প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের জন্য শিক্ষার্থীদের আন্দোলন সপ্তম দিনে প্রবাহিত হয়েছে। আন্দোলনের প্রভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক একাডেমিক কার্যক্রমে স্থবিরতা অব্যাহত রয়েছে। সপ্তম দিনেও নিয়মিত ক্লাস অনুষ্ঠিত হয়নি। ল্যাব, পরীক্ষা ও অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রমও বন্ধ রয়েছে। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকার কারণে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। কবে নাগাদ এসব একাডেমিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
এদিকে শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে শিক্ষকরা কর্মবিরতি পালন করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে একই কর্মসূচিতে যুক্ত হয়েছেন। এর ফলে শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে চুয়েটের স্বাভাবিক কার্যক্রম অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছে। একাডেমিক কার্যক্রমের পাশাপাশি প্রশাসনিক কাজেও এর প্রভাব পড়ছে।
আজ আন্দোলনের অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে একটি ক্রিকেট পিচ তৈরি করা হয়েছে। সেখানে শিক্ষার্থীদের আয়োজনে ‘৫৬ বল শর্ট পিচ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট’ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আন্দোলনের মধ্যে প্রধান ফটকেই ক্রিকেট খেলায় অংশ নিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।
আজকের কর্মসূচির অংশ হিসেবে একটি শ্বেতশাড়িতে অধ্যাপক ড. সায়েমের সফল কার্যক্রম ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার গণসাক্ষ্য তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও আন্দোলনকারীদের ওপর বিভিন্ন মহল থেকে চাপ, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হুমকির প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিলেরও কর্মসূচি রয়েছে। পরে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে বড় পর্দায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমা প্রদর্শনের আয়োজন রয়েছে।
এদিকে আন্দোলনের কারণে চুয়েটের শ্রেণিকক্ষগুলো ফাঁকা পড়ে আছে। উপাচার্য ভবনের দরজাতেও তালা ঝুলছে। সেখানে টাঙানো একটি নোটে লেখা রয়েছে, ‘এই তালা শুধুমাত্র সায়েম স্যার খুলতে পারবেন।’
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতেও আন্দোলনকারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে অবস্থান করছিলেন। মধ্যরাতের নীরবতা ভেঙে কেউ কার্ড খেলায় মেতে ছিলেন, কেউ গিটারে সুর তুলছিলেন। কারও চোখ ছিল ল্যাপটপের পর্দায়—সেখানে চলছিল অনলাইন ফুটবল গেম। কেউ খেলছিলেন ই-ফুটবল, কেউ ফিফা। আবার প্রধান ফটকের সামনের রাস্তায় ক্রিকেট খেলায় ব্যস্ত ছিলেন আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী।
নতুন উপাচার্যের প্রবেশ ঠেকাতে এভাবেই রাতভর প্রধান ফটকে পাহারা দিচ্ছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনের মধ্যে রাতের সময়টিও নিজেদের মতো করে নানা আয়োজনে কাটাচ্ছেন তারা।
এর আগে রোববার দিনভরও বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। ‘৫৬?’ প্রতীকী প্রশ্নযাত্রায় অংশ নিতে চুয়েটের বিভিন্ন আবাসিক হল থেকে শিক্ষার্থীরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে জড়ো হন। তাদের হাতে ছিল ‘৫৬?’ লেখা লাল কাগজের প্ল্যাকার্ড। সেখান থেকে প্রশ্নযাত্রা বের হয়ে স্বাধীনতা চত্বর প্রদক্ষিণ করে আবার শহীদ মিনারে এসে শেষ হয়।
প্রশ্নযাত্রা শেষে অনুষ্ঠিত হয় ‘৫৬ কর্ণার’। সেখানে অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমের সময়ে চুয়েটের আধুনিকায়নে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন শিক্ষার্থীরা। পরে পথনাট্যের মাধ্যমে মাত্র ৫৬ দিনের দায়িত্ব পালনের পর উপাচার্য পরিবর্তন, নতুন উপাচার্যের অনলাইনে যোগদান এবং আন্দোলনের বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরা হয়।
এর আগে আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় গণস্বাক্ষর, মানববন্ধন, অবস্থান ও বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা। ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের পাশাপাশি তারা উপাচার্য ভবন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে অবস্থান নেন।
শিক্ষার্থীদের দাবি, অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনরায় উপাচার্য পদে বহাল করতে হবে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন তারা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন