প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ভারতের সঙ্গে সিন্ধু নদীর পানি বণ্টন চুক্তি (ইন্ডাস ওয়াটারস ট্রিটি) ঘিরে উত্তেজনার মাঝে, এবার কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পাকিস্তানের জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী মুসাদিক মালিক। তিনি আরও বলেছেন, পাকিস্তারের ন্যায্য পানির অংশে কেউ হাত দিতে চাইলে, ‘সেই হাত কেটে দেওয়া হবে’ বলে জানিয়ে দিয়েছেন।
আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন) অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে মুসাদিক মালিক অভিযোগ করেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী পাকিস্তারের পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন। তাঁর ভাষায়, ‘পাশের দেশের প্রধানমন্ত্রী বলছেন, তিনি পাকিস্তারে এক ফোঁটা পানিও যেতে দেবেন না।’
মালিক জানান, পাকিস্তারের ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। তাই পানির প্রবাহ বন্ধ করে দেওয়ার অবস্থাটি শুধুমাত্র পানি আটকে দেওয়ার বিষয় নয়, বরং দেশের খাদ্যনিরাপত্তা, কর্মসংস্থান এবং অর্থনীতিকে মারাত্মক সংকটের মুখে ফেলবে।
মালিক আরও বলেন, পাকিস্তার আগেই ঘোষণা করেছে, কেউ যদি দেশটিকে তার পানির ন্যায্য অংশ থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করে, তাহলে তাকে অবশ্যই কঠোর পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।
মালিক বলেন, ‘আমরা শুধুমাত্র ঘোষণা করিনি, প্রয়োজনে নিজেরাও নিজেদের রক্ষা করতে পারি। কেউ যদি আমাদের পানির অংশে হাত দেয়, তাহলে সেই হাত কেটে দেওয়া হবে।’
ভারত ও পাকিস্তানের পানি চুক্তি নিয়ে তিনি বলেন, বিশ্বের বহু অঞ্চলে কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি না থাকলেও আন্তর্জাতিক রীতিনীতি অনুযায়ী উজানের দেশ ভাটির দেশের পানির প্রবাহ বন্ধ করে না। সেখানে ভারত ও পাকিস্তারের মধ্যে তো একটি বৈধ চুক্তি বিদ্যমান রয়েছে।
মুসাদিক মালিক বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পাকিস্তার এই বিষয়টি উত্থাপন করবে এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ন্যায়বিচার ও ভাটির দেশটির মানুষের পানির অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানাবে।
একই সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার বলেন, ইন্ডাস ওয়াটারস ট্রিটি তথা সিন্ধু পানি চুক্তি এখনও আইনগতভাবে কার্যকর রয়েছে এবং এটি একতরফাভাবে স্থগিত, বাতিল বা সংশোধন করা সম্ভব নয়।
তিনি দাবি করেন, আন্তর্জাতিক আইন পাকিস্তানের অবস্থানকে সমর্থন করে। তাঁর ভাষায়, ‘এই চুক্তি একতরফাভাবে বাতিল বা পরিবর্তন করা যায় না।’ আতাউল্লাহ তারার আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির একাধিকবার বলেছেন, ‘পানি আমাদের জীবনরেখা এবং এটি আমাদের লাল রেখা (রেড লাইন)।’
কয়েক সপ্তাহ আগে ভারতের কেন্দ্রীয় জলসম্পদমন্ত্রী সি আর পাটিল এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, আগামী দেড় থেকে দুই বছরের মধ্যে ভারত সিন্ধু নদীর পানিতে নিজেদের প্রাপ্য অংশ পুরোপুরি ব্যবহার করবে এবং ভারতের প্রাপ্য এক ফোঁটা পানিও পাকিস্তারে যেতে দেওয়া হবে না।
গত বছরের এপ্রিলে জম্মু ও কাশ্মীরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার পরে ভারত সিন্ধু পানি চুক্তির কার্যকারিতা স্থগিত রাখার ঘোষণা দেয়। নয়াদিল্লির দাবি, পাকিস্তান সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদে রাষ্ট্রীয় মদদ পুরোপুরি বন্ধের বিশ্বাসযোগ্য পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে।
বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় ১৯৬০ সালে ভারত ও পাকিস্তারের মধ্যে সিন্ধু পানি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির আওতায় সিন্ধু নদ এবং এর শাখা নদীগুলোর পানি বণ্টন ও ব্যবহার নিয়ে দুই দেশের অধিকার ও দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে এই চুক্তি দুই দেশের মধ্যে পানি বণ্টনের প্রধান ভিত্তি হিসেবে কার্যকর রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন