প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
মেক্সিকোর আকাপুলকোতে হারিকেন ওটিসের তাণ্ডবে বিধ্বস্ত এলাকায় উদ্ধার ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের সময় এক নারী পুলিশ কর্মকর্তা চার মাস বয়সী ক্ষুধার্ত শিশুকে নিজের বুকের দুধ খাইয়ে শান্ত করেন। তার এই মানবিক কাজের জন্য তিনি পদোন্নতি লাভ করেছেন।
পুলিশ কর্মকর্তার নাম আরিজবেথ ডিওনিসিও অ্যামব্রোসিও। ৩৩ বছর বয়সী এই কর্মকর্তা মেক্সিকো সিটির পুলিশ বাহিনীর ‘জোরোস’ টাস্ক ফোর্সের সদস্য হিসেবে আকাপুলকোতে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
২৫ অক্টোবর ক্যাটাগরি-৫ মাত্রার হারিকেন ওটিস আকাপুলকোতে আঘাত হানার পর ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটে। উদ্ধারকাজের সময় ডিওনিসিও লক্ষ্য করেন যে, চার মাস বয়সী একটি শিশু দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষুধায় কাঁদছে। শিশুটির মা তাকে বুকের দুধ খাওয়াতে পারছিলেন না।
এই পরিস্থিতি বুঝে শিশুটির মায়ের সঙ্গে কথা বলেন ডিওনিসিও। এরপর তার অনুমতি নিয়ে তিনি শিশুটিকে নিজের বুকের দুধ খাওয়ান। কিছুক্ষণের মধ্যে শিশুটি শান্ত হয়ে যায়।
ঘটনার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। ছবিতে দেখা যায়, উদ্ধারকাজের পোশাক পরিহিত ওই নারী পুলিশ কর্মকর্তা শিশুটিকে কোলে নিয়ে বুকের দুধ খাওয়াচ্ছেন।
ডিওনিসিওর এই মানবিক কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। ‘পোলিসিয়া প্রিমেরো’ পদ থেকে উন্নীত হয়ে তিনি ‘সাব-অফিসিয়াল’ হয়েছেন।
মেক্সিকো সিটির নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রী পাবলো ভাজকুয়েজ কামাচো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ডিওনিসিওর পদোন্নতির বিষয়টি ঘোষণা করেন।
তিনি বলেন, নাগরিকদের সেবার ব্রত এবং মেক্সিকো সিটির নাগরিক নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার জন্য আকাপুলকোতে একটি শিশুর জীবন রক্ষায় ভূমিকা রাখা আরিজবেথ ডিওনিসিও অ্যামব্রোসিওকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। তার এই কাজ মানবিকতার এক অনন্য উদাহরণ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
পদোন্নতির পর ডিওনিসিও বলেন, তিনি প্রয়োজনের মুহূর্তে শিশুটি ও তার মাকে সহায়তা করতে পেরে আনন্দিত। তবে তিনি নিজের কাজকে বড় কিছু মনে করেন না।
ডিওনিসিও আরও বলেন, "আমি খুব সামান্যই করেছি, আমরা আরও সহায়তা করতে পারি। যদি সম্ভব হতো, তবে আমি শিশুটিকে দেখতে আবার সেখানে ফিরে যেতাম।"
এর আগে সাংবাদিকদের তিনি বলেছিলেন, কান্নারত ও ক্ষুধার্ত একটি শিশুকে এমন পরিস্থিতিতে দেখে তার খুব খারাপ লেগেছিল। একজন মা হিসেবে এমন দৃশ্য তাকে আরও বেশি নাড়া দিয়েছিল বলেও জানান তিনি।
সূত্র: মেক্সিকো নিউজ
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন