প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড যৌথভাবে যুক্তরাজ্য থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার জন্য একটি রূপরেখা তৈরি করতে কাজ করার পরিকল্পনা করছে। এই উদ্দেশ্যে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ওয়েলসের রাজধানী কার্ডিফের পাঁচ তারকা হোটেল ‘সেন্ট ডেভিডস’-এ একটি ঐতিহাসিক যৌথ বৈঠকে মিলিত হচ্ছেন তিন দেশের ফার্স্ট মিনিস্টার।
ব্রিটেনের গণমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের একটি প্রতিবেদনে রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্কটল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার জন সুইনি, ওয়েলসের ফার্স্ট মিনিস্টার রুন আপ আইওয়ার্থ এবং নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার মিশেল ও’নিল এই বৈঠকে অংশগ্রহণ করবেন। তাদের সঙ্গে যোগ দেবেন আয়ারল্যান্ডের বিরোধী দল সিন ফেইনের সভানেত্রী মেরি লু ম্যাকডোনাল্ড। বৈঠকের শেষে নেতারা একটি যৌথ ঘোষণাপত্রে সই করবেন, যেখানে নিজেদের আত্মনিয়ন্ত্রণ ও স্বাধীনতা গণভোটের অধিকার দাবি করা হবে।
এটি ইতিহাসে প্রথমবারের মতো যে যুক্তরাজ্যের তিনটি আঞ্চলিক (ডিভলভড) সরকারের নেতৃত্ব স্বাধীনতাপন্থি দলগুলোর হাতে রয়েছে। স্কটল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার জন সুইনি মন্তব্য করেন, তিন দেশে স্বাধীনতাপন্থি নেতৃত্ব আসা প্রমাণ করে যে বর্তমান কেন্দ্রীয় সাংবিধানিক ব্যবস্থা টেকসই নয়। তিনি বলেন, ওয়েস্টমিনস্টারকে ‘যুক্তরাজ্য-পরবর্তী’ ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে।
কার্ডিফের এই বৈঠকে চারটি প্রধান স্তম্ভ—অর্থনীতি, জ্বালানি, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং আত্মনিয়ন্ত্রণের ভিত্তিতে একটি সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। নেতারা স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসের ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) যোগদান এবং আয়ারল্যান্ড পুনরেকত্রীকরণের মাধ্যমে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের ইইউতে ফেরার বিষয়ে একমত হয়েছেন। এছাড়া ওয়েলসের কর ও নিজস্ব রাজস্ব আদায়ের ক্ষমতা বাড়ানোর দাবিও উত্থাপন করা হবে।
তবে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম জানিয়েছেন, নিকট ভবিষ্যতে কোনো স্বাধীনতা গণভোটের সুযোগ নেই। জন সুইনিকে পাঠানো এক চিঠিতে বার্নহাম উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালে নির্বাচিত তার সরকারের ইশতেহার অনুযায়ী স্বাধীনতা বা নতুন গণভোটের প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করা হয়েছে।
এদিকে বৈঠকের দুদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ডাবলিন সফরে ঐক্যবদ্ধ আয়ারল্যান্ডের পক্ষে প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়ে বিষয়টিতে নতুন মাত্রা যুক্ত করেছেন।
ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ঔপনিবেশিক শাসনামলে যুক্তরাজ্য যে ‘ভাগ করো শাসন করো’ নীতির মাধ্যমে পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে সার্বভৌম রাজ্য ও সাম্রাজ্যকে বিচ্ছিন্ন বা বিভক্ত করেছিল, সেই একই ধরনের বিচ্ছিন্নতার সুর বর্তমানে তাদের নিজেদের অভ্যন্তরীণ ভূখণ্ডে প্রবল হয়ে উঠছে। যুক্তরাজ্য সরকারের তীব্র আপত্তি সত্ত্বেও তিন দেশের নেতাদের স্বাধীনতা ও আত্মনিয়ন্ত্রণের এই নজিরবিহীন ঐক্যবদ্ধ রূপরেখাকে বিশ্ব রাজনীতির পর্যবেক্ষকেরা যুক্তরাজ্যের চূড়ান্ত ভাঙনের বার্তা হিসেবে দেখছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন