প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
আকস্মিক বন্যার পানি কিছুটা কমলেও মানুষের দুর্ভোগ কমেনি। প্রকৃতির নির্মম আঘাতে বহু মানুষের স্বপ্ন এবং স্বাভাবিক জীবনের ছন্দ লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও বসতঘর তলিয়ে গেছে পানির নিচে, আবার কোথাও ভেসে গেছে সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী। অনেক পরিবার এখনো অনিশ্চয়তা এবং সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। বন্যার ক্ষত শুকাতে না শুকাতেই খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট, কর্মহীনতা এবং নিরাপদ আশ্রয়ের অভাবটি বন্যাদুর্গত মানুষের দুর্ভোগকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। এমন দুর্যোগময় সময়ে ক্ষতিগ্রस्त মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বসুন্ধরা শুভসংঘ।
মানবতার সেবায় নিরলসভাবে কাজ করে যাওয়া সংগঠনটি চট্টগ্রামের লোহাগাড়া এবং সাতকানিয়ায় সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত শতাধিক পরিবারের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেছে।
শনিবার এবং রবিবার (১৮ ও ১৯ জুলাই) দুই দিনব্যাপী এই মানবিক কর্মসূচির মাধ্যমে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় মানুষের হাতে প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।
ত্রাণসামগ্রীর মধ্যে ছিল চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, লবণ, শুকনো খাবারসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী। প্রতিটি পরিবারের হাতে এসব ত্রাণসামগ্রী তুলে দিয়ে বসুন্ধরা শুভসংঘের স্বেচ্ছাসেবকেরা তাদের দুর্দিনে পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। বন্যার ভয়াবহতা কাটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সংগ্রামরত মানুষের জন্য এই সহায়তা ছিল অনেকটাই স্বস্তির।
ত্রাণ বিতরণকালে সাতকানিয়া বসুন্ধরা শুভসংঘের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার জাভেদ বলেন, সাতকানিয়ার এমন অনেক ইউনিয়ন রয়েছে, যেখানে শত শত বাড়িঘর পুরোপুরি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। অনেক পরিবারের ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে এবং তারা মানবেতর জীবনযাপন করছে। বন্যার পানি কমতে শুরু করলেও তাদের দুর্ভোগ কমেনি। অনেকের ঘরে এখনো চুলা জ্বলেনি, শিশু এবং বয়স্কদের নিয়ে তারা চরম কষ্টে দিন পার করছেন। এমন অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়াতে পেরে আমরা সত্যিই আনন্দিত। মানবিক দায়বদ্ধতা থেকেই আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস।
তিনি আরও বলেন, দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই বসুন্ধরা শুভসংঘের অন্যতম অঙ্গীকার। আমরা বিশ্বাস করি, সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানগুলো যদি এগিয়ে আসে, তবে বন্যাদুর্গত মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই লাঘব করা সম্ভব। ভবিষ্যতেও যেকোনো মানবিক সংকটে বসুন্ধরা শুভসংঘ অসহায় এবং বিপন্ন মানুষের পাশে থাকবে।
স্থানীয়রা জানান, বন্যার কারণে অনেক পরিবার কর্মহীন হয়ে পড়েছে। দিনমজুর ও নিম্নআয়ের মানুষেরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। এমন সময়ে বসুন্ধরা শুভসংঘের ত্রাণ সহায়তা তাদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। তারা এই মানবিক উদ্যোগের জন্য সংগঠনটির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন