প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র এক বছর পর ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া সিভিরিদেঙ্কো এর পদত্যাগপত্র অনুমোদন করেছে দেশটির পার্লামেন্ট। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি নতুন প্রধানমন্ত্রীর নাম এখনও ঘোষণা করেননি, ফলে মন্ত্রিসভার এই পরিবর্তনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিরোধী আইনপ্রণেতারা প্রশ্ন তুলেছেন।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) পার্লামেন্টে ৪০ বছর বয়সী অর্থনীতিবিদ ইউলিয়া সিভিরিদেঙ্কোর পদত্যাগপত্র গ্রহণের প্রস্তাব পাস হয়েছে। তবে নতুন প্রধানমন্ত্রী কে হবেন, সে বিষয়ে এখনো কিছু জানানো হয়নি। এই কারণে পরিবর্তনের লক্ষ্য কী, তা স্পষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেছেন বেশ কিছু আইনপ্রণেতা।
বিদায়ী ভাষণে ইউলিয়া সিভিরিদেঙ্কো বলেন, চলতি বছরের প্রতিটি দিনই কঠিন সিদ্ধান্ত ও দৃঢ় পদক্ষেপের দাবিদার। তিনি তাঁর প্রতি সমর্থন ও আস্থা প্রদানের জন্য সকলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি আরো উল্লেখ করেন, "আপনারা জানেন, আমি সব সময়ই বিশ্বাস করেছি— সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ফলাফল।"
সাদা পোশাক পরে পার্লামেন্টে দেওয়া ওই ভাষণে তিনি জানান, নতুন সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে শীতকাল মোকাবিলা করা। এটি অত্যন্ত জরুরী, কারণ ইউক্রেনের বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থা ও গ্যাস অবকাঠামোর ওপর রাশিয়ার হামলা ক্রমশ বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিরোধী আইনপ্রণেতা ওলেক্সি হনচারেঙ্কো বলেন, সরকারকে কেন বিদায় দেওয়া হচ্ছে, তা সুনির্দিষ্টভাবে ব্যাখ্যা করতে পারছে না কেউ। আরেক বিরোধী আইনপ্রণেতা কিরা রুদিক মন্তব্য করেন, নতুন সরকার পূর্ববর্তী সরকারের চেয়ে খুব বেশি ভিন্নভাবে কাজ করবে বলে তাঁর আশা নেই।
এই সময় ইউক্রেনে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে, যদিও ইউলিয়ার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই। সমালোচকরা বলছেন, তিনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে যথেষ্ট কঠোর ব্যবস্থা নেননি।
বিরোধী দল হলোসের আইনপ্রণেতা ইয়ারোস্লভ ঝেলেজনিয়াক বিদায়ী সরকারের সমালোচনা করে বলেন, "আমাদের প্রতিদিন ফলাফলের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। সরকার সেই প্রতিশ্রুতি রেখেছে— প্রতিদিন উপস্থাপনা, প্রতিদিন সম্মেলন এবং প্রতিদিন দুর্নীতির মামলায় নতুন একজন সন্দেহভাজনের নাম।"
আইনপ্রণেতাদের ধারণা, রাষ্ট্রায়ত্ত তেল ও গ্যাস কোম্পানি নাফতোগ্যাসের প্রধান সেরহি কোরেৎসকিই নতুন প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন। এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার পার্লামেন্টে ভোট হওয়ার কথা রয়েছে।
মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের ঘোষণা দেওয়ার পর জেলেনস্কি কোরেৎসকি এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভের সঙ্গে বৈঠক করেন। ফেদোরভকে সরানো হলে সেটি একটি বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হবে, কারণ চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধে রাশিয়ার অভ্যন্তরে দূরপাল্লার হামলার সক্ষমতা বাড়ানোর কৌশলে কিয়েভ জোর দিচ্ছে।
অন্যদিকে, ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী মূলত অভ্যন্তরীণ নীতিনির্ধারণের দায়িত্বে থাকেন। যুদ্ধকালীন অর্থনীতি পরিচালনা, রুশ হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্গঠন এবং পশ্চিমা দাতাদের চাওয়া অর্থনৈতিক সংস্কার এগিয়ে নেওয়া তার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।
ইউলিয়া সরকারের মেয়াদকালে, ইউক্রেনকে কঠিন শীত মোকাবেলা করতে হয়েছে। রাশিয়ার ধারাবাহিক হামলায় জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সরকার সাধারণ মানুষের জন্য বিদ্যুৎ ও তাপের ব্যবস্থা সচল রাখার চেষ্টা করেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের সঙ্গে জটিল সম্পর্কও সামাল দিতে হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) যোগদানের লক্ষ্যে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা শুরু করেছে ইউক্রেন।
যুদ্ধ চলাকালে নির্বাচন নিষিদ্ধ রাখায় রাজনৈতিক পরিবর্তনের বার্তা দেওয়ার জন্য জেলেনস্কির হাতে মন্ত্রিসভা পুনর্গঠন কার্যত প্রধান উপায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কিয়েভভিত্তিক ইউরোপিয়ান পলিসি ইনস্টিটিউটের নীতিবিষয়ক ফেলো লেসিয়া বিদোচকোর মতে, এ ধরনের রদবদল দেখিয়ে দেয় প্রেসিডেন্টকে কেন্দ্র করে অতিমাত্রায় কেন্দ্রীভূত প্রশাসনিক ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা। যেহেতু যুদ্ধের শুরুতে এটি কার্যকর ছিল, এখন এর কার্যকারিতা ক্রমেই কমে আসছে।
তিনি বলেন, ‘এই রদবদলের আসল পরীক্ষা হবে, জেলেনস্কি নতুন মন্ত্রী নিয়োগ দেন কি না; বরং তাদের কার্যকরভাবে কাজ করার জন্য তিনি যথেষ্ট ক্ষমতা অর্পণ করতে প্রস্তুত কি না।’
এর আগে বিভিন্ন মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনে জেলেনস্কি একই ব্যক্তিদের ভিন্ন ভিন্ন পদে দায়িত্ব দিয়েছেন। যেমন ইউলিয়ার পূর্বসূরি ড্যানিস শিমহাল এক বছর আগে প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়ার পর প্রথমে প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং পরে জ্বালানিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন