প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
বন্যার ফলে শুধু মানুষের ঘরবাড়ি, ফসল এবং গবাদিপশুর ক্ষতি হয় না, বরং এ সময় সাপের উপদ্রবও বেড়ে যায়। বন্যার পানিতে সাপের প্রাকৃতিক আবাসস্থল তলিয়ে যাওয়ার কারণে সাপ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে মানুষের বাড়িঘর, আঙিনা, ক্ষেত এমনকি জনবসতি গঠিত এলাকায়ও প্রবেশ করে। তাই বিশেষজ্ঞরা বন্যার সময় ও পরবর্তী সময়ে বাড়তি সতর্কতা নেওয়ার পরামর্শ প্রদান করেছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বন্যার পানির কারণে সাপের স্বাভাবিক বাসস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে তারা শুকনো জায়গার খোঁজে মানুষের বসতবাড়ির দিকে চলে আসে। এর ফলেই বন্যাকবলিত অঞ্চলে সাপের মুখোমুখি হওয়ার ঝুঁকি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়।
বাংলাদেশে দেখা যায় বিষধর এবং নির্বিষ—এ দুই প্রকার সাপ। বিষধর সাপের মধ্যে চন্দ্রবোড়া, গোখরা এবং কালাচ উল্লেখযোগ্য। এছাড়া নির্বিষ ইঁদুরখেকো সাপও আকারের কারণে মাঝে মাঝে ভয় সৃষ্টি করে। সুতরাং যেকোনো সাপ দেখা দিলে সতর্ক থাকা অত্যন্ত প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বন্যার আগেই বাড়ির ভেতরের দেয়াল, দরজা এবং জানালার ফাঁকফোকর বন্ধ করে রাখা উচিত। যাতে করে সাপ সহজে ঘরে প্রবেশ করতে না পারে। বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার রাখা, ঝোপঝাড় কাটা এবং কাঠ বা আবর্জনার স্তূপ সরিয়ে ফেললে সাপের লুকিয়ে থাকার সুযোগ হ্রাস পায়।
সমস্ত পরিবারের সদস্যদের, বিশেষ করে শিশুদের সাপ সম্পর্কে সচেতন করা অত্যন্ত জরুরি। সাপ দেখলে তাদের কাছে না যাওয়া এবং বড়দের জানানো—এ ধরনের অভ্যাস ছোটবেলা থেকেই তাদের শেখানো উচিত।
বন্যার সময় বিশেষজ্ঞরা বলেছেন প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দেন। যদি পানির ভেতর হাঁটতে হয়, তাহলে লম্বা লাঠি দিয়ে একই সাথে সামনে পরীক্ষা করে এগোলে ভালো হয়। এ সময় লম্বা প্যান্ট এবং বুট পরা সাপের কামড়ের সম্ভাবনা কিছুটা কমিয়ে দেয়।
বন্যার পানিতে ভেসে আসা গাছের ডাল, কাঠ অথবা অন্যান্য আবর্জনার নিচে সাপ লুকিয়ে থাকতে পারে। তাই এসব সরানোর সময় অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে। রাতের বেলায় বাড়ির ভেতর ও আশপাশে পর্যাপ্ত আলো রাখলে সাপের চলাচল কিছুটা কমে যায়।
বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পরেও ঝুঁকি শেষ হয়ে যায় না। ঘরে ঢোকার আগে অন্ধকার কোণা, আসবাবের নিচে, আলমারির পেছনে বা রান্নাঘরের বিভিন্ন জায়গা ভালোভাবে পরীক্ষা করে নিতে হবে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সময় হাতে দস্তানা, পায়ে বুট এবং শরীর ঢাকা পোশাক পরিধান করলে নিরাপত্তা বৃদ্ধি পায়।
আবর্জনা বা ভেজা জিনিসপত্র সরানোর সময় কোনোভাবেই খালি হাতে হাত দেওয়া উচিত নয়। কোদাল, রেক বা লাঠির মতো সরঞ্জাম ব্যবহার করলে ঝুঁকি কমে যাবে।
যদি সাপের মুখোমুখি হন, তাহলে শান্ত থাকতে হবে। সাপের কাছে যাওয়া, ধরার চেষ্টা করা বা তাড়ানোর চেষ্টা করা মোটেই ঠিক হবে না। নিরাপদ দূরত্ব রক্ষা করে সাপটিকে সরে যাওয়ার সুযোগ দিতে হবে। ঘরের ভেতরে সাপ ঢুকে পড়লে নিজে তা ধরার চেষ্টা না করে সংশ্লিষ্ট উদ্ধারকারী অথবা প্রশিক্ষিত ব্যক্তি থেকে সাহায্য নেওয়া উচিত।
কোনো ব্যক্তি সাপে কামড়ালে দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিতে হবে। আক্রান্ত অঙ্গটি যতটা সম্ভব স্থির রাখতে হবে। বিষ চুষে বের করা, ক্ষত কেটে দেওয়া বা শক্ত করে কাপড় বেঁধে দেওয়ার মতো ভুল পদ্ধতি গ্রহণ করা উচিত নয়, কারণ এতে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা আরও জানিয়েছেন, অনেকের ধারণা থাকে সাপ কেবল বিরক্ত করলে কামড় দেয় বা বন্যার সময় বাড়িতে প্রবেশ করে না। বাস্তবে, তখন সাপ ভয় অথবা চাপের কারণে অস্বাভাবিক আচরণ করতে পারে এবং নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে মানুষের ঘরেও প্রবেশ করে। সুতরাং বিষধর হোক বা নির্বিষ—যেকোনো সাপ দেখা গেলেই সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।
বিশেষজ্ঞদের মতে সচেতনতা, আগাম প্রস্তুতি এবং সঠিক পদক্ষেপই বন্যার সময় ও পরে সাপের কামড়ের ঝুঁকি কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়। বন্যাকবলিত এলাকায় নিজের নিরাপত্তার সঙ্গে পরিবারের সবাইকে সচেতন করাটা সমান গুরুত্বপূর্ণ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন