প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
সিরিজ জয়ের উদ্দেশ্যে আগামীকাল ম্যাকাইয়ের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট খেলতে নামবে বাংলাদেশ দল। প্রথম টেস্টে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে পরাজিত করে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে আছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশের কাছে সিরিজ হার এড়াতে অস্ট্রেলিয়ার কাছে জয়ের বিকল্প নেই।
দ্বিতীয় টেস্টটি বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টায় শুরু হবে। পূর্বের ডারউইনের মাঠে অনুষ্ঠিত প্রথম টেস্টে বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দাপট দেখিয়ে জয়লাভ করেছে ৯ উইকেটে। এই জয় দ্বারা টাইগাররা টেস্টের ইতিহাসে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম জয়ের স্বাদ পায়। এই জয়ের ফলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় সিরিজ জয়ের স্বপ্ন দেখছে নাজমুল ইসলাম শান্তের দল।
প্রথম টেস্টে জয়লাভের ফলে বাংলাদেশের সিরিজ হারার কোনো সুযোগ নেই অস্ট্রেলিয়ার। এমনকি অস্ট্রেলিয়া যদি এই টেস্ট জিতেও যায় এবং সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ হয়, তবুও বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে এই সিরিজের ফলাফল সেরা হিসেবে বিবেচিত হবে।
অস্ট্রেলিয়া নিজেদের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করতে চাপে থেকে দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে নামবে। যদি বাংলাদেশ সিরিজ হারায়, তাহলে ১৩৯ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো ঘরের মাঠে ‘হোয়াইটওয়াশ’ বা প্রতিপক্ষের কাছে সিরিজের সব ম্যাচ হারের কলঙ্কের সম্মুখীন হবে তারা। সর্বশেষ ১৮৮৭ সালে ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডের কাছে দুই ম্যাচের সিরিজে অস্ট্রেলিয়া হোয়াইটওয়াশ হয়েছিল।
দলের ব্যাটিং ইউনিটের জন্য দ্বিতীয় টেস্টকে বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন বাংলাদেশের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। এরকম বিশ্বসেরা বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে রান করে আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধির সেরা সময় বর্তমানে।
বাংলাদেশের ব্যাটারদের জন্য আবারও একটি কঠিন চ্যালেঞ্জ এবার তৈরি করতে চলেছেন অস্ট্রেলিয়ার পেস-ত্রয়ী প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক ও জশ হ্যাজলউড এবং স্পিনার নাথান লায়ন। শান্ত মনে করেন, এই শক্তিশালী বোলিং আক্রমণের মুখোমুখি হওয়া দলের জন্য আশা এবং সুযোগ।
দ্বিতীয় টেস্টকে সামনে রেখে শান্ত আজ সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে, এখানে আসার আগে থেকেই আমি এমন বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে মোকাবিলা করতে চেয়েছিলাম। আমি বিশ্বাস করি, যদি আমরা এ ধরনের বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে রান করতে পারি, তাহলে যেকোনো প্রতিদ্বন্দ্বী বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে রান করা সম্ভব।’
ডারউইনে অনুষ্ঠিত প্রথম টেস্টের সময়ে বাংলাদেশ দুর্দান্ত ব্যাটিং নৈপুণ্য প্রদর্শন করে। প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার ১৯৮ রানের জবাবে ৪২৬ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। ফলে ২২৮ রানের বড় লিডে জয়লাভের পথ সুগম হয় বাংলাদেশের জন্য।
ম্যাকাইতে ধারাবাহিকতা বজায় রেখে সিরিজ জয়ের স্বাদ লাভ করতে চায় বাংলাদেশ। শান্ত বলেছেন, ব্যাটিং ইউনিট হিসেবে এটি আমাদের জন্য একটি বড় সুযোগ এবং চ্যালেঞ্জ। এই ধরনের দলের বিপক্ষে রান করলে ভবিষ্যতে একই ধরনের কন্ডিশনে স্বরূপ আরও আত্মবিশ্বাস অর্জন করা সম্ভব।
ডারউইনের চেয়ে ম্যাকাইয়ের উইকেটের ব্যাপারে শান্ত মনে করেন, এখানে বাউন্স বেশি থাকবে। কিন্তু দ্বিতীয় টেস্টের জন্য দল পুরোপুরি প্রস্তুত বলে উল্লেখ করেন তিনি।
শান্ত বলেন, ‘আমার ধারণা, ডারউইনের তুলনায় এখানে বল কিছুটা বেশিই বাউন্স করবে। এখানে আসার আগেই আমরা এমন বাউন্সি উইকেটের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। এছাড়া, এখানে আসার আগে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আমাদের একটি সিরিজ ছিল, যেখানে উইকেটগুলো প্রায় একই রকম ছিল।’
সাম্প্রতিক নেট সেশনে বাড়তি বাউন্সের সাথে মোকাবিলা করতে অনুশীলন করে বাংলাদেশের ব্যাটাররা। তাই ম্যাকাই টেস্টের আগে টাইগারদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পাচ্ছে।
শান্ত বলেন, ‘আমি মনে করি, গত কয়েক দিনের নেট সেশনে ব্যাটাররা তাদের দক্ষতা নিয়ে কাজ করেছে। আমার বিশ্বাস, তারা বাড়তি বাউন্স সামলাতে সক্ষম হবে।’
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৭টি টেস্ট ম্যাচ খেলেছে। এর মধ্যে দুটিতে জয়ী হয়েছে টাইগাররা। ২০১৭ সালে মিরপুরে ২০ রান ও এবারের ডারউইনে জয়লাভ করেছে বাংলাদেশ।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশ পাঁচ টেস্ট ম্যাচে পরাজিত হয়েছে। ২০০৩ সালে বাংলাদেশ প্রথম অস্ট্রেলিয়া সফরে দুই টেস্ট খেলে ফেরত এসেছে। পাঁচ টেস্টের মধ্যে তিনটি ইনিংস ব্যবধানে পরাজিত হয়।
প্রথম টেস্টের জয়লাভের পর বাংলাদেশ একাদশে পরিবর্তন আনতে পারে। একাদশে স্থান পেতে পারেন বাঁ-হাতি পেসার শরিফুল ইসলাম। এদিকে, দ্বিতীয় টেস্টের জন্য ইতোমধ্যে অস্ট্রেলিয়া তাদের একাদশ ঘোষণা করেছে। ওপেনার জেক ওয়েদারল্ডের পরিবর্তে একাদশে সুযোগ পেয়েছেন ম্যাট রেনশ।
অস্ট্রেলিয়া একাদশ: ম্যাট রেনশ, ট্রাভিস হেড, মার্নাস লাবুশেন, স্টিভ স্মিথ, ক্যামেরন গ্রিন, অ্যালেক্স ক্যারি, বো ওয়েবস্টার, মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্স (অধিনায়ক), নাথান লায়ন ও জশ হ্যাজলউড।
বাংলাদেশ দল: নাজমুল হোসেন শান্ত (অধিনায়ক), মেহেদি হাসান মিরাজ (সহ-অধিনায়ক), সৌম্য সরকার, সাদমান ইসলাম, তানজিদ হাসান, মোমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম, অমিত হাসান, তাইজুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ, হাসান মাহমুদ, সৈয়দ খালেদ আহমেদ, এবাদত হোসেন, লিটন দাস ও শরিফুল ইসলাম।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন