প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
জাপানে ১০০ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা প্রথমবারের মতো এক লাখের বেশি হয়ে গেছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে জাপানে শতবর্ষী মানুষের সংখ্যা ১ লাখ ৭ হাজার ৬৭৭ জন। বিশ্বের অন্য কোনো দেশে এই পরিমাণ এত বেশি নয়। এই শতবর্ষীদের মধ্যে ৮৮ শতাংশ নারী।
বিবিসির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, জাপানের সবচেয়ে বয়স্ক নারী হলেন কিশিমোতো ফুয়ো, যিনি কিয়োটো শহরে বাস করেন এবং তাঁর বয়স ১১৪ বছর। সবচেয়ে বয়স্ক পুরুষ কাতো হিকারু, যিনি কুমামোতো শহরের বাসিন্দা এবং তাঁর বয়স ১১২ বছর।
জাপানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী কেনিচিরো উএনো মন্তব্য করেন, এত সংখ্যক মানুষ দীর্ঘ, সুস্থ ও সক্রিয় জীবনযাপন করছেন—এটি একটি আনন্দের বিষয়। তিনি উল্লেখ করেন যে, চিকিৎসা ও প্রযুক্তির অগ্রগতিও মানুষের আয়ু বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। তবে, এত বয়স্ক মানুষের জন্য দীর্ঘমেয়াদী সহায়তা নিশ্চিত করতে সামাজিক নিরাপত্তাব্যবস্থার স্থায়িত্ব একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দীর্ঘ জীবনের পেছনে কী?
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং সক্রিয় জীবনযাপন জাপানিদের দীর্ঘায়ুর মূল কারণগুলোর মধ্যে একটি। দেশটির প্রচলিত খাদ্য তালিকায় মাছ, শাকসবজি এবং ভাতের পরিমাণ বেশি, যা পশ্চিমা খাদ্যাভ্যাসের তুলনায় কম চর্বিযুক্ত।
শুধু খাদ্য নয়, বয়স্কদের সক্রিয় জীবনযাপনও গুরুত্বপূর্ণ। অনেক বয়স্ক জাপানি নিয়মিত হাঁটেন, গণপরিবহন ব্যবহার করেন, সাইকেল চালান এবং শরীরচর্চা করেন।
বাড়ছে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা
জাপানে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে তাদের জন্য তৈরি পণ্যের বাজারও সম্প্রসারিত হচ্ছে। বিবিসি জানাচ্ছে, গত এক দশক ধরে শিশুদের ব্যবহারের তুলনায় প্রাপ্তবয়স্কদের ডায়াপার বিক্রির পরিমাণ বেশি।
বয়স্কদের দৈনন্দিন জীবন সহজ করার জন্য বিভিন্ন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে শরীরের বিভিন্ন অংশের নড়াচড়ায় সহায়তা করার জন্য চালিত পোশাক এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে চোখের সামনে থাকা জিনিসের দিকে দৃষ্টি পরিষ্কার করতে সক্ষম বিশেষ চশমা।
তবে দীর্ঘায়ুর এই সাফল্যের পাশাপাশি, জাপান একটি বড় জনসংখ্যাগত সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে।
একটি দেশের জনসংখ্যা স্থিতিশীল রাখতে, প্রত্যেক নারীর গড়ে প্রায় ২ দশমিক ১টি সন্তান জন্ম দেওয়া প্রয়োজন। কিন্তু গত বছর জাপানের মোট প্রজনন হার কমে রেকর্ড সর্বনিম্ন ১ দশমিক ১৪-তে নেমেছে।
জাতীয় জনসংখ্যা ও সামাজিক নিরাপত্তা গবেষণা প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, ২০৭০ সালে জাপানের জনসংখ্যা কমে ৮ কোটি ৭০ লাখে দাঁড়াতে পারে। ২০০৮ সালে দেশটির সর্বোচ্চ জনসংখ্যা ছিল ১২ কোটি ৮০ লাখ। সেক্ষেত্রে, ২০৭০ সালের সম্ভাব্য জনসংখ্যা প্রায় ৩০ শতাংশ কম।
বর্তমানে জাপানের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩০ শতাংশের বয়স ৬৫ বছর বা তার বেশি। ২০৭০ সালে এই হার প্রায় ৪০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।
জাপানি কর্তৃপক্ষ এই পরিস্থিতিকে ‘অস্তিত্বের সংকট’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি জনসংখ্যা হ্রাসকে ‘নীরব জরুরি অবস্থা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
কেন কমছে জাপানের জনসংখ্যা?
২০২৫ সালে জাপানের ৪৭টি প্রশাসনিক অঞ্চলের মধ্যে মাত্র দুটিতে জনসংখ্যা কমেনি। দেশের জনসংখ্যা হ্রাসের গতি বৃদ্ধি পাচ্ছে।
তরুণদের সন্তান নিতে উৎসাহিত করতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি এবং আর্থিক সহায়তা চালু করলেও, জন্মহার বৃদ্ধিতে সেগুলো এখনো খুব বেশি কার্যকর হয়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। কম বিয়ের হার, কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং সন্তান লালন-পালনের বাড়তি খরচ এর মধ্যে অন্যতম।
গত কয়েক বছরে জাপানে অভিবাসনও বেড়েছে। তবে দেশটির মোট জনসংখ্যার মাত্র প্রায় ৩ শতাংশ বিদেশি। একই সাথে, আরও বেশি অভিবাসী গ্রহণের বিরোধিতাও বেড়েছে।
৬০ বছরে শতবর্ষীর সংখ্যা বেড়েছে কয়েক শ গুণ।
জাপান সরকার ১৯৬৩ সালে শতবর্ষী মানুষের হিসাব রাখা শুরু করে। সে সময় দেশটিতে ১০০ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা ছিল মাত্র ১৫৩ জন।
১৯৮১ সালে এই সংখ্যা বেড়ে এক হাজার ছাড়ায়। ১৯৯৮ সালে তা ১০ হাজারের বেশি হয়। আর এখন সেই সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়ে গেছে।
জাপানের বার্ষিক ‘বয়স্কদের প্রতি শ্রদ্ধা’ দিবসের আগে সম্প্রতি এই পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়েছে। এই দিবসটিতে সরকার ১০০ বছরে পা দেওয়া ব্যক্তিদের চিঠি এবং ঐতিহ্যবাহী পানীয় পরিবেশনের কাপ দিয়ে সম্মান জানায়।
তবে শতবর্ষী মানুষের বৈশ্বিক পরিসংখ্যানের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে আগেই প্রশ্ন উঠেছে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, ভুল তথ্য, অনির্ভরযোগ্য সরকারি নথি এবং জন্মসনদ না থাকার কারণে কিছু দেশে প্রকৃত সংখ্যার চেয়ে বেশি শতবর্ষী মানুষের হিসাব পাওয়া যেতে পারে।
জাপান সরকারের ২০১০ সালের একটি পারিবারিক নিবন্ধন নিরীক্ষায় ১০০ বছর বা তার বেশি বয়সী হিসেবে তালিকাভুক্ত ২ লাখ ৩০ হাজারের বেশি মানুষের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। তাদের মধ্যে কেউ কেউ কয়েক দশক আগেই মারা গিয়েছিলেন।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্বল নথি সংরক্ষণ এবং বয়স্ক স্বজনের মৃত্যুর তথ্য গোপন করে পেনশন পাওয়ার চেষ্টা—এ ধরনের ভুল হিসাবের অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন