে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি করতে হয়েছে।
“জ্বালানির দাম বৃদ্ধির সাথে পরিবহন ভাড়া বাড়ানোর একটি যৌক্তিক দাবি থাকে। দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত একটি প্রক্রিয়া রয়েছে যে, জ্বালানির দাম যদি ১ টাকা বাড়ে, তাহলে ভাড়া বাড়ে ১ পয়সা এবং এটি সহনীয়।”
রবিউল আলম বলেন, এই সরকারের সময়ে পূর্বে লিটারপ্রতি জ্বালানি তেলের দাম ১৫ টাকা বেড়ে গেলে, তখন ভাড়া ১৫ পয়সা বাড়ানোর যৌক্তিক দাবি ছিল। ডলারের দাম বৃদ্ধির কারণে ব্যবস্থাপনার খরচ বেড়ে গেছে। এই বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার দাবি তাদের ছিল। মেইনটেনেন্স খরচ বেড়ে যাওয়ার পরও ভাড়া না বাড়ালে তাদের ক্ষতি হয়। গতবার আমরা ১১ পয়সা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।
তিনি আরও বলেন, এবার লিটারপ্রতি ২০ টাকা বেড়েছে, ফলে প্রচলিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী ২০ পয়সা বাড়ানোর দাবি উঠেছে। তবে তারা এর নিচে মানতে চায়নি। তারা আরও দাবি জানিয়েছিল যে, মেইনটেনেন্স ব্যয়ও যেন আমরা এবার বিবেচনায় না নিই। তবে একটি সুসংবাদ হলো ২০ পয়সার পরিবর্তে ১৭ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বিবেচনায় অনেক কিছু রয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো পরিবহন সেক্টরের ব্যয় বেড়েছে, মেইনটেনেন্স ব্যয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে। ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে তারা প্রায় ২০ পয়সা দাবি করেছে। এ কথা অস্বীকার করা যাবে না, যাদের যানবাহন রয়েছে তারা জানেন যে এক্সেসরিজের দাম কত বেড়েছে। বিশ্বব্যাপী এই বৃদ্ধি ঘটেছে, বাংলাদেশেও তা ঘটেছে। সরকার সবসময় জনস্বার্থ বিবেচনা করে সমন্বয় করার চেষ্টা করেছে। ভাড়া কমাতে পারলে ভালো লাগতো।
অনেক স্থানে ইতোমধ্যে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, আমি আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, গতবার ১১ পয়সা বাড়ানো হয়েছিল, কার্যকর হয়েছে, তার চেয়ে বেশি কেউ নেননি। এবার ১৭ পয়সা বাড়ানো হয়েছে, এর ব্যত্যয় ঘটবে না এবং ঘটতে দেওয়া হবে না।
“বিচ্ছিন্নভাবে কিছু জায়গায় অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার প্রবণতা রয়েছে, তবে আমাদের দেশে পরিবহন সেক্টর সম্পূর্ণ সুশৃঙ্খল নয়, এটি মেনে চলা হয় না, তা স্বীকার করতে হবে,” যোগ করেন তিনি।
সড়ক পরিবহনমন্ত্রী আরও বলেন, “যদি কেউ নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি নেয়, তার রুট পারমিট বাতিল হবে, জরিমানা হবে এবং ভবিষ্যতে রুট পারমিট পাবে কি না, সেটি নিয়েও জবাবদিহি করতে হবে।”
এ প্রসঙ্গে রবিউল আরও বলেন, “আপনি জানলে খুশি হবেন, গতবার আমরা রেলের ভাড়া বাড়াইনি। এবারও এখন পর্যন্ত বাড়ানোর পরিকল্পনা করছি না।”
আগামী পরশু বৈঠকে বিষয়টি চূড়ান্ত হবে এবং ওই দিনই লঞ্চ মালিক সমিতির সঙ্গে লাঞ্চ ভাড়া নিয়ে আলোচনা হবে, জানান তিনি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন