প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার নিমচা মৈত্রী স্ট্রিটের এম আলম বাজার এলাকার বাসিন্দা প্রবীর মন্ডলের মরদেহ, প্রায় পাঁচ বছর ধরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গের হিমঘরে পড়ে রয়েছে। ২০২১ সালের নভেম্বরে তার মৃত্যুর পর, পরিবারের অনাগ্রহ এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় মরদেহটি এখনও স্বজনদের কাছে হস্তান্তর বা দাফনের ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি।
প্রবীর মন্ডলের বাবার নাম মহাদেব মণ্ডল। প্রবীরের ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ফেসবুকে বাংলাদেশের এক নারীর সঙ্গে পরিচয় হয়। পরে তাদের গভীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই সময় প্রবীর মন্ডলের বয়স ছিল ৪০ বছর।
দুই মাস পর, অর্থাৎ নভেম্বরে, প্রবীর প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রামে আসেন। সেখানে আজিজুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে অবস্থানকালে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। স্থানীয়রা তাকে পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। ২০২১ সালের ১০ নভেম্বর এ ঘটনার কারণে একটি মেডিকেল লিগ্যাল বোর্ড গঠন করা হয়। বোর্ডের সভাপতিত্ব করেন ডা. রাজিকুল ইসলাম। সদস্য হিসেবে ছিলেন ডা. মাসুম আল আরিফিন ও ডা. ইরফাত সারমিন। সেই থেকেই মরদেহটি হাসপাতালের মর্গের হিমঘরে সংরক্ষিত রয়েছে।
লালমনিরহাট জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার পুলিশ সুপার ২০২২ সালের ১৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশ পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের অতিরিক্ত ডিআইজিকে পাঠানো এক চিঠিতে বলেন, ''তখনই মরদেহে পচন ধরার লক্ষণ দেখা দিয়েছিল।'' একই চিঠিতে বিজিবির মাধ্যমে বিএসএফের সঙ্গে পতাকা বৈঠক করে মরদেহ ভারতে হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়ার সুপারিশ করা হলেও, প্রায় পাঁচ বছরেও তা বাস্তবায়িত হয়নি।
ঘটনার পর পাটগ্রাম থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়। তবে মামলার বর্তমান অগ্রগতি সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, প্রবীর মণ্ডলের পোশাক থেকে একটি ভারতীয় পাসপোর্ট উদ্ধার করা হয়। পাসপোর্টের তথ্য জানিয়েছে, তিনি ২০১৭ সালের ৩ মার্চ তিন মাসের ভ্রমণ ভিসায় বাংলাদেশে এসেছিলেন এবং ২০১৮ সালের ১৬ মার্চ বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে ভারতে ফিরে গেছেন। কিন্তু এরপর কীভাবে তিনি আবার বাংলাদেশে প্রবেশ করেছিলেন, সে বিষয়ে কোনো তথ্য নথিতে উল্লেখ নেই।
সরকারিভাবে মৃত্যুর পরপরই তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু হয়। নিহতের ছোট ভাই সুবীর মণ্ডলকে মরদেহ গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানানো হলেও, আইনি জটিলতা ও পারিবারিক অনাগ্রহের কারণে বিষয়টি এগোয়নি।
রংপুরের জেলা প্রশাসক রুহুল আমীন জানান, পরিবারের অনাগ্রহের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে মরদেহটির দাফনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন