প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
কুষ্টিয়ায় ৬৫ বছর বয়সী নূরজাহান বেগমকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় থানা পুলিশ সারাদিন থানায় রেখে বিকেলে নাশকতার মামলায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে আদালতে পাঠিয়েছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার পাটিকাবাড়ি ইউনিয়নের নলকুলা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাকে পুলিশ নিয়ে যায়।
জানা গেছে, মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় মারামারি ও ভাঙচুরের কারণে নূরজাহান বেগমের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর এবং গোডাউনে আগুন দেওয়ার ঘটনায় তিনি সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) আদালতে একটি মামলা করেন। ওই মামলায় ৬২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১৫/২০ জনকে আসামি করা হয়।
পরে রোববার সকালে ওসি কথা বলবে জানিয়ে ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় থানার পুলিশ নূরজাহান বেগমকে নিয়ে যায়।
নূরজাহান বেগমের মেয়ে সেলিনা আক্তার শিল্পী গণমাধ্যমকে জানান, দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক ও জমিসংক্রান্ত বিরোধের কারণে তাদের বাড়িতে এবং পাটের গোডাউনে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালায় এলাকার কিছু মানুষ। পরে কৃষকদলের স্থানীয় অফিসে ভাঙচুর করে এবং এলাকার আরও মানুষের বাড়িতে হামলা ও লুটপাট চালানো হয়। বিএনপির পাশাপাশি আওয়ামী লীগের কিছু লোকজন এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত।
তিনি বলেন, হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় তার মা নূরজাহান বেগম বাদী হয়ে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) কুষ্টিয়া আদালতে মামলা করেন।
শিল্পী বলেন, ‘রোববার সকালে একদল পুলিশ বাড়িতে ঢুকে পড়ে। তারা মাকে বলেন, আপনি আদালতে গোডাউন পোড়ানোর মামলা করেছেন। মামলার বাদী আপনি। এ বিষয়ে ওসি সাহেব আপনার সাথে কথা বলবে। আমাদের সঙ্গে চলুন। এই বলে কয়েকজন পুলিশ তাকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। এরপর থেকে মায়ের কোনো খোঁজ পাচ্ছিলাম না। এখন শুনছি পুলিশ মাকে আদালতে পাঠিয়েছে।’
নূরজাহান বেগমের ছেলে আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, পুলিশ বাড়ি থেকে নিয়ে আসার পর তার মায়ের কোনো খবর পাচ্ছিলেন না। পরে থানায় গেলে তাকে জানানো হয়, মাকে বিকেলে আদালতে পাঠানো হয়েছে। কী কারণে তাকে বাড়ি থেকে নিয়ে আসা হয়েছে এবং কেন আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে, এ বিষয়ে তারা কিছুই বুঝতে পারছেন না।
জানা গেছে, মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) কুষ্টিয়া সদর উপজেলার পাটিকাবাড়ি ইউনিয়নের নলকুলা গ্রামের ১ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত অফিস ভাঙচুর ও ভেতরে অবস্থানরত ব্যক্তিদের মারধরের অভিযোগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ৭৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ১০০/১২০ জনকে আসামি করে বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) মামলা করা হয়। সেই মামলায় রোববার নূরজাহান বেগমকে সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার দেখিয়ে বিকেলে ইবি থানা পুলিশ আদালতে সোপর্দ করলে আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠান।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম মামুনুর রশিদ দাবি করেন, নূরজাহান হামলার সঙ্গে জড়িত। এ কারণে তাকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন