প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় আতাই নদীর কূল ধরে বয়ে যাওয়া কামারগাতি-পথের বাজারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক হিসেবে পরিচিত। একসময় সড়কটিতে ভ্যান, রিকশা, ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক, নসিমন, করিমন এবং বাসও চলাচল করত। কালিয়া, তেরোখাদা, গাজীরহাট, কোলা, আড়ুয়া আমবাড়ীয়া, কামারগাতী, লাখোয়াটি, মাধবপুর, রাধামাধবপুর, নন্দনপ্রতাপ, বারাকপুর, মোমিনপুর এলাকায় মানুষের যাতায়াতের জন্য এটি দৌলতপুর হয়ে শহরের সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম ছিল। কিন্তু গত এক যুগ ধরে আতাই নদীর ক্রমাগত ভাঙনের ফলে সড়কটির দুই তৃতীয়াংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে, যা বর্তমানে বেড়িবাঁধে রূপান্তরিত হয়েছে। মানুষের যাতায়াত এখন বিকল্প সড়ক দিয়ে হচ্ছে। কিন্তু সম্প্রতি কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে বেড়িবাঁধটি মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত কয়েকদিনের ভারী বর্ষণ এবং জোয়ারের কারণে মোমিনপুর-হাজীগ্রামের মধ্যবর্তী স্থানে সড়কের অংশে বাঁধটি মারাত্মকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বাঁধের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হতে শুরু করেছে। এতে সেখানে বৃহৎ আকারের ফাটল তৈরি হয়েছে। শুক্রবার (১৬ জুলাই) স্থানীয়রা একত্রিত হয়ে জোয়ারের পানি কমলে সন্ধ্যার পর থেকে রাত পর্যন্ত আলো জ্বালিয়ে বাঁশ এবং মাটি দিয়ে প্রাথমিকভাবে বাঁধটির ভাঙন রোধ করার চেষ্টা করেছে। তবে ঝুঁকি এখনও কাটেনি।
স্থানীয়রা বলছেন, যদি বাঁধটি ভেঙে যায়, তবে দশটিরও বেশি গ্রাম প্লাবিত হবে। হাজার হাজার ঘরবাড়ি, মাছের খামার এবং চাষযোগ্য জমি পানিতে তলিয়ে যাবে। এ কারণে কোটি কোটি টাকার ক্ষতি আনার আশঙ্কা রয়েছে।
তাদের দাবি হলো, সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে একটি স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি। প্রতিবছর আতাই নদীর ভাঙন থেকে রক্ষায় এ অঞ্চলে সরকারের লাখ লাখ টাকা ব্যয় করা হলেও কার্যকর কিছুই হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, গত কয়দিনের বৃষ্টিপাত এবং জোয়ারের পানির স্তর ৩/৪ ফুট বেড়ে যাওয়ায় বাঁধের ওই পয়েন্টে ভাঙন দেখা দিয়েছে। তিনি এই বাঁধটিকে মূলত প্রধান সড়ক বলেও উল্লেখ করেন, যা ২০১৩ সাল থেকে ভাঙতে ভাঙতে বর্তমানে বেড়িবাঁধে পরিণত হয়েছে। এবার ভাঙনের মূল পয়েন্ট এটি। আগে কখনো এই পয়েন্টের সংস্কার করা হয়নি। পাশের পয়েন্টগুলোতে প্রতিবছর জিও ব্যাগ দিয়ে নামমাত্র সংস্কার করা হয়েছে। এর জন্য সরকারিভাবে কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ হচ্ছে, তবে সেই টাকা এলাকাবাসীর কোন কাজে আসছে না, বরং অনেকের পকেট ভারী হচ্ছে।
অন্য এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, আপাতত গ্রামের লোকজন মিলে বাঁশ আর মাটি দিয়ে কোনোমতে বাঁধটিকে আটকিয়ে রেখেছেন। তবে যেকোনো সময় এটি ভেঙে পুরো দিঘলিয়া তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এজন্য জরুরি ভিত্তিতে সরকারিভাবে দীর্ঘস্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুজন দাশগুপ্ত বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ইতোমধ্যে বাঁধটি সংস্কারের কার্যক্রম শুরু করেছে। বাঁধের রাস্তার একটি বড় অংশ নদীতে চলে যেয়ে ভেঙে গেছে। তিনি সরজমিনে পরিদর্শন শেষে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেছেন। পাশেই যে ঘেরগুলো রয়েছে সেখানে পানি থাকায় যতই বাঁধ দেওয়া হোক না কেন, তা টিকবে না বলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীদের মতামত। তিনি আরও জানান, বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্যের দৃষ্টিতে আসার পর স্যার আমার সঙ্গে এবং পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে আলোচনা করেছেন। এছাড়াও, তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এবং মন্ত্রণালয়ের সম্পর্কিত উপসচিবের সঙ্গে কথা বলেছেন। তারা সবাই প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে এবার স্থায়ী সমাধানের জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা গ্রহণ করবেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন