প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ব্যাংক খাতের অনিয়ম ও খেলাপি ঋণ সামাল দেওয়ার জন্য গভর্নর বা নীতিনির্ধারকদের ব্যক্তিগতভাবে লোভ-লালসার ঊর্ধ্বে থাকা এবং আর্থিক স্বাধীনতার পাশাপাশি সিদ্ধান্ত গ্রহণে রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা থাকা অত্যন্ত জরুরি, এ কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন। তিনি বলেছেন, কোনো রাজনৈতিক দলের দাসত্ব না করে এবং আল্লাহ ছাড়া কাউকে খাতির না করার মানসিকতা ছিল বলেই চাপ সত্ত্বেও তিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো খেলাপি ঋণ ২০ শতাংশ কমাতে সক্ষম হয়েছিলেন।
দেশের একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ফরাসউদ্দিন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে তার তিন বছরের অভিজ্ঞতা এবং নানা চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, জাতিসংঘের চাকরিসূত্রে আর্থিক সচ্ছলতা থাকার কারণে এবং পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো আর্থিক দাবি না থাকার ফলে তাকে কোনো অসাধু উপায়ে জড়াতে হয়নি। গভর্নর হিসেবে পাওয়া বেতনও তিনি নেননি, বরং তা দিয়ে দরিদ্র কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য একটি আবর্তক বৃত্তি তহবিল গড়ে তুলেছিলেন।
খাতটির খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন সাবেক এই গভর্নর, তিনি বলেন, তৎকালীন সময়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ পর্যন্ত প্রভাবশালী খেলাপি ঋণগ্রহীতার একটি তালিকা কাটার জন্য প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকেও সুপারিশ এসেছিল। তবে আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে তিনি সেই ঋণ কাটতে অস্বীকৃতি জানান।
সংসদীয় কমিটি এবং নানা জায়গা থেকে তীব্র চাপ আসা সত্ত্বেও এবং তৎকালীন অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়ার সঙ্গে মিলিতভাবে, তিনি শক্ত অবস্থানে থেকে প্রভাবশালী ঋণখেলাপির ঋণ সুবিধা বন্ধ রাখতে সক্ষম হন। এর ফলে, তার সময়ে খেলাপি ঋণ ৫ হাজার কোটি টাকা থেকে ৪ হাজার কোটি টাকায় নেমে আসে।
তৎকালীন অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়ার ভূমিকার মূল্যায়ন করে প্রবীণ এই অর্থনীতিবিদ বলেছেন, দল নিরপেক্ষ অবস্থানে কাজ করতে গিয়ে কিবরিয়া সাহেব অত্যন্ত সাহসী ছিলেন, তবে পরবর্তী সময়ে দলীয় এমপি ও মন্ত্রী হয়ে কিছু ক্ষেত্রে শিথিলতা দেখাতে বাধ্য হন। একজন সফল অর্থমন্ত্রী হতে গেলে অ্যাকাউন্টিংয়ের সাথে সাথে বড় রাজনৈতিক দর্শন ও ‘বৃহৎ কলিজা’ থাকা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের শৃঙ্খলা ফেরাতে নেওয়া সংস্কারের উল্লেখ করে ফরাসউদ্দিন জানান, মেধাভিত্তিক নিয়োগে বিশেষ প্রণোদনা, মানিটারি পলিসিতে উচ্চতর প্রশিক্ষণ এবং ব্যাংক মালিকেরা যেন নিজ ব্যাংক থেকে ইচ্ছা অনুযায়ী লোন নিতে না পারেন—এ সংক্রান্ত কোম্পানি আইনের বিধান কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করেছিলেন তিনি।
তিনি আরও বলেছেন, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থাকা, ব্যক্তিগত সততা এবং ক্ষমতার কাছে নতিস্বীকার না করার মানসিকতাই ব্যাংক খাতের শৃঙ্খলা ও আমূল পরিবর্তন আনতে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন