প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার এবং প্রযুক্তিপণ্যের চাহিদা বৃদ্ধির ফলে সিঙ্গাপুরের অর্থনীতি শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি বজায় রেখেছে। চলতি বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে দেশটির মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫ দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সরকারের প্রাথমিক হিসাব প্রকাশের মাধ্যমে এই তথ্য জানা গেছে।
তবে বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে সিঙ্গাপুরের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ২ শতাংশ ছিল। এর মানে হলো, আগের প্রান্তিকের তুলনায় প্রবৃদ্ধির গতি কিছুটা কমেছে।
সিঙ্গাপুরের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, দেশটির উৎপাদন খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। এই খাতের একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে অর্ধপরিবাহী বা সেমিকন্ডাক্টর শিল্প। ইলেকট্রনিক পণ্য, সূক্ষ্ম প্রকৌশল, পরিবহন প্রকৌশল এবং সাধারণ উৎপাদন খাতের সম্প্রসারণ প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তবে রাসায়নিক ও জৈব চিকিৎসা খাতে উৎপাদন কমেছে।
এদিকে, নির্মাণ খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮ দশমিক ৮ শতাংশ। এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসংশ্লিষ্ট বিনিয়োগ এবং তথ্য সংরক্ষণকেন্দ্র নির্মাণ এই খাতের সম্প্রসারণে সহায়ক হয়েছে।
অর্থনীতিতে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি থাকা সত্ত্বেও, বুধবার (১৪ অক্টোবর) দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুদ্রানীতিতে কোনো পরিবর্তন আনেনি। কর্তৃপক্ষের ধারণা, ২০২৭ সালে এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসংশ্লিষ্ট চাহিদা কমে আসতে পারে।
সিঙ্গাপুরের মুদ্রা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২০২৬ সালে দেশটিতে মূল মূল্যস্ফীতির হার গড়ে ১ দশমিক ৫ থেকে ২ শতাংশের মধ্যে থাকতে পারে। সংস্থাটি সুদের হার পরিবর্তনের পরিবর্তে মুদ্রার বিনিময় হারকে মুদ্রানীতি পরিচালনার প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আগামী বছরের দ্বিতীয়ার্ধে এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি কমতে পারে। পাশাপাশি উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোতে মূল্যস্ফীতি বেশি থাকায় সুদের হার বাড়তি পর্যায়ে থাকতে পারে, যা পণ্য ও সেবার চাহিদায় প্রভাব ফেলবে।
বিশ্বের অর্ধপরিবাহী শিল্পে সিঙ্গাপুরের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান রয়েছে। সরকারের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের মোট অর্ধপরিবাহী উৎপাদনের প্রায় ১০ শতাংশ এবং এ শিল্পের যন্ত্রপাতি উৎপাদনের ২০ শতাংশ আসে দেশটি থেকে। প্রযুক্তিপণ্যের বৈশ্বিক চাহিদা বৃদ্ধির কারণে জ্বালানির বাজারে অস্থিরতা এবং অন্যান্য বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেও দেশটি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।
নানইয়াং প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির সহকারী অধ্যাপক ইয়ো হুই চুয়া মন্তব্য করেন, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যে সিঙ্গাপুরের এই প্রবৃদ্ধি একটি উচ্চ আয়ের অর্থনীতি হিসেবে উল্লেখযোগ্য। তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি দেশটির অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। ইলেকট্রনিক পণ্যের জোরালো চাহিদা উৎপাদন ও সংশ্লিষ্ট পাইকারি বাণিজ্যকে সহায়তা করছে। বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় সিঙ্গাপুরের অবস্থানও এ ক্ষেত্রে সুবিধা দিচ্ছে।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে সিঙ্গাপুরের অর্থনীতি ৫ শতাংশ বাড়তে পারে। উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোর মধ্যে তাইওয়ান ছাড়া অন্য কোনো দেশের প্রবৃদ্ধি এর চেয়ে বেশি হবে না বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে ২০২৫ সালেও সিঙ্গাপুরের অর্থনীতি ৫ শতাংশ বেড়েছিল। টানা দ্বিতীয় বছরের মতো ৫ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করে দেশটি। ২০১০ ও ২০১১ সালের পর এটি প্রথমবারের মতো টানা দুই বছর এমন প্রবৃদ্ধি দেখল সিঙ্গাপুর।
সূত্র: আল জাজিরা
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন