প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ডেটে যাওয়ার পূর্বে পরিচ্ছন্ন পোশাক পরিধান, গোসল করা এবং সুগন্ধি ব্যবহার করা ছিল প্রচলিত প্রস্তুতির অংশ। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন একটি প্রবণতা এই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। এই প্রবণতার নামকরণ করা হয়েছে ‘ফেরোমোন ম্যাক্সিং’। অনুসারীদের দাবি, সুগন্ধি ব্যবহার না করে শরীরের স্বাভাবিক ঘামের গন্ধই যৌন আকর্ষণ বাড়াতে পারে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশেষ করে তরুণ পুরুষদের মধ্যে এই প্রবণতা নিয়ে আলোচনা বৃদ্ধি পেয়েছে। ‘ফেরোমোন ম্যাক্সিং’-এর ধারণা অনুসারে, ডেটে যাওয়ার আগে গোসল না করা, সুগন্ধি ব্যবহার না করা কিংবা ঘামে ভেজা পোশাক পরিধান করার মতো পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কিছু নেটপ্রভাবী এমনকি দাবি করেছেন যে, নিজের প্রস্রাব পান করলেও ফেরোমোন বৃদ্ধি পেতে পারে।
তবে এসব দাবির পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
ফেরোমোন কী?
ফেরোমোন হলো একটি রাসায়নিক সংকেত, যা প্রাণীরা নিজেদের শরীর থেকে পরিবেশে ছড়িয়ে দেয় এবং একই প্রজাতির অন্যান্য প্রাণীর আচরণে প্রভাব ফেলতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, পিঁপড়ার চলাচলের পথ নির্ধারণ কিংবা কিছু পতঙ্গের সঙ্গী খোঁজার ক্ষেত্রে এই ধরনের রাসায়নিক সংকেত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তবে মানুষের ক্ষেত্রে বিষয়টি এতটা সহজ নয়। বিজ্ঞানীরা এখনো কোনো নির্দিষ্ট রাসায়নিক যৌগ শনাক্ত করতে পারেননি, যা নিশ্চিতভাবে মানুষের ‘যৌন ফেরোমোন’ হিসেবে চিহ্নিত করা যায়। মানুষের শরীর থেকে নিঃসৃত কোনো পদার্থ অন্য মানুষকে যৌনভাবে আকৃষ্ট করে—এমন চূড়ান্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণও নেই।
কোথা থেকে এল এই ধারণা?
‘ফেরোমোন ম্যাক্সিং’-এর আলোচনায় ১৯৯৫ সালের একটি গবেষণার উল্লেখ প্রায়শই করা হয়। ওই গবেষণায় কিছু পুরুষের ঘামে ভেজা টি-শার্ট নারীদের শোঁকানো হয়েছিল। সেখানে কিছু নির্দিষ্ট পুরুষের শরীরের গন্ধ নারীদের তুলনামূলকভাবে বেশি পছন্দ হওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। গবেষণায় জিনগত পার্থক্যের সম্ভাব্য ভূমিকার কথাও আলোচনা করা হয়েছিল।
পরবর্তী সময়ে এ নিয়ে আরও গবেষণা হয়েছে। ২০২০ সালের একটি গবেষণাসহ পরবর্তী গবেষণাগুলো মানুষের আকর্ষণকে কেবল শরীরের গন্ধ বা নির্দিষ্ট কোনো ‘ফেরোমোন’-এর মাধ্যমে ব্যাখ্যা করার ধারণাকে প্রশ্নের সম্মুখীন করেছে।
শরীরের গন্ধ কি আকর্ষণে ভূমিকা রাখে?
শরীরের স্বাভাবিক গন্ধ মানুষের পছন্দ ও অপছন্দে কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে। পরিচিত কারো শরীরের গন্ধ ভালো লাগতে পারে, আবার কোনো গন্ধ অপছন্দও হতে পারে। গন্ধের সঙ্গে স্মৃতি ও আবেগের সম্পর্কও বিদ্যমান।
কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে, গোসল না করা বা দীর্ঘ সময় অপরিচ্ছন্ন থাকার মাধ্যমে যৌন আকর্ষণ বৃদ্ধি করা সম্ভব। বরং ঘাম, মৃত ত্বক, ময়লা ও জীবাণু জমে শরীরে দুর্গন্ধ তৈরি হতে পারে। প্রথম সাক্ষাতে তা আকর্ষণের পরিবর্তে বিরক্তি বা অস্বস্তির কারণও হতে পারে।
নিজের প্রস্রাব পান করার মতো পরামর্শের কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। বরং প্রস্রাব শরীরের বর্জ্য পদার্থ ও অতিরিক্ত পানি বের করে দেওয়ার একটি উপায়। এটিকে যৌন আকর্ষণ বাড়ানোর কৌশল হিসেবে ব্যবহার করার পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষের প্রেম বা আকর্ষণ কোনো একটি রাসায়নিক সূত্রে নির্ধারিত হয় না। ব্যক্তিত্ব, আত্মবিশ্বাস, অভিজ্ঞতা, পারস্পরিক যোগাযোগ, আচরণ, রসবোধ ও মানসিক সংযোগ সবকিছুই এতে ভূমিকা রাখতে পারে।
অতএব, ফেরোমোন ম্যাক্সিং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যতই আলোচিত হোক, ডেটে যাওয়ার আগে ইচ্ছাকৃতভাবে গোসল না করা বা অপরিচ্ছন্ন থাকার পক্ষে বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। স্বাভাবিক গন্ধ থাকা স্বাভাবিক, তবে পরিচ্ছন্নতা ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন