প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ভারতের তামিলনাড়ুতে গরু এবং বাছুর জবাইয়ের ওপর মাদ্রাজ হাইকোর্টের দেওয়া নিষেধাজ্ঞাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছে রাজ্য সরকার। রাজ্য সরকারের বক্তব্য হলো, হাইকোর্ট মামলার মূল বিষয়ের সীমা অতিক্রম করে এমন একটি নির্দেশ দিয়েছে, যা রাজ্যের বিদ্যমান আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করা হচ্ছে।
আইন বিষয়ক গণমাধ্যম লাইভ এল এবং বার অ্যান্ড বেঞ্চ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৭ মে হাইকোর্টের বিচারপতি জি. আর. স্বামীনাথন এবং বিচারপতি ভি. লক্ষ্মীনারায়ণের বেঞ্চ বিতর্কিত আদেশটি প্রদান করেন।
মামলাটি দায়ের করেন হিন্দুত্ববাদী সংগঠন হিন্দু মাক্কাল কাচ্চি-র সাধারণ সম্পাদক। আবেদনে দাবি করা হয়, ঈদুল আজহা (বকরিদ) উপলক্ষে কোয়েম্বাটুরে যেন প্রকাশ্যে পশু জবাই না হয় এবং কেবলমাত্র সরকার কর্তৃক অনুমোদিত নির্ধারিত কসাইখানার মধ্যে জবাইয়ের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়।
তামিলনাড়ু সরকার হাইকোর্টকে জবাবে জানায়, প্রকাশ্য স্থানে পশু জবাই বন্ধে ইতোমধ্যেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে, অনুমোদিত কসাইখানা চিহ্নিত করা হয়েছে, পরিদর্শনের জন্য কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং কেবল অনুমোদিত স্থাপনায় জবাই নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
শুনানির সময় হাইকোর্ট প্রথমে নির্দেশ দেয় যে, পশু জবাই শুধুমাত্র নির্ধারিত কসাইখানায় করতে হবে। তবে পরবর্তীতে আদালত নির্দেশ দেয় যে, ‘বকরিদের আগের দিন কিংবা বছরের অন্য কোনো দিনেই কোনো গরু বা বাছুর জবাই করা যাবে না।’ এই নির্দেশ বর্তমানে আইনি বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টে দাখিল করা আবেদনে তামিলনাড়ু সরকার জানাচ্ছে, হাইকোর্টের এই নির্দেশ কার্যত গোটা রাজ্যে গরু ও বাছুর জবাইয়ের ওপর এক সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, যা তামিলনাড়ু অ্যানিমাল প্রিজারভেশন অ্যাক্ট, ১৯৫৮-এর সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, ওই আইনে নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে ১০ বছরের বেশি বয়সী এবং কর্মক্ষমতা বা প্রজননের জন্য অনুপযুক্ত গরুর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রত্যয়ন সাপেক্ষে জবাইয়ের অনুমতি রয়েছে। এছাড়াও, পশু জবাই-সংক্রান্ত অন্যান্য আইনে জবাইয়ের পদ্ধতি ও শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে, কিন্তু কোথাও সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার কথা বলা হয়নি।
সরকার আরও দাবি করেছে, মামলার আবেদনে রাজ্যব্যাপী গরু জবাই নিষিদ্ধ করার কোনো আবেদনই ছিল না। ফলস্বরূপ, হাইকোর্ট এমন একটি প্রতিকার দিয়েছে, যা মামলায় চাওয়া হয়নি এবং এইভাবে আদালত কার্যত বিদ্যমান আইনের পরিবর্তে নতুন আইন তৈরির মতো ভূমিকা নিয়েছে।
তামিলনাড়ু সরকার সুপ্রিম কোর্টের কাছে মাদ্রাজ হাইকোর্টের ২৭ মে-র আদেশ বাতিলের আবেদন জানিয়েছে। পাশাপাশি, মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত হাইকোর্টের নির্দেশের কার্যকারিতা স্থগিত রাখার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশও চেয়েছে।
এখন সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে, তামিলনাড়ুতে গরু এবং বাছুর জবাই-সংক্রান্ত বিদ্যমান আইনি কাঠামো বহাল থাকবে, না হয় হাইকোর্টের নির্দেশ কার্যকর থাকবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন