প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ইরানে মার্কিন হামলাও দেশটির প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির চলমান শোকযাত্রা থামাতে পারেনি। হরমুজ প্রণালী ঘিরে তীব্র উত্তেজনার মধ্যে আজ বুধবার (৮ জুলাই) খামেনির কফিন ইরাকের পবিত্র নগরী নাজাফে এসে পৌঁছেছে। প্রিয় নেতার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে দলে দলে শোকযাত্রায় অংশ নিচ্ছেন মানুষ।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির অবসরে ইরান গত শুক্রবার (৩ জুলাই) থেকে খামেনির স্মরণে সাতদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ও দাফনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করে। এর মধ্যে একটি দিন প্রতিবেশী ইরাকে কর্মসূচির জন্য নির্ধারণ করা হয়।
খামেনির শোকযাত্রার মধ্যে ইরানে হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। মার্কিন সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, মঙ্গলবার রাতে চার ঘণ্টার অভিযানে ৮০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, হরমুজ প্রণালী অতিক্রমকারী তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলার জবাবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
মার্কিন হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বেশ কয়েকটি মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরান। দেশটির রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানায়, তারা বাহরাইন ও কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের ৮৫টি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই হামলা পাল্টা হামলায় মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে তীব্র উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। তবে এতে ইরাকে খামেনির নির্ধারিত শোকযাত্রা বন্ধ হয়নি। আল জাজিরার প্রতিবেদন মতে, এই মুহূর্তে ইরাকের পবিত্র শহর নাজাফে শোকযাত্রা চলছে। লাখো শোকাহত মানুষ এতে অংশ নিয়েছেন।
এ উপলক্ষে বুধবার ইরাক সরকার দেশজুড়ে সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে। স্থানীয় সময় সকাল ৬টা (গ্রিনিচ মান সময় ০৩:০০) থেকে শোকযাত্রা শুরু হয়।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে খামেনি ও তার পরিবারের কয়েকজন সদস্য নিহত হন। এরপর শুরু হওয়া এই দীর্ঘ শোকানুষ্ঠানের মাধ্যমে যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নিজেদের শক্তি ও জাতীয় ঐক্য প্রদর্শনের চেষ্টা করছে তেহরান।
ইরানের পবিত্র শহর কোম-এ বিশাল শোকযাত্রা শেষে মঙ্গলবার রাতে খামেনির মরদেহ নাজাফ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। সেখানে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং খামেনির বড় ছেলে মোস্তাফা হোসেইনি খামেনির উপস্থিতিতে ইরাকি কর্মকর্তা ও জ্যেষ্ঠ রাজনীতিকরা কফিন গ্রহণ করেন।
এরপর খামেনির কফিন নাজাফের সড়ক প্রদক্ষিণ করে হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জামাতা এবং শিয়া মুসলিমদের প্রথম ইমাম আলি ইবনে আবি তালিবের মাজারে নিয়ে যাওয়া হয়।
আল জাজিরার নাজাফ প্রতিনিধি জ্যাক হিউসন বলেন, মক্কা ও মদিনার পরে নাজাফ শিয়া ইসলামের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান। ধর্মীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এখানে বিপুলসংখ্যক তীর্থযাত্রীর সমাগম হয় এবং বর্তমান শোকযাত্রাও গুরুত্বের দিক থেকে সেই পর্যায়ের।
তিনি জানান, নাজাফে ঠিক কত মানুষ জড়ো হয়েছেন তার সুনির্দিষ্ট সংখ্যা জানা না গেলেও, অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা কয়েক লাখ বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নাজাফের কর্মসূচি শেষে খামেনির মরদেহ প্রায় ৬০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত কারবালায় নেওয়া হবে। সেখানে ইমাস হোসেইনের মাজারে এবং আল-আব্বাসের মাজারে আরেকটি শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের কুদস ফোর্সের প্রধান ইসমাইল কানি বলেন, এই ঐতিহাসিক আয়োজনের জন্য ইরাক সরকার ও জনগণের ব্যাপক প্রস্তুতি ইরাক ও ইরানের মধ্যকার গভীর আধ্যাত্মিক বন্ধনের প্রমাণ।
অন্যদিকে ইরাকের নাগরিক মোহাম্মদ আল-বায়াতি, যিনি কয়েক ঘণ্টা ভ্রমণ করে নাজাফে এসেছেন, বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ক্ষমতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া একজন ব্যক্তির দাফন অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার এই সুযোগ হাতছাড়া করা যায় না।’
ইরাকে শোকযাত্রা শেষে খামেনির কফিন ফের ইরানে নেয়া হবে এবং আগামী বৃহস্পতিবার উত্তর-পূর্ব ইরানের নিজ শহর মাশহাদে তাকে দাফন করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন