প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
মুমিনদের জীবনে দোয়ার গুরুত্ব অপরিসীম। হাদিসে দোয়াকে ইবাদতের মগজ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহর কাছে বান্দার চাওয়া-পাওয়া, বিপদ থেকে মুক্তি কিংবা কল্যাণের আকাঙ্ক্ষা সবকিছুই দোয়ার মাধ্যমে প্রকাশ পায়। তাই মুসলমানদের দোয়া করার প্রতি উৎসাহিত করা হয়েছে।
তবে অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে, "দোয়া করি, কিন্তু কবুল হয় না কেন?" ইসলামী শরিয়তে দোয়া কবুল হওয়ার ক্ষেত্রে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মেনে চলার কথা বলা হয়েছে। সেগুলো হলো-
১. নিষ্ঠার সঙ্গে দোয়া না করা
দোয়ার সময় আল্লাহর প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস ও আন্তরিকতা থাকা অপরিহার্য। শিরক থেকে বিরত থেকে নিজের অক্ষমতা ও দুর্বলতা স্বীকার করে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর কাছে চাইতে হবে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, "তোমরা একনিষ্ঠচিত্তে দোয়া করো।" (সুরা গাফির: ১৪)
২. তওবা না করা
মানুষ ভুল-ত্রুটির ঊর্ধ্বে নয়। নিজের অন্যায় স্বীকার করে আন্তরিকভাবে তওবা করা এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া দোয়া কবুলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। কোরআনে হজরত মুসা (আ.) এর তওবা এবং হজরত নুহ (আ.) এর ক্ষমা প্রার্থনার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। (সুরা কাসাস: ১৬, সুরা নুহ: ১০-১২)
৩. আল্লাহর আনুগত্যে ত্রুটি থাকা
আল্লাহর অবাধ্যতা ও আনুগত্যে গাফিলতি বান্দার জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে। কোরআনে নবী-রাসুলদের আল্লাহর প্রতি বিনীতভাবে ফিরে আসা এবং তাঁর আনুগত্যের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে। (সুরা আম্বিয়া: ৮৯-৯০)
৪. বিনম্রচিত্তে দোয়া না করা
দোয়ার সময় মনকে আল্লাহর দিকে নিবিষ্ট রাখতে হবে। বিক্ষিপ্ত মন নিয়ে কিংবা দোয়ার প্রতি যথাযথ মনোযোগ না দিয়ে দোয়া করা থেকে বিরত থাকা উচিত। হাদিসে দোয়ার ক্ষেত্রে আন্তরিকতা ও মনোযোগের গুরুত্ব এসেছে। (সহিহ মুসলিম: ২৭২২)
৫. নিজের অভাব ও দুর্বলতা প্রকাশ না করা
দোয়া মূলত সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে বান্দার নিজের অসহায়ত্ব ও প্রয়োজনের কথা তুলে ধরা। তাই বিনয়ের সঙ্গে, মিনতি করে এবং নিচু স্বরে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা উচিত। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, "তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে বিনীতভাবে ও গোপনে ডাকো।" (সুরা আরাফ: ৫৫)
৬. খাদ্য, পানীয় ও পোশাক হালাল না হওয়া
দোয়া কবুলের ক্ষেত্রে হালাল উপার্জন ও হালাল জীবনযাপনের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। সহিহ মুসলিমের একটি হাদিসে এমন এক ব্যক্তির কথা এসেছে, যে সফর করে ধূলিমলিন অবস্থায় আকাশের দিকে দুই হাত তুলে, "হে আমার প্রতিপালক" বলে দোয়া করছে। অথচ তার খাদ্য, পানীয় ও পোশাক হারাম এবং তার শরীর হারাম দিয়ে গঠিত। এরপর রাসুল (সা.) প্রশ্ন করেছেন, "এমন ব্যক্তির দোয়া কীভাবে কবুল হবে?" (সহিহ মুসলিম: ১০১৫)
এ ছাড়া গুনাহের কাজে দোয়া করা, আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করার জন্য দোয়া করা এবং দোয়া কবুলে তাড়াহুড়ো করাও পরিহার করতে বলা হয়েছে। রাসুল (সা.) এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন। (সহিহ মুসলিম: ২৭৪৫)
তাহলে দোয়া করার পাশাপাশি নিজের আমল, উপার্জন, খাদ্য-পানীয় ও জীবনযাপনের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে আন্তরিকভাবে দোয়া করতে হবে এবং কবুলে বিলম্ব হলে হতাশ না হয়ে ধৈর্য ধরতে হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন