প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ভারত বাংলাদেশের সীমান্তের কাছে অবস্থিত ‘শিলিগুড়ি করিডোর’ বা ‘চিকেনস নেক’-এ নতুন একটি মহাসড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা করছে। এই অঞ্চলে প্রধান ধমনীতুল্য জাতীয় সড়ক ২৭-এর সমান্তরালে ৩১ কিলোমিটার দীর্ঘ, চার লেনের নতুন হাইওয়ে নির্মাণের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার প্রায় ২ হাজার কোটি রুপি বরাদ্দ করেছে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
‘শিলিগুড়ি করিডোর’ বা ‘চিকেনস নেক’ সড়কপথে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম। নেপাল ও বাংলাদেশ দ্বারা বেষ্টিত এবং চীন ও ভুটান সীমান্তের নিকটবর্তী এই সংকীর্ণ ভূখণ্ডটি ভারতের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
ভারতের কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রী নিতিন গড়করি ফেসবুকে একটি বার্তায় জানিয়েছেন, নতুন হাইওয়ে নির্মাণের জন্য মোট ২০৭৭.১৮ কোটি রুপি অনুমোদন করা হয়েছে। ৩১.০২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটি জাতীয় সড়ক ৩২৭ নামে পরিচিত হবে, যা পানিটাঙ্কি ও খড়িবাড়ি হয়ে বাগডোগরা থেকে বিহারের গলগলিয়াকে সংযুক্ত করবে এবং জাতীয় সড়ক ২৭ থেকে ২০-৩০ কিলোমিটার দূরত্ব বজায় রেখে সমান্তরালে চলবে।
শিলিগুড়ি করিডোরটি ৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ, তবে এর সবচেয়ে সংকীর্ণ স্থানে এর প্রস্থ মাত্র ২০-২২ কিলোমিটার। মন্ত্রী গড়করি এই প্রকল্পের গুরুত্ব উল্লেখ করে লিখেছেন, "কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডোরে অবস্থিত এই প্রকল্পটি উত্তর-পূর্ব ভারতের সংযোগকে জোরদার করবে এবং নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশের দিকে যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নতি ঘটাবে।"
তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, চার লেনের এই মহাসড়ক চালু হলে বাগডোগরা, নকশালবাড়ি, খড়িবাড়ি ও পানিটাঙ্কির যানজট কমবে। এটি বাগডোগরা বিমানবন্দর ও অঞ্চলের প্রধান কেন্দ্রগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ উন্নত করবে এবং কৃষি, উদ্যানপালন, চা ও অন্যান্য স্থানীয় পণ্যের দ্রুত বাজারজাতকরণ নিশ্চিত করবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রকল্পটির অধীনে তিনটি বড় সেতু, একটি রোড ওভারব্রিজ, পাঁচটি হাতি চলাচলের জন্য বিশেষ আন্ডারপাস এবং হাইওয়ের উভয় পাশে সার্ভিস রোড নির্মাণ করা হবে। কার্শিয়াং বন বিভাগের আওতাধীন বেশকিছু এলাকা হাতির প্রধান পারাপার অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত হওয়ায় এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যা দ্রুতগামী যানবাহনের ধাক্কায় বন্যহাতির প্রাণহানি ও আহত হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমাবে।
সাম্প্রতিক সময়ে, বিশেষ করে ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে শিলিগুড়ি করিডোরে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও অবকাঠামো জোরদার করতে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর আগে, বারাণসী থেকে নিউ জলপাইগুড়ি (এনজেপি) পর্যন্ত একটি হাই-স্পিড রেলওয়ে করিডোর, শিলিগুড়ির কাছে ৩৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ভূগর্ভস্থ রেললাইন এবং মালদা থেকে নিউ জলপাইগুড়ি পর্যন্ত চতুর্থ রেললাইন পাতার অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।
প্রতিরক্ষা ও আঞ্চলিক বিশেষজ্ঞদের মতে, জাতীয় সড়ক ২৭-এর বিকল্প ও সমান্তরাল একটি নতুন চার লেনের মহাসড়ক নির্মাণের ফলে এই কৌশলগত অঞ্চলে ভারতের প্রতিরক্ষা পরিবহন ও পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা সুরক্ষিত হবে। পাশাপাশি এতে ভারতের উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক অবকাঠামোও শক্তিশালী হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন