প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘নকল’ বা ‘প্লাস্টিকের ডিম’ সংক্রান্ত বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়ায় ক্রেতাদের মধ্যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই বাজার থেকে এই ডিম কিনে এসে ঠকছেন, যা শরীরের জন্যও ক্ষতিকর হতে পারে।
তবে ডিমের মান যাচাইয়ের জন্য প্রচলিত কিছু ঘরোয়া পরীক্ষার পরিবর্তে খোসার অবস্থা, সংরক্ষণ পদ্ধতি এবং ডিম ভাঙার পর এর গন্ধ ও চেহারা পরীক্ষা করাই অধিক গুরুত্বপূর্ণ। রাসায়নিক দিয়ে তৈরি নকল ডিম দেশের বিভিন্ন বাজারে বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু আসল ডিমের সঙ্গে নকল ডিমের পার্থক্য বুঝতে খুব একটা কঠিন নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) তথ্য অনুযায়ী, ডিম কেনার সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে কিনা। খুচরা বিক্রির জন্য ডিম কেনার ক্ষেত্রে ঠান্ডা বা উপযুক্ত তাপমাত্রায় সংরক্ষিত ডিম বেছে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
যেভাবে বুঝবেন ‘আসল ডিম’ নাকি ‘প্লাস্টিকের’
১. প্রথমে ডিমের খোসার দিকে নজর দিতে হবে। আসল ডিমের খোসা সাধারণত একটু এবড়ো-খেবড়ো হয়। কিন্তু প্লাস্টিকের ডিমের খোসা সম্পূর্ণ মসৃণ হবে। তবে কেবল খোসার উপরিভাগ দেখে ডিমকে নকল বলা যাবে না।
২. ডিম পরীক্ষা করার জন্য একে কানের কাছে ধরে আলতো করে ঝাঁকান। তাজা ডিমে সাধারণত শব্দ হয় না বা ভেতরে নড়াচড়া অনুভূত হয় না। পুরোনো ডিমের কারণে ভেতরে পরিবর্তনের জন্য হালকা শব্দ হতে পারে বা তরল পদার্থ নড়তে পারে।
৩. আসল ডিম এবং নকল ডিমের মধ্যে ওজনের পার্থক্য থাকবে। আসল ডিম তার আকারের তুলনায় একটু ভারী হয়। কিন্তু প্লাস্টিকের ডিমের ওজন হালকা।
৪. আসল এবং নকল ডিমের মধ্যে পার্থক্য বোঝার জন্য একটি সহজ পরীক্ষা হলো। একটি গ্লাসে পানি নিয়ে ডিমটি তাতে ফেলুন। আসল ডিম নকল হলে তা ডুবে যাবে।
৫. গন্ধ দ্বারা শনাক্ত করুন। একটি নষ্ট ডিমে অপ্রীতিকর বা তীব্র গন্ধ থাকতে পারে। কখনো কখনো, ডিম ভাঙার আগেও এর খারাপ হওয়ার লক্ষণ বোঝা যায়। যদি কোনও ডিমে অস্বাভাবিক গন্ধ থাকে, তবে সেটি না খাওয়াই ভালো।
বিশেষজ্ঞদের নির্দেশনা অনুযায়ী, ডিম ভালোভাবে রান্না করাও নিরাপত্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ইউএসডিএ-এর পরামর্শ হলো ডিম এমনভাবে রান্না করা, যাতে কুসুম ও সাদা অংশ ভালোভাবে জমে যায়। ডিমযুক্ত খাবারের ক্ষেত্রে নিরাপদ অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা নিশ্চিত করা জরুরি।
সুতরাং, বাজার থেকে ডিম কেনার সময় শুধু ‘আসল না নকল’ নিয়ে গুজবে কান না দিয়ে খোসা অক্ষত আছে কি না, ডিম সঠিকভাবে সংরক্ষিত হয়েছে কি না এবং ব্যবহারের আগে এর গন্ধ ও চেহারা স্বাভাবিক কি না- এসব বিষয় আগে খেয়াল করুন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন