প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
জনসংখ্যা সংকটে সিঙ্গাপুর, কারণ জন্মহার ক্রমাগত কমে যাচ্ছে। চলতি বছরে রেকর্ড পরিমাণ কম জন্মহারের কারণে দেশটি সরকারি কর্মীদের জন্য একটি ডেটিং অ্যাপ চালু করেছে।
সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে সম্পর্ক ও পরিচয় গড়ে তোলার পাশাপাশি সন্তান জন্মদানে উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
একটি বিশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, চলতি মাসে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হওয়া ‘ফার্স্ট ডেট’ নামের অ্যাপটি বর্তমানে শুধুমাত্র সিঙ্গাপুরের সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য উন্মুক্ত। ২১ থেকে ৩৫ বছর বয়সি সরকারি কর্মীরা এই অ্যাপে নিবন্ধন করতে পারবেন।
অ্যাপটিতে ব্যবহারকারীদের পছন্দ, মূল্যবোধ এবং ব্যক্তিগত অগ্রাধিকার সম্পর্কে বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। এরপর একটি নোবেলজয়ী অ্যালগরিদম সেই তথ্য বিশ্লেষণ করে একবারে একটি সম্ভাব্য জুটি বা ম্যাচ তৈরি করে।
প্রচলিত ডেটিং অ্যাপের মতো একের পর এক প্রোফাইল সোয়াইপ করার সুযোগ এখানে নেই। বরং ‘সোয়াইপ ফ্যাটিগ’ এড়ানোর পাশাপাশি অর্থপূর্ণ সম্পর্ক তৈরিতে সহায়তা করাই অ্যাপটির লক্ষ্য বলে জানানো হয়েছে।
অ্যাপটির ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা হয়েছে, জুটি তৈরিতে ‘গেইল-শ্যাপলে স্টেবল ম্যারিজ’ অ্যালগরিদম ব্যবহার করা হচ্ছে। যখন কোনো জুটি ম্যাচ হয়, তখন তাদের সাক্ষাৎ বা ডেট করার জন্য তিন দিন সময় দেওয়া হয়। সম্পর্কের শুরুতে অস্বস্তি কাটাতে অ্যাপটিতে ‘ডেট কোয়েস্ট’ নামে বিভিন্ন কার্যক্রমের ধারণাও দেওয়া হয়েছে।
সিঙ্গাপুরের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২৯ বছর বয়সি কর্মী এলিজাবেথ জানিয়েছেন, অন্যান্য ডেটিং অ্যাপগুলোর তুলনায় এখানে সাক্ষাতের অভিজ্ঞতা খুব একটা আলাদা নয়। তবে প্রতারিত হওয়ার আশঙ্কা কম থাকায় তিনি স্বস্তি বোধ করছেন। কারণ, অ্যাপটির ব্যবহারকারীরা সবাই সরকারি চাকরিজীবী এবং জীবনসঙ্গী খুঁজছেন।
সিঙ্গাপুরে জনসংখ্যা সংকট মোকাবিলার জন্য সরকারি উদ্যোগে ঘটকালির এটি প্রথম প্রচেষ্টা নয়। এর আগে ১৯৮৪ সালে বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতকদের মধ্যে জুটি গঠনে উৎসাহ দিতে ‘সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ইউনিট’ নামে একটি ম্যাচমেকিং এজেন্সি চালু করেছিল দেশটির সরকার।
তবে কয়েক দশক পরেও দেশটির জন্মহার কমার প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। ২০২৫ সালে সিঙ্গাপুরে ৩০ হাজারের কম শিশু জন্ম নিয়েছে, যা গত ৬০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। ওই বছর নারীপ্রতি মোট জন্মহার বা টিএফআর কমে দাঁড়িয়েছে শূন্য দশমিক ৮৭-তে। জনসংখ্যা স্থিতিশীল রাখতে সাধারণত যে ২ দশমিক ১ টিএফআর প্রয়োজন, বর্তমান হার তার তুলনায় অনেক কম।
অন্যদিকে, দেশটিতে মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়ছে। ২০২৫ সালে প্রায় ২৬ হাজার ৫০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ফলে কম জন্মহার এবং বাড়তে থাকা মৃত্যুহারের সমন্বয়ে জনসংখ্যাগত চাপ আরও তীব্র হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সম্পর্ক ও পরিবার গঠনে উৎসাহ দিতে সরকারি পর্যায়ে নতুন উদ্যোগ হিসেবে ডেটিং অ্যাপটি চালু করেছে সিঙ্গাপুর।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন