প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশকে ‘পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন’ রাখার জন্য দেশবাসীর সহযোগিতা চেয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশটাকে সুন্দর ও নিরাপদ, বাসযোগ্য করে গড়ে তুলতে সকলে মিলেই চেষ্টা করতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘যদি আমরা নিজের ঘর এবং দেশকে পরিষ্কার করতে না পারি, তাহলে এই দেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকবে না। বাইরে থেকে কেউ এসে আমাদের দেশকে পরিষ্কার করে দিয়ে যাবে না। দেশটাকে সুন্দর করতে হলে সকলে মিলেই চেষ্টা করতে হবে।’
আজ (সোমবার) সকালে বরিশালের গৌরনদীর সরিকল-বাটজোর খালপাড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। তিনি উপস্থিত গ্রামবাসীর উদ্দেশ্যে এ সহযোগিতা চান তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি দেশবাসীকে অনুরোধ জানাব, আসুন চেষ্টা করি কোথাও আবর্জনা ফেলতে না। আমাদের ব্যবহার করা কোনো জিনিস, বিশেষ করে পানির খালি বোতল, আমরা যেখানে-সেখানে ফেলতে পারি না। ধরুন, কোনো একটা প্যাকেটে করে আমরা কিছু নিয়ে যাচ্ছি। জিনিসটি বের করার পর প্যাকেটটির প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে গেলে সেটি যত্রতত্র ফেলে দিতে পারি না। এতে পরিবেশ নষ্ট হয়। আর যদি পরিবেশ নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে আমাদের সন্তানেরাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’
নিজের ব্যবহৃত টিস্যু পকেটে রেখে দেওয়ার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার পকেটে হাত দিলে টিস্যু বের হবে। একটু আগে মাটি ধরে হাত ধুয়ে ব্যবহার করেছি এই টিস্যু, তারপর সেটিকে পকেটেই রেখে দিয়েছি। এখানে যদি টিস্যুটি ফেলতাম, তাহলে আপনাদের যা বলছি সেটি আমি নিজেই তো মেনে চললাম না।’
তিনি আরো বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই অভ্যাস করে নিয়েছি, যখন আমি টিস্যু ব্যবহার করি, সেটি পকেটের মধ্যে রেখে দিই। আমার যেকোনো প্যান্টের পকেটে হাত দিলেই ব্যবহার করা এমন টিস্যু বের হয়ে আসবে।’
তারেক রহমান বলেন, ‘সারাদিনে ব্যবহৃত টিস্যু প্রায়ই প্যান্টের পকেটে জমা হয়। রাতে বাসায় ফিরে ডাস্টবিনে বা ময়লা ফেলার নির্দিষ্ট স্থানে সেগুলো ফেলে দিই। এই কাজটি সবসময় করার চেষ্টা করেছি। এভাবেই আস্তে আস্তে আমি এই অভ্যাসটি গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যদি আমরা আজ থেকেই চেষ্টা করতে পারি তাহলে সকলে মিলেই এই অভ্যাসটি গড়ে তুলতে সক্ষম হব। এতে করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন একটি দেশ গড়ে তুলতে পারব, যেখানে পরিবেশটাও সুন্দর হবে। সেই দেশ দেখে সবাই প্রশংসা করবে। নিজেদের দেশের মানুষ যেমন প্রশংসা করবে, তেমনি বিদেশিরা বলবে যে, বাংলাদেশ একটি পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর দেশ। বাংলাদেশের মানুষ তাদের নিজেদের দেশটাকে গুছিয়ে রেখেছে, পরিচ্ছন্ন রেখেছে।’
গৌরনদীর সরিকল-বাটজোর খালপাড়ে দাঁড়িয়ে তিনি দুটি প্লাস্টিকের বোतল ভাসতে লক্ষ্য করেন।
তিনি এ বিষয়ে সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ‘দেখুন, খালের পানিতে প্লাস্টিকের বোতল ভাসছে। আপনার বাড়িতে যদি পাঁচ-সাতজন ব্যক্তি থাকে, তাদের মধ্যে একজন যদি সারাদিন বাড়ি পরিষ্কার করে আর বাকি সবাই ময়লা করে তাহলে ওই বাড়ি পরিষ্কার রাখা সম্ভব নয়। গুছিয়ে রাখা সম্ভব নয়। দেশটাও তো ঘরের মতোই। মাত্র কয়েকজন যদি পরিষ্কার করে আর সবাই নোংরা করতে থাকে তাহলে এই দেশটাকেও পরিচ্ছন্ন রাখা অসম্ভব। আমাদের সকলকে মিলেই পরিষ্কার রাখতে হবে। নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা-আবর্জনা ফেলতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যদি চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ময়লা ফেলি তাহলে একদিকে দেখতে খারাপ লাগবে এবং অন্যদিকে পরিবেশ নোংরা হবে। যখন আপনি বাসে করে বিভিন্ন জায়গায় যান, বরিশাল সদরে বা ঢাকায়, তখন দেখবেন বাজারে এবং দোকানের চারপাশে বিভিন্ন ধরনের আবর্জনায় ভরা। ময়লা দেখতে কার ভালো লাগে? তাছাড়া পরিবেশ নোংরা হয়ে যায় এবং দূষণ বাড়ে। এসব দূষণে আমাদের স্বাস্থ্যের ক্ষতি হয়। তাই আসুন আমরা সবাই মিলে দেশের সুন্দর গড়ে তুলি।’
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর, সুস্থ দেশ গড়তে সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, ‘আসুন আজকের এই বৃক্ষরোপণের দিনে আমরা সকলে মিলে প্রতিজ্ঞা করি যে, আমরা প্রত্যেকটি মানুষ নিজ অবস্থান থেকে যতটুকু সম্ভব চেষ্টা করব। আমাদের আশপাশের পরিবেশের প্রতি যত্ন নেব। চেষ্টা করব আশপাশের ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট যতটুকু সম্ভব পরিচ্ছন্ন রেখে পরিবেশ রক্ষা করতে।’
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন