প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের একটি মামলায় গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার আলোচিত হরিদাস চন্দ্র তরনীদাসকে পুলিশ অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) গ্রেপ্তার করেছে। রবিবার (১২ জুলাই) রাতে গাইবান্ধা জেলা পুলিশের সহায়তায় পলাশবাড়ীর রামমন্দির থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে গাইবান্ধার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. জসিম উদ্দীন এ বিষয়ে হরিদাস চন্দ্রকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানিয়েছেন, ঢাকায় সংঘটিত হওয়া মানি লন্ডারিং মামলায় হরিদাস চন্দ্রকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার ব্যাংক হিসাবে প্রায় ১০ কোটি টাকা অবৈধ লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে, যা নগদ লেনদেন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়া হুন্ডির মাধ্যমেও লেনদেনের ঘটনা ঘটেছে।
এসপি জানিয়েছেন, সিআইডি ২ জুলাই থেকে এ টাকার উৎস ও অন্যান্য তথ্য অনুসন্ধান করেছে। অনুসন্ধানের পর হরিদাস চন্দ্রের বিরুদ্ধে ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা দায়ের করা হয়। সেই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, এবং সোমবার তাকে চারদিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।
সিআইডির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার মধ্য রামচন্দ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা হরিদাস চন্দ্র। তার বাবার নাম গোপীনাথ তরনীদাস। তিনি ২০০৬ সালে হাসবাড়ী বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ২০০৮ সালে ঢাকার কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। ২০১০ সালে অবৈধভাবে ভারতে গিয়ে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ গ্রহণের পর তিনি দেশে ফিরে আসেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, ২০১৯ সালে হরিদাস ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে তৌহিদ ইসলাম নাম ধারণ করেন। এরপর থেকে তিনি বিভিন্ন সময় নিজেকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিতেন। তার বিরুদ্ধে সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়া, বদলি, হুন্ডি ও সংঘবদ্ধ অপরাধের সাথে জড়িত থাকা অভিযোগ রয়েছে।
এসব অভিযোগের প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বৈধ কোনো আয়ের উৎস না থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও মুঠোফোনে আর্থিক সেবার হিসাবের মাধ্যমে তার ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা জমা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় সমপরিমাণ অর্থ উত্তোলনও করা হয়েছে, যা সিআইডি সন্দেহজনক হিসাবে গণ্য করছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, হরিদাসের ব্যাংক হিসাবগুলোতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিভিন্ন ব্যক্তি বিপুল অর্থ জমা করেছেন, যা তার পেশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। অনুসন্ধানের সময় বনানী থানায় তার বিরুদ্ধে একটি মামলার তথ্যও পাওয়া গেছে। ওই মামলায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৪ ধারাসহ দণ্ডবিধির ১৬৭, ১৬৮, ৪০৬ ও ৪২০ ধারার অভিযোগ আনা হয়েছে।
সিআইডির প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেশি-বিদেশি মুদ্রা পাচার ও সংঘবদ্ধ অপরাধের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কারণে মামলাটি করা হয়েছে এবং তার সন্দেহজনক লেনদেনের বিষয়ে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
২০২২ সালের ৮ নভেম্বর র্যাবের যৌথ অভিযানে সহযোগীসহ ঢাকার বনানী থেকে গ্রেপ্তার হন হরিদাস। সে সময় তার বিরুদ্ধে মামলা না হওয়ায় তাকে ৫৪ ধারায় কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। পরে তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর হরিদাস চন্দ্র মধ্যরামচন্দ্রপুর গ্রামে দুই একর জমির ওপর শ্রীশ্রী রাধাগোবিন্দ ও কালীমন্দিরের পুরোনো অবকাঠামোর পরিবর্তে আধুনিকায়নের কাজ শুরু করেন। সেখানে ২৮ ফুট উচ্চতার শিবমূর্তি ও ৫৩ ফুট উচ্চতার কৃষ্ণমূর্তি নির্মাণ করা হয়। ২০২৫ সালের ২৬ অক্টোবর মন্দিরটির কৃষ্ণমূর্তি উদ্বোধন করবেন ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার শ্রী মনোজ কুমার। ৮১ ফুট উচ্চতার রামের মূর্তি নির্মাণাধীন রয়েছে।
এছাড়া ২০১৯ সালে ময়মনসিংহ বিভাগের ফুলবাড়িয়া এলাকায় প্রায় এক বিঘা জমি কিনে সেখানে রিসোর্ট করার তথ্য পাওয়া গেছে।
সম্প্রতি হরিদাস চন্দ্রের আয়ের উৎস খুঁজে বের করা ও তাকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে গাইবান্ধায় সচেতন নাগরিক ফোরামের ব্যানারে আন্দোলন শুরু হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন