প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে দুটি মাদরাসায় চরম বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। এই উপজেলার আলগী বালিকা দাখিল মাদরাসা ও মধ্য বড় শৌলা ইসলামীয়া দাখিল মাদরাসা থেকে এবারের পরীক্ষায় কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। এর মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠানের ১০ পরীক্ষার্থীর ৯ জনের বাল্যবিয়ে পরীক্ষার আগে ঘটে গেছে। অন্যদিকে, সিসি ক্যামেরার ভয়ে ১০ পরীক্ষার্থীর ৬ জন পরীক্ষা দেয়নি বলে জানিয়েছেন মাদরাসার সুপার।
আলগী বালিকা দাখিল মাদরাসার সূত্র অনুসারে, এ বছর ১০ শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণ করেছিল। তবে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে মাত্র একজন শিক্ষার্থী। প্রতিষ্ঠানটির সুপার হারুন অর রশীদ জানান, কারণ হিসেবে জানান, পরীক্ষার আগেই ৯ ছাত্রীর বিয়ে হয়ে যাওয়ার ফলে তারা আর পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত, একমাত্র পরীক্ষার্থীও ইতিহাস পরীক্ষার দিন অসুস্থ হয়ে পড়ায় অকৃতকার্য হয়েছে।
অন্যদিকে, মধ্য বড় শৌলা ইসলামীয়া দাখিল মাদরাসায় ১০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে বৃহত্তর অংশ নিয়েছে চারজন। কিন্তু বাকি ছয়জন পরীক্ষায় দ্রুত অনুপস্থিত ছিল। অংশ নেয়া চারজনের কেউই পাস করতে পারেনি।
মাদরাসাটির সুপার মাওলানা নাসরুল্লাহ জানিয়েছেন, পরীক্ষা কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরার স্থাপনার খবর পাওয়ার পর ছয়জন পরীক্ষার্থীর ভয়ে পরীক্ষা দখল থেকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন করেছে। এদিকে, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষক সংকট রয়েছে। ১০ বছর ধরে বাংলা এবং তিন বছর ধরে ইংরেজি শিক্ষকের পদ শূন্য হয়ে রয়েছে। মোট ২১টি শিক্ষক-কর্মচারীর পদের মধ্যে ১২টি এখনো শূন্য রয়েছে।
স্থানীয় অভিভাবক ও বাসিন্দাদের অভিযোগ হচ্ছে, নিয়মিত তদারকির অভাবে, শিক্ষক সংকট এবং অনিয়মের কারণে গ্রামীণ এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার পরিবেশ দুর্বল হয়ে পড়ছে। তাদের মতে, শূন্য পদে দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ এবং কার্যকর নজরদারি না হলে শিক্ষার্থীদের ফলাফল আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক রফিকুজ্জামান আবির বলেন, শিক্ষক সংকট ও তদারকির অভাবের পাশাপাশি বাল্যবিয়ে রোধে প্রশাসনকে আরও কঠোর হতে হবে। পরীক্ষার আগে ৯ জন ছাত্রীর বিয়ে হওয়া উদ্বেগজনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এই বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন জানিয়েছেন, দুটি প্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষার্থী পাস না করার ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন