প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
বাংলাদেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতি ক্রমশ ভয়ংকর হয়ে উঠছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এডিস মশাবাহিত এই রোগটিতে আক্রান্তের সংখ্যা এবং মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বর্তমানে ডেঙ্গুতে মৃত্যুহীন দিনের সংখ্যা অত্যন্ত কম। এই অবস্থায় ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে কার্যকরী এবং টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধ এবং সচেতনতা বৃদ্ধি করার উদ্দেশ্যে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ডেঙ্গুর প্রাথমিক লক্ষণগুলো উল্লেখ করে একটি সতর্কবার্তা প্রকাশ করেছে।
বার্তায় জানানো হয়েছে, যদি কেউ ডেঙ্গুর প্রাথমিক লক্ষণগুলোর মধ্যে কোনো একটি লক্ষণ অনুভব করেন, তবে অবিলম্বে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।
ডব্লিউএইচও’র উল্লেখিত ডেঙ্গুর প্রাথমিক লক্ষণগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে তীব্র মাথা ব্যথা; চোখের পেছনের দিকে ব্যথা; হাড়ের জোড়া এবং মাংসপেশিতে ব্যথা; বমি বমি ভাব; বমি করা এবং চামড়ায় লালচে ছোট ছোট ফুসকুড়ি ওঠা।
এসব লক্ষণের যেকোনোটি দেখা দিলে সময়মতো চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
এদিকে, চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে প্রাণহানির সংখ্যা ইতোমধ্যে ২০০ ছাড়িয়ে গেছে। শুধু চলতি সেপ্টেম্বর মাসের ২২ দিনে মৃত্যু হয়েছে ১০৪ ডেঙ্গু রোগীর। সর্বশেষ বুধবারের (২৩ সেপ্টেম্বর) আপডেট অনুযায়ী, এডিস মশাবাহিত রোগটি ৬ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। একই দিনে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৮৬৮ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ৮ বছরে ডেঙ্গু ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ২০০০ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ২৯৬ জনের মৃত্যু হয়েছে, কিন্তু পরবর্তী ৭ বছর ৯ মাসে মশাবাহিত রোগটিতে ৩ হাজার ৪৬৬ জন মারা গেছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এই সময়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ৭ লাখ ৮৬ হাজার ৯১ জন; আগের দেড় যুগে যা ছিল ৫০ হাজার ২০৮।
অর্থাৎ, শেষ ৭ বছর ৯ মাসে আগের দেড় যুগের তুলনায় ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়েছে ১১ দশমিক ৭১ গুণ এবং আক্রান্ত বেড়েছে ১৫ দশমিক ৬৬ গুণ।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এডিস মশার প্রজনন নিয়ন্ত্রণে দুর্বলতা, আক্রান্তের সংখ্যা কম নথিভুক্ত হওয়া, হাসপাতালে ভর্তিতে দেরি করা এবং একই ব্যক্তি বারবার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়া এই ভয়াবহ পরিস্থিতির জন্য দায়ী।
তাদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বাংলাদেশের পরিবেশের সঙ্গে এডিস মশা বেশ ভালোভাবে খাপ খাইয়ে নিয়েছে। তাই ডেঙ্গুকে এখন আর শুধুমাত্র মৌসুমি রোগ হিসেবে দেখা সম্ভব নয়। অল্প পরিমাণ জমে থাকা পানিতেও এই মশা বংশবিস্তার করতে সক্ষম। এমনকি ফেলে দেওয়া ছোট পাত্রের ভেতরেও এডিস মশার প্রজনন ঘটে। এর বিস্তার এখন আর কেবল শহরাঞ্চলে সীমাবদ্ধ নেই, এটি ক্রমেই গ্রামাঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়ছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং বারবার সংক্রমণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। একজন ব্যক্তি একাধিকবার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হতে পারেন। যেসব জনগোষ্ঠীর মধ্যে ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা কম বা শূন্যের কোটায় ছিল, তারাও এখন এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে টেকসই ব্যবস্থা গড়ে তুলতে স্বল্পমেয়াদি অভিযানের পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি, সমন্বিত এবং জনকেন্দ্রিক জনস্বাস্থ্য কর্মসূচির প্রয়োজন বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন