প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ঢাকা, ২৪ জুলাই, ২০২৬ : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার মন্তব্য করেছেন, সৌদি আরবের সঙ্গে যে বেসামরিক পরমাণু চুক্তি হয়েছে, তা কার্যকর হবে তখনই, যখন দেশটি ইসরাইলকে স্বীকৃতি প্রদান করবে। চুক্তি স্বাক্ষরের মাত্র একদিন পর তার এই ঘোষণার ফলে পুরো বিষয়টি অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হয়েছে।
ওয়াশিংটন থেকে এএফপি জানায়, রিয়াদ দীর্ঘদিন ধরে ইসরাইলের সঙ্গে তথাকথিত ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’-এ অংশগ্রহণ করতে অনিচ্ছুক। বিশেষ করে গাজা সংঘাতের পর তারা সফলভাবে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য ক্লিয়ার রূপরেখার ওপর জোর দিয়েছে।
বুধবার ঘোষিত বেসামরিক পরমাণু চুক্তিকে সৌদি আরবের জন্য একটি বড় ধরনের কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল। বিশেষ করে এমন সময় এ চুক্তি সম্পন্ন হলো, যখন ট্রাম্প প্রশাসন মূলত তেহরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে।
তবে ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, সৌদি আরবের সঙ্গে হওয়া চুক্তিটি অনুমোদন পাবে। তবে এর সম্পূর্ণ বিষয়টি নির্ভর করবে সৌদি আরব আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দেয় কিনা তার ওপর।
হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সৌদি আরব আগে থেকেই জানতো, ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেওয়া এই চুক্তির পূর্বশর্ত। তবে চুক্তি ঘোষণার সময় বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট সাংবাদিকদের বলেন, ‘আপনারা জানেন, চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত সবসময় প্রেসিডেন্টের।’ তিনি আরও বলেন, আব্রাহাম অ্যাকর্ডস বিষয়টি ট্রাম্পের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি পূর্বে এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন এবং ভবিষ্যতেও এ অবস্থান বজায় রাখবেন।
লেভিট জানিয়েছেন, ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে ওয়াশিংটন সৌদি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখবে।
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু মন্তব্য করেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক শক্তি এবং ইসলামের পবিত্রতম স্থানগুলোর আবাসভূমি সৌদি আরব যদি ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেয়, তাহলে এটি মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ‘ঐতিহাসিক অগ্রগতি’ হবে।
লেভিট বলেন, সৌদি চুক্তি ঘোষণার পর ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে টেলিফোনে আলোচনা হয়েছে কি না, সে সম্পর্কে তিনি জানেন না।
চুক্তিটি বাস্তবায়িত হলে সৌদি আরবে বেসামরিক পরমাণু কর্মসূচি গড়ে তোলার মাধ্যমে মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য কয়েকশ কোটি ডলারের ব্যবসার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে ট্রাম্পের সর্বশেষ ঘোষণার পর চুক্তিটি সত্যিই বাস্তবায়িত হবে কি না, সে বিষয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন