প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় চীনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব বেশি। সম্প্রতি পিউ রিসার্চের একটি জরিপে এই তথ্য উঠে এসেছে। ৩৬টি দেশে পরিচালিত জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, ২৫টিতে যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় চীনের প্রতি আগ্রহ বেশি।
দীর্ঘ সময় ধরে বিশ্ব রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তৃত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। हालের সময়ে ভূরাজনৈতিক অঙ্গনে চীনের আধিপত্য বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন জরিপেও এ বিষয়ে প্রমাণ পাওয়া গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিউ রিসার্চ সেন্টার সম্প্রতি ৩৬টি দেশে জরিপ পরিচালনা করেছে। নতুন জরিপ বলছে, ৩৬টি দেশের মধ্যে ২৫টিতে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে চীনের প্রতি ইতিবাচক ভাবনা বেশি। ২০০২ সাল থেকে বৈশ্বিক জনমত পর্যবেক্ষণ করে পিউ রিসার্চ সেন্টার, এবারই প্রথম এতগুলি দেশে এ ধরনের ফলাফল পাওয়া গেছে।
ফেব্রুয়ারি থেকে মে, এই চার মাসে ৪২ হাজারেরও বেশি মানুষের মতামত নিয়ে করা এ জরিপে দেখা যায়, ইতালি, স্পেন, কানাডা, গ্রিস, ইন্দোনেশিয়াসহ বেশ কিছু দেশে চীনের গ্রহণযোগ্যতা রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রকে এখনও বেশি সমর্থন করে এমন দেশের সংখ্যা নেমে এসেছে ছয়ে। এই তালিকায় রয়েছে ভারত, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ফিলিপিন্স, পোল্যান্ড ও ইসরাইল।
এই জরিপে দুই পরাশক্তির শীর্ষ নেতা ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং শি জিনপিংয়ের প্রতি আস্থার দিকটিও তুলে ধরা হয়েছে। সামগ্রিকভাবে উভয়ের প্রতি আস্থা খুব বেশি নয়। তবে বেশিরভাগ দেশে ট্রাম্পের তুলনায় শি জিনপিংয়ের প্রতি আস্থা কিছুটা বেশি দেখা গেছে। ব্যক্তিগত স্বাধীনতা রক্ষার দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে এখনও এগিয়ে মনে করলেও, অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়সমূহে হস্তক্ষেপের ক্ষেত্রে অনেক উত্তরদাতার মতে, ওয়াশিংটনকে অনেক বেশি সক্রিয় মনে করা হচ্ছে। তুলনামূলকভাবে চীনকে তারা কম হস্তক্ষেপকারী হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির অনিশ্চয়তা, সামরিক হস্তক্ষেপ এবং শুল্ক ও বাণিজ্যনীতির ওঠানামা অনেক দেশকে অস্বস্তিতে ফেলেছে। অন্যদিকে, উন্নয়নশীল দেশগুলোর অবকাঠামো, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের মাধ্যমে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে ধারাবাহিকভাবে কাজ করেছে বেইজিং। এর ফলস্বরূপ, চীনের ভাবমূর্তি আগের তুলনায় শক্তিশালী হয়েছে।
তবে গবেষকরা বলছেন, চীনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব বৃদ্ধি পেলেও, এটি দেশটির রাজনৈতিক ব্যবস্থা অথবা শি জিনপিংয়ের নেতৃত্বের প্রতি নিঃশর্ত সমর্থনের প্রতিফলন নয়। বরং অনেকের কাছে চীন একটি বিকল্প শক্তি হিসেবে দেখা যাচ্ছে। যদিও মানবাধিকার, সংখ্যালঘুদের অধিকার এবং বেইজিংয়ের ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। তাই বৈশ্বিক জনমতের এই পরিবর্তনকে কেবল জনপ্রিয়তার নয়, বরং পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন