প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ভারত থেকে মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি করা বিপুল পরিমাণ ভায়াগ্রা বেনাপোল বন্দরের পণ্যাগার থেকে পাচার হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। এই বিষয়ে এমন একটি গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের অনুরোধে বন্দর কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত ২৪ ঘণ্টার নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
কাস্টমস সূত্র জানায়, ৩ হাজার ৬৭৫ কেজি ভায়াগ্রার চালানটি বর্তমানে বন্দরের ৩২ নম্বর পণ্যাগারের মধ্যে রাখা হয়েছে। এর আগে, ১ জুলাই, বেনাপোল কাস্টমস হাউসের সহকারী কমিশনার অটল গোস্বামী স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বন্দর কর্তৃপক্ষকে অবৈধভাবে পণ্য সরিয়ে নেয়ার শঙ্কা জানিয়ে নিরাপত্তা জোরদারের অনুরোধ জানানো হয়েছিল।
বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) শামিম হোসেন জানান, কাস্টমসের চিঠি পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট পণ্যাগারগুলোতে সার্বক্ষণিক পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বর্তমানে আনসার, বেসরকারি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান আল-আরাফা এবং বন্দরের গোয়েন্দা সদস্যরা সেখানে দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়াও ৩৪ নম্বর শেডে ভায়াগ্রা সন্দেহে দীর্ঘদিন পড়ে থাকা আরেকটি চালানের নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান আরাফাত এন্টারপ্রাইজ কোয়ার্টজ পাউডার হিসেবে ঘোষণা দিয়ে ভারত থেকে ১৬ টন পণ্য আমদানি করেছিল। চালানটি খালাস করার দায়িত্বে ছিল হায়দার অ্যান্ড সন্স নামক একটি সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান। তবে সন্দেহের ভিত্তিতে ল্যাব পরীক্ষায় ওই চালানে ১৩ ধরনের রাসায়নিকের উপস্থিতি পাওয়া যায়, যার মধ্যে ভায়াগ্রার পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৬৭৫ কেজি।
এর আগে, ২০১৯ সালের ২৬ মে বায়েজিদ এন্টারপ্রাইজ সোডিয়াম গ্লাইকুলেট ঘোষণা দিয়ে ১০০ ড্রামে ২ হাজার ৭০০ কেজি পাউডার জাতীয় রাসায়নিক আমদানি করেছিল। শাহিনিং শিপিং সার্ভিসেজ-এর ছাড় করার কথা থাকা ওই চালানটিও পরীক্ষায় ভায়াগ্রা হিসেবে শনাক্ত হয়েছে। সেটি এখনও বন্দরের ৩৪ নম্বর শেডে রাখা রয়েছে।
বেনাপোল আমদানি-রফতানি সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান মন্তব্য করেন, ‘এ ধরনের মাদকদ্রব্য দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করলে লাখো তরুণ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পাশাপাশি সহযোগীদেরও চিহ্নিত করতে হবে।’
স্থানীয় ব্যবসায়ী রহমত জানান, ‘কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর কারণে সাধারণ ব্যবসায়ীরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এ কারণে অনেকেই বেনাপোল বন্দর দিয়ে ব্যবসা কমিয়ে দিয়েছেন বা একেবারে বন্ধ করে দিয়েছেন।’
বন্দর ব্যবহারকারীদের অভিযোগ, প্রভাব ও অসাধু যোগসাজশের মাধ্যমে বন্দর ও কাস্টমসের পণ্যাগার থেকে প্রায়ই বিভিন্ন পণ্য পাচার হয়ে আসছে। গত মাসে প্রায় ১৫ কোটি টাকার আমদানি পণ্য পাচারের অভিযোগে কাস্টমস, বন্দর, নিরাপত্তাকর্মী, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও আমদানিকারকসহ ৫৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়। এর ফলে বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। অত্যাধুনিক স্ক্যানিং মেশিন থাকা সত্ত্বেও মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে মাদক ও নিষিদ্ধ পণ্য আমদানির চেষ্টায় উদ্বিগ্ন সংশ্লিষ্টরা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন