প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
একটি শিশুর জন্য যে বয়সটি হল মায়ের বুকের উষ্ণতা, মমতার স্পর্শ এবং নিরাপদ আশ্রয়ের, সে বয়সেই আজ সাত মাসের একটি শিশু হাসপাতালের একটি শয্যায় নির্বাক অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ছোট দুটি হাত নেড়ে, কান্নাভেজা চোখে যেন সে খুঁজে ফিরছে তার মাকে। কিন্তু যে তার মা, সেই মানুষটি তাকে ফেলে চলে গেছেন, এই অভিযোগে সবার মন ভারী হয়ে উঠেছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়া উপজেলার খরমপুর কেল্লা বাবা (রহ.) মাজার প্রাঙ্গণে হৃদয়বিদারক এ ঘটনাটি ঘটেছে।
স্থানীয় সূত্র থেকে এ তথ্য জানা যায় যে, গত ২৩ জুলাই মাজার প্রাঙ্গণে একটি সাত মাস বয়সী ছেলে শিশুকে অসহায় অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসেন। পরে বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা বিভাগকে জানানো হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাপসী রাবেয়া এবং সমাজসেবা কর্মকর্তা নরুল ইসলাম চৌধুরী গিয়ে শিশুটির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
শিশুটিকে পরে আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে হাসপাতালের চিকিৎসক এবং নার্সদের তত্ত্বাবধানে শিশুটির চিকিৎসা চলছে। তার শারীরিক অবস্থা নিয়মিত পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
এ ঘটনার ফলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একটি শিশুকে এভাবে পরিত্যক্ত অবস্থায় রেখে যাওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও বেদনার সঞ্চার হয়েছে। অনেকেই শিশুটির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করেছেন।
এদিকে, এই নির্মম ঘটনার মধ্যেও মানবতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন উপজেলা প্রশাসন, সমাজসেবা বিভাগ এবং হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সরা। তারা শিশুটির নিরাপদ আশ্রয় এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা করে মানবিক দায়িত্ব পালন করেছেন।
হাসপাতালের দায়িত্বরত নার্সরা জানায় যে, শিশুটিকে দত্তক নিতে ইতোমধ্যে অনেকে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। কুমিল্লার হোমনা উপজেলার বাসিন্দা ফাতেমা বেগম বলেন, "খবর পাওয়ার পরেই হাসপাতালে এসে হাজির হয়েছি। আমার একটি ছেলে আছে। এ শিশুটিকে দত্তক নিতে চাই।" তিনি জানান যে দুই দিন ধরে তিনি হাসপাতালে আসছেন এবং শিশুটির খবর রাখছেন ও তার সঙ্গেই সময় কাটাচ্ছেন।
আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র স্টাফ নার্স সানজিদা মাহমুদ বলেন, "শিশুটি বর্তমানে আমাদের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। নিয়মিত চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়া হচ্ছে। তার শারীরিক অবস্থা মনিটর করা হচ্ছে।" তিনি বলেন, "অনেকেই শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, তবে এ বিষয়ে সরকার নির্ধারিত আইন ও সমাজসেবা বিভাগের প্রক্রিয়া অনুসরণ করা দরকার।"
আখাউড়া উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা নরুল ইসলাম চৌধুরী জানান, "খবর পাওয়ার পরেই ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটির দায়িত্ব গ্রহণ করি। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে সমাজসেবা বিভাগের তত্ত্বাবধানে শিশুটির সার্বিক বিষয় দেখা হচ্ছে। আইন অনুযায়ী পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
ইউএনও তাপসী রাবেয়া বলেন, "খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শিশুটিকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছে। আমরা হাসপাতালে গিয়ে শিশুটির খোঁজ নিয়েছি এবং তার সার্বিক বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন