প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
স্থাপনের প্রায় আট বছর অতিক্রম করলেও সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ (সামেক) হাসপাতালের এস্কেলেটর লিফটটি এখনও চালু করা সম্ভব হয়নি, যার জন্য ব্যয় হয়েছে প্রায় ৬০ লাখ টাকা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ উদ্বেগ প্রকাশ করছেন যে, দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকার কারণে এই ইলেকট্রিক সিঁড়িটি নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এ ছাড়া হাসপাতালের ১০টি প্যাসেঞ্জার লিফটের মধ্যে তিনটি বিভিন্ন ত্রুটির কারণে বন্ধ রয়েছে, ফলে রোগী, তাদের স্বজন, চিকিৎসক ও নার্সদের চলাচলে ভোগান্তি সৃষ্টি হচ্ছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, এস্কেলেটর লিফটটি চালু করার পাশাপাশি বন্ধ থাকা তিনটি প্যাসেঞ্জার লিফট মেরামতের জন্য তারা সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে একাধিকবার লিখিতভাবে অবহিত করেছেন। কিন্তু এখনো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. কুদরত-ই খোদা গণমাধ্যমকে জানান, ২০১৮ সালের দিকে হাসপাতালের চিকিৎসক ও দর্শনার্থীদের ব্যবহারের জন্য একটি এস্কেলেটর লিফট এবং ১০টি প্যাসেঞ্জার লিফট স্থাপন করা হয়েছিল। নির্মাণের পর থেকে এস্কেলেটরটি চালু করা সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে, ১০টি প্যাসেঞ্জার লিফটের মধ্যে তিনটি বর্তমানে বিভিন্ন ত্রুটির কারণে বন্ধ রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এস্কেলেটরটি চালু, তিনটি প্যাসেঞ্জার লিফট মেরামত এবং ১১টি মেইনটেন্যান্স কাজের জন্য একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ গত ৫ জুলাই ২০২৬ তারিখেও বিষয়টি জানিয়ে লিখিত আবেদন করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
তিনি উল্লেখ করেন, ৫০০ শয্যার এই হাসপাতালে প্রতিদিন বহির্বিভাগ ও ভর্তি রোগীসহ দেড় থেকে দুই হাজারের বেশি মানুষ চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। তাদের মধ্যে অনেকেই লিফট ব্যবহার করেন। তিনটি লিফট বন্ধ থাকায় রোগী ও সাধারণ মানুষের পাশাপাশি চিকিৎসক-নার্সদেরও হাসপাতালে ওঠানামায় সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
জানা গেছে, ২০১৮ সালে ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রোপাটিস ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের মাধ্যমে প্রায় ৫৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে হাসপাতালটিতে একটি এস্কেলেটর লিফট স্থাপন করা হয়। তবে অজ্ঞাত ত্রুটির কারণে স্থাপনের পর থেকে এটি আর চালু করা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ার কারণে মূল্যবান এই বৈদ্যুতিক যন্ত্রটি নষ্ট হওয়ার পথে রয়েছে।
এ বিষয়ে খুলনা স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী এ. কে. হাসানুজ্জামান গণমাধ্যমকে জানান, তিনি প্রায় পাঁচ মাস আগে খুলনায় যোগদান করেছেন। সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এস্কেলেটর লিফটের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পেরেছেন যে, সেখানে ১০টি প্যাসেঞ্জার লিফট থাকার পরও প্রায় ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে এস্কেলেটর স্থাপন করা হয়েছিল। তার মতে, এতগুলো লিফট থাকার পর আলাদাভাবে এস্কেলেটর নির্মাণ কতটা যুক্তিসংগত ছিল, সেটিও প্রশ্নের বিষয়।
তবে তিনি জানান, এস্কেলেটরটির বর্তমান অবস্থা সরেজমিনে পরীক্ষা করতে টেকনিশিয়ান পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে বন্ধ থাকা তিনটি প্যাসেঞ্জার লিফট ও অন্যান্য মেইনটেন্যান্সের কাজও দ্রুত সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন