প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর ব্যাপক বিমান হামলা চালানোর কাজ দ্বিতীয় দিনের মতো শুরু করেছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, গত ৪৮ ঘণ্টায় তারা ইরানজুড়ে ১৭০টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করেছে। দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি পাওয়ার পর এটিই ছিল সবচেয়ে বড় সামরিক সংঘাত। এই খবরটি পাওয়া গেছে আল–জাজিরা থেকে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, এই তীব্র বোমাবর্ষণের প্রধান উদ্দেশ্য হলো, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ ও নিরপরাধ বেসামরিক নাবিকদের ওপর হামলা চালানোর ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা আরও দুর্বল করে দেওয়া। বুধবার (৮ জুলাই) গভীর রাতে আগের রাতের ধারাবাহিকতায়, মার্কিন বাহিনী ইরানজুড়ে এই বিমান হামলা চালানো শুরু করে। ফলে অন্তত ১৪ জন নিহত হওয়ার খবর তথ্য পাওয়া গেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক পোস্টে ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগপ্রধান হোসেন কেরমানপোর জানান, যুদ্ধবিরতি বজায় থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র ৭ ও ৮ জুলাই পর্যন্ত ইরানের পাঁচটি প্রদেশে হামলা চালিয়ে গেছে। এসব হামলার ফলে এখনও পর্যন্ত ১৪ জন শহীদ এবং ৭৮ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
আল-জাজিরার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের এই ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলায় তেহরানের সঙ্গে যুক্ত রেলপথের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ইরান-তেহরান রেল করিডরের মূল রেলপথও। বুশেহরে অবস্থিত দেশের একমাত্র বেসামরিক পারমাণবিক স্থাপনার নিকটবর্তী এলাকাতেও হামলার সংবাদ পাওয়া গেছে।
যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর লক্ষ্যে গত ১৭ জুন ওয়াশিংটন ও তেহরান একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছিল। কিন্তু হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে ইরানি হামলার কারণে সেই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ‘শেষ’ হয়ে গেছে, এই ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দিয়েছেন। হামলার পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানে বোমাবর্ষণের ভিডিও পোস্ট করে নতুন করে দেশটিকে হুমকি দেন।
নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘এটি গতকাল (মঙ্গলবার) জাহাজে ইরানের বোমাবর্ষণের প্রতিশোধ। যদি এটি আবার ঘটে, তবে পরিস্থিতি আরও অনেক খারাপ হবে!’ ট্রাম্প এর কয়েক ঘন্টা পূর্বে প্রতিশ্রুতি দেন যে এই হামলা দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের দিকে যাবে না, বরং এটি হবে ‘খুবই দ্রুতগতির’।
এদিকে মার্কিন হামলার প্রতিক্রিয়ায়, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা করেছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর বাহরাইনে অবস্থিত। ইরানের হামলার সতর্কতার জন্য দেশটিতে অন্তত তিনবার সাইরেন বেজে ওঠে। এর পাশাপাশি, কুয়েত ও কাতারে অবস্থিত মার্কিন সামরিক অবস্থানকেও লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরানি বাহিনী। অন্যদিকে, জর্ডানের আকাশসীমার ভেতরে প্রবেশ করা ইরানের কিছু ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দাবি করেছে দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন