প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
মাছে ভাতে বাঙালী, এই কথাটি আমরা অনেকেই একসময় পাঠ্য পুস্তকে পড়েছি। সময় পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পাঠ্য পুস্তকের বিষয়বস্তুতে সেও বদল এসেছে। তথ্যপ্রযুক্তির যুগে আমরা অনেকেই ভুলে যেতে বসেছি সেই পুরনো বাক্যগুলি। তবে গ্রাম বাঙলার অপরূপ দৃশ্য আজও অক্ষুণ্ণ রয়েছে। একসময় গরুর হাত ধরে চাষাবাদ করা হতো আবাদযোগ্য জমি। বর্তমানে সেগুলো যান্ত্রিক পদ্ধতিতে চাষ করা হচ্ছে। তদুপরি, বাংলাদেশের মানুষেরা এখনো মাছ ধরার আনন্দে মেতে উঠছে। টানা বৃষ্টিপাতে গ্রামের পুকুর, জলাশয় এবং আবাদি জমিগুলো এখন পরিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই সব পানিতে বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় মাছ অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছে। ট্রাক্টরের পিছু পিছু দলবেঁধে ছুটে আসছে দেশীয় প্রজাতির নানা ধরনের মাছ। মাছ আহরণে জমির মালিক ছাড়া পাড়াপড়শিরাও উৎসবে মেতে উঠছে। বিরল উপজেলার ১০ নং রাণীপুকুর ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর গ্রামে জনৈক ব্যক্তি দান রোপনের জন্য ট্রাক্টর দিয়ে চাষ করছেন। এই চাষের সময় ট্রাক্টরের ধারালো ফাল দিয়ে প্রথমে কয়েকটি ঢেলা (শাটি) মাছ কাটা পড়ে ভেসে উঠে। এই দৃশ্য দেখে ঐ এলাকার মোকছেদ আলী মাছ ধরার জন্য ট্রাক্টরের পিছনে ছুটতে থাকেন। পরে আরও কিছু শিশু এবং কিশোর মাছ ধরার জন্য আসেন। এরপর সবাই মাছ ধরতে নেমে পড়েন। ট্রাক্টর চাষ করতে চলেছে এবং সবাই পিছু পিছু মাছ ধরার জন্য ছুটছে। প্রায় অর্ধশতাধিক নারী-পুরুষ, কিশোর-কিশোরী মাছ ধরতে নেমে অন্যরকম এক উৎসবে পরিণত হয় স্থানটি। এভাবে প্রায়ই মাছের সন্ধানে চাষাবাদের ট্রাক্টরের পিছু পিছু ছুটে গিয়ে মাছ আহরণের দৃশ্যগুলো আমাদের মনে করিয়ে দেয় সেই চিরচেনা মাছে ভাতে বাঙালী কথাটি। এলাকার কৃষকেরা জানিয়েছেন, এখন ধান রোপনের মৌসুম চলছে। তাই জমি চাষাবাদ করতে হচ্ছে। ইরি-বোরো ধান কাটার পর দীর্ঘ সময় জমিগুলো অব্যবহৃত থাকে। আমন ধানের বীজতলা তৈরী হওয়ার পর বীজ বোপন থেকে চারাগাছ উত্তোলনের সময় পর্যন্ত আবাদি জমি গুলোতে পানি জমে থাকে এবং দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ডিম ছাড়ে এবং বাচ্চা ফুটে বড় হতে থাকে। ধানের চারাগাছ রোপণের আগে এই সময়েই চাষাবাদের সময় মাছ ধরার উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন