প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় রেললাইন সংলগ্ন একটি মাদকের আস্তানায় ফিল্মি স্টাইলে অভিযান চালিয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন আবারও আলোচনায় এসেছেন। শনিবার (১৭ অক্টোবর) গেন্ডারিয়া রেললাইন সংলগ্ন এলাকায় এ অভিযানের সময় একটি পিস্তল হাতে ‘অ্যাকশন মুডে’ দেখা গেছে তাকে। অভিযানের ভিডিও তিনি নিজেই তার ফেসবুক পেজে শেয়ার করেছেন।
এখন তার এই কর্মকাণ্ড নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে। এনসিপির সাবেক নেত্রী ডা. তাসনিম জারা এই সমালোচকদের দলে যোগ দিয়েছেন। শনিবার (১৭ অক্টোবর) মধ্যরাতে তিনি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের মাদকবিরোধী অভিযান সম্পর্কে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন।
ডা. তাসনিম জারা তার স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন, "অস্ত্র হাতে মানুষকে ধাওয়া করছেন যিনি, তিনি আমাদের সরকারের একজন প্রতিমন্ত্রী। সেই ভিডিও আবার তার নিজের পেজ থেকেই প্রচার করা হচ্ছে।"
তিনি প্রশ্ন তোলেন, প্রকাশ্যে এই গুন্ডামি দেখানো মানুষ কীভাবে আমাদের শাসন করার দায়িত্ব পান। তিনি আরও বলেন, "আমাদের সমাজে কি এর চেয়ে যোগ্য ও দায়িত্বশীল মানুষ নেই? অবশ্যই আছেন। কিন্তু তাদের নির্বাচনে দাঁড়ানো, প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা এবং জিতে সংসদে যাওয়ার বাস্তব সুযোগ প্রায় বন্ধ করে রাখা হয়েছে।"
একজন নতুন স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচনে দাঁড়াতে চাইলে শুরুতেই তাকে হাজার হাজার মানুষের স্বাক্ষর সংগ্রহ করতে হবে। অন্যদিকে, কোনো দলের কাছে মনোনয়নের জন্য তদবির করা ছাড়া আর কোনো পথ নেই। তিনি বলেন, "আর দলগুলো কাদের, কোন প্রক্রিয়ায় মনোনয়ন দেয়, সেটা আমরা বছরের পর বছর ধরে দেখেই আসছি।"
তিনি আরও যোগ করেন, "যদি কোনোভাবে আপনার মনোনয়ন বৈধ হয়, এরপর আসে নির্বাচনী খরচের সীমা। আইন মেনে চলা প্রার্থীকে সেই সীমার মধ্যে প্রচার চালাতে হবে। অন্যদিকে প্রভাবশালী প্রার্থীরা সীমা ভেঙে বিপুল অর্থ ঢাললেও কমিশন সেটা না দেখার ভান করে থাকে।"
ডা. তাসনিম জারা বলেন, "আপনি যদি সততার সঙ্গে নির্বাচন করতে চান, তাহলে আইন মানাটাই আপনার পিছিয়ে পড়ার কারণ হয়ে দাঁড়াবে।" এরপর ভোটের দিন আসে। ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও অনিয়ম ঠেকানোর দায়িত্ব রাষ্ট্রের। কিন্তু বাস্তবে সেই দায়িত্বও প্রার্থীদের ঘাড়ে এসে পড়ে। তিনি বলেন, "প্রতিপক্ষের গুন্ডাবাহিনী ঠেকাতে আপনারও একটা বাহিনী লাগবে। নিজের ভোট রক্ষা করতেও যদি পেশিশক্তির ওপর নির্ভর করতে হয়, তাহলে একজন সাধারণ নাগরিক প্রতিযোগিতা করবেন কীভাবে?"
তিনি উল্লেখ করেন, "আপনার বৈধ পোলিং এজেন্টদেরও নানা অজুহাতে কেন্দ্রে ঢুকতে দেওয়া হবে না।"
তাসনিম জারা বলেন, "এই ব্যবস্থায় এগিয়ে থাকেন তারা, যাদের অস্ত্র আছে, গুন্ডাবাহিনী আছে কিংবা আগে থেকেই বিপুল অর্থ ও প্রভাব আছে। তারপর আমরা প্রশ্ন করি, ভালো মানুষ রাজনীতিতে আসেন না কেন। মানুষ এমন প্রতিনিধি বেছে নেয় কেন। "১০টা হোন্ডা, ২০টা গুন্ডা, নির্বাচন ঠান্ডা"–এই ব্যবস্থা বজায় রেখে আর কী আশা করবেন? নির্বাচনী ব্যবস্থা ঠিক না করলে এই গুন্ডাতন্ত্রই আমাদের শাসন করে যাবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন