প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে (খুবি) শিক্ষক কর্তৃক ছাত্রীদের যৌন হয়রানি এবং বিজয় ’২৪ হলের নারী ওয়াশরুমে গোপনে ভিডিও ধারণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে চলমান শিক্ষার্থী আন্দোলনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং পরবর্তী করণীয় নির্ধারণের উদ্দেশ্যে বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) একটি জরুরি সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. এস. এম. মাহবুবুর রহমান।
গত ২২ জুলাই রাতে বিজয় ’২৪ হলের নারী ওয়াশরুমে গোপনে মোবাইল ফোন রেখে ভিডিও ধারণের সময় শিক্ষার্থীরা ক্যান্টিনকর্মী ইমাম হাসানকে হাতেনাতে আটক করেন। এর পরের দিন সকালে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ করে দেন। সেই দিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পরিস্থিতি মোকাবিলার চেষ্টায় একাধিক বৈঠক করেন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের তিনটি দাবি রয়েছে—অভিযুক্ত ক্যান্টিনকর্মী ইমাম হাসানের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা, দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট হল প্রভোস্ট বডির জবাবদিহির আওতায় আনা, যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত বাংলা ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক রুবেল আনছার ও অ্যাগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক রেজাউল ইসলামকে দ্রুত স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা, এবং সম্প্রতি গঠিত ‘স্পন্দন-২৪’ ক্লাবের নিবন্ধন বাতিল করা।
এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কয়েকটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত ক্যান্টিনকর্মী ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে হরিণটানা থানায় মামলা করা হয়েছে, ঘটনার তদন্তের জন্য পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ক্যান্টিনের বরাদ্দ বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি হলের ভেতরে কর্মচারীদের মোবাইল ফোন বহন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অপরাজিতা ও বিজয় ’২৪ ছাত্রী হলে পুরুষ কর্মী নিয়োগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পাশাপাশি ক্যান্টিন পরিচালনায় কঠোর নীতিমালা প্রণয়নের কথাও জানিয়েছে প্রশাসন।
এদিকে, যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত অধ্যাপক রুবেল আনছারের বিষয়ে বলা হয়েছে, রিভিউ আবেদন পাওয়ার পর পুনতদন্তের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। অধ্যাপক রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে চলমান দুটি তদন্ত কমিটির কাছে সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের এসব পদক্ষেপে সন্তুষ্ট নন। প্রশাসনিক ভবনের কিছু তালা খুলে দেওয়া হলেও ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীদের পরিচালিত ‘টু টু’ ফেসবুক পেজে ‘সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ’-এর পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তিন দফা দাবি বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ধরনের একাডেমিক কার্যক্রম বর্জন করা হবে।
এদিকে, চলমান অচলাবস্থার প্রেক্ষিতে আগামীকালের জরুরি সিন্ডিকেট সভাকে পরিস্থিতি উত্তরণের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সভায় উদ্ভূত সংকট নিরসন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক করার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন