প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
যুক্তরাষ্ট্র গভীর আর্থিক সংকটের সম্মুখীন হতে যাচ্ছে। এটি প্রথমবারের মতো দেখা যাচ্ছে যে দেশটির জাতীয় ঋণের পরিমাণ ৪০ ট্রিলিয়ন বা ৪০ লাখ কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেছে। মূলত মার্কিন সরকারের অতিরিক্ত ব্যয়, ঋণের সুদ এবং বাজেট ঘাটতি মেটাতে ধার নেওয়ার কারণে ঋণের বোঝা দ্রুত বাড়ছে। কংগ্রেশনাল বাজেট অফিস (সিবিও) পূর্বাভাস দিয়েছে যে ২০৩৬ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ প্রায় ৬৪ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বার্তাসংস্থা রয়টার্স এমন তথ্য প্রকাশ করেছে।
ট্রেজারি বিভাগের সর্বশেষ দৈনিক ঋণ ও নগদ হিসাব অনুযায়ী, মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের মোট সরকারি ঋণ ৪০ দশমিক ০৪৭ ট্রিলিয়ন ডলার দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে জনগণের কাছে থাকা ট্রেজারি সিকিউরিটির পরিমাণ ৩২ দশমিক ২৬৬ ট্রিলিয়ন ডলার এবং সরকারের বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে থাকা ঋণের পরিমাণ ৭ দশমিক ৭৮২ ট্রিলিয়ন ডলার।
এখনকার রিপোর্ট অনুযায়ী, গত এক দশকেরও কম সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ঋণ দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন প্রথমবার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন, তখন দেশটির মোট ঋণ ছিল প্রায় ১৯ দশমিক ৯৫ ট্রিলিয়ন ডলার। কিন্তু এরপরের সময়ের মধ্যে ঋণ বেড়ে গেছে প্রায় ২০ ট্রিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বৃদ্ধি ঘটেছে করোনাভাইরাস মহামারির সময়, যা মাত্র দুই বছরের মধ্যে হয়েছে। মহামারি মোকাবিলায় বিপুল পরিমাণ সরকারি ব্যয় ও ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে ট্রাম্প এবং তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন—এখন দুই প্রশাসনের ভূমিকা ছিল।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, দুই প্রেসিডেন্টের বিভিন্ন অর্থনৈতিক ও রাজস্বনীতি এবং দীর্ঘমেয়াদি কর ও সরকারি ব্যয়ের মধ্যে ভারসাম্যহীনতা বাকি ঋণ বৃদ্ধির পেছনে দায়ী।
কয়েক সপ্তাহ ধরে বাজেট পর্যবেক্ষক বিভিন্ন সংস্থা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়ানোর আশঙ্কার কথা প্রকাশ করে আসছিল। বর্তমানে আর্থিক পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তন না হলে দেশটি আরও বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়তে পারে বলে তারা সতর্ক করেছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ক্রমবর্ধমান ঋণ এবং সর্বশেষ রেকর্ড মাইলফলকটি ইতোমধ্যে আমেরিকানদের অর্থনৈতিক অবস্থার ওপর প্রভাব ফেলছে। এর ফলে মর্টগেজ ও গাড়ির মতো জিনিসের জন্য ঋণের খরচ বাড়ছে, এবং বিনিয়োগের জন্য কম অর্থ হাতে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর মজুরি কমছে, সেইসঙ্গে পণ্য ও পরিষেবার দামও বাড়ছে।
দলনিরপেক্ষ সংস্থা কমিটি ফর আ রেসপনসিবল ফেডারেল বাজেটের (CRFB) প্রেসিডেন্ট মায়া ম্যাকগিনিয়াস বলেন, ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের ঋণ শুধুমাত্র সরকারের হিসাবের খাতায় সীমাবদ্ধ নয়; এর প্রভাব পুরো অর্থনীতিতে পড়ে এবং সাধারণ মানুষের ওপরও গিয়ে পড়ে।
তিনি আরও বলেন, যে পরিমাণ ঋণ সরকার নেবে, মূল্যস্ফীতির চাপ ততই বাড়বে। একই সঙ্গে বাজেটের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতে ব্যয়ের সুযোগ কমে যাবে এবং দেশের অভ্যন্তরীণ জরুরি পরিস্থিতি কিংবা বিদেশে অস্থিতিশীলতার সময় যুক্তরাষ্ট্র আরও ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে।
ম্যাকগিনিয়াস আরও বলছেন, মাত্র পাঁচ মাসেরও কম সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ ৩৯ ট্রিলিয়ন থেকে ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। গত ২০ বছরেরও কম সময়ে দেশটির ঋণ প্রায় চারগুণ হয়েছে। অথচ প্রথমবার ১ ট্রিলিয়ন ডলারের ঋণ হতে যুক্তরাষ্ট্রের সময় লেগেছিল ১৯৮১ সাল পর্যন্ত।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সরকারি বন্ডের সুদও বাড়ছে। সম্প্রতি ২৫ বিলিয়ন ডলারের ৩০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ড নিলামে ২০২১ সালের পর সর্বোচ্চ সুদে বিক্রি হয়েছে।
এর কিছুদিন পর, মঙ্গলবার দীর্ঘমেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সুদ প্রায় দুই দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিপুল পরিমাণ সরকারি বন্ড বাজারে ছাড়ার কারণে বিনিয়োগকারীরা বেশি ঝুঁকি নিয়ে বিনিয়োগের জন্য বাড়তি মুনাফা দাবি করছেন।
বন্ডের দাম ও সুদের হার সাধারণত বিপরীতমুখী থাকে। অর্থাৎ বন্ডের চাহিদা কমলে দাম কমে এবং এর ফলে সুদের হার বেড়ে যায়।
এই পরিস্থিতিতে দীর্ঘমেয়াদি বন্ডের সুদ কমানোর লক্ষ্যে বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছেন। তিনি ঘোষণা করেছেন, ১০ থেকে ৩০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ড পুনঃক্রয় বা বাইব্যাক কার্যক্রমের আকার দ্বিগুণ করা হবে। প্রতিটি কার্যক্রমে অন্তত ৪ বিলিয়ন ডলারের বন্ড পুনঃক্রয় করা হবে।
দীর্ঘমেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের সুদ উঠলে এর প্রভাব সরাসরি সাধারণ মানুষের ঋণের খরচেও পড়বে। বিশেষ করে বাড়ি কেনার বন্ধকী ঋণ, গাড়ির ঋণ এবং ব্যবসায়িক ঋণের সুদের হার বেড়ে যেতে পারে।
অর্থনীতিবিদরা আশঙ্কা ব্যক্ত করেছেন, সরকারি ঋণ ও সুদ পরিশোধের বাড়তি ব্যয় এবং দীর্ঘমেয়াদি বাজেট ঘাটতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে ভবিষ্যতে আরও গভীর আর্থিক সংকটে নিমজ্জিত হতে পারে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন