প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের বিভিন্ন স্থানে টানা ১১তম রাতের মতো বিমান হামলা চালিয়েছে। রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন এলাকা লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। এসব এলাকা থেকে একের পর এক বিস্ফোরণের খবর আসছে।
সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বলা হয়েছে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে যে ইরানে টানা ১১তে রাতে বিমান হামলা সম্পন্ন হয়েছে। তাদের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য যে হুমকি ইরান তৈরি করছে, তা দুর্বল করতেই এসব হামলা চালানো হয়েছে।
একটি বিবৃতিতে সেন্টকম জানিয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ইরানের সামরিক অভিযান পরিচালনা কেন্দ্র, নৌ সক্ষমতা, বিমান রাখার হ্যাঙ্গার, ড্রোন সংরক্ষণাগার এবং সামরিক রসদ অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে।
তেহরান থেকে আলজাজিরার প্রতিনিধি তৌহিদ আসাদি জানিয়েছেন যে ইরানের অনেক এলাকায় বড় ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তেহরানের বিভিন্ন স্থানে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে, তাসনিম সংবাদ সংস্থার মাধ্যমে জানা গেছে যে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের বুশেহর শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। দক্ষিণাঞ্চলের সিরিক শহরের আশপাশে একাধিক বিস্ফোরণের খবর দিয়েছে সংবাদ সংস্থা ফার্স।
ফার্সের খবরে জানানো হয়েছে যে ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় খুজেস্তান প্রদেশের বেহবাহান ও ওমিদিয়েহ শহরের কাছাকাছি এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। প্রদেশটির ডেপুটি গভর্নর এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর পাশাপাশি, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের তাবরিজ শহরের উপকণ্ঠে একটি সামরিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছে। স্থানীয় সংকট ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সংবাদ সংস্থাটি জানায়, স্থানীয় সময় রাত ২টা ৪০ মিনিটে এ হামলা ঘটে। এ হামলায় শহরের বাইরের একটি সামরিক এলাকা লক্ষ্যবস্তু হয়। তবে শহরের ভেতরে কোনও হামলার ঘটনা ঘটেনি।
সম্প্রতি ঘটনার হামলায় যুক্তরাষ্ট্র প্রধানত দক্ষিণ ইরান ও হরমুজ প্রণালির আশপাশের এলাকাগুলিকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে নিশানা বানাচ্ছে। তবে তাবরিজ ও তেহরানে হামলা এই ধারার বাইরের নতুন প্রবণতার ইঙ্গিত করছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানের ছোড়া একটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। চলতি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা পুনরায় শুরু হওয়ার পর ইরান একাধিকবার কুয়েত, বাহরাইন এবং কাতারসহ উপসাগরীয় দেশগুলিতে হামলা চালিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী পিট হেগসেথ মঙ্গলবার কংগ্রেসকে জানিয়েছেন যে, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৩৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, পেন্টাগনের প্রয়োজন অতিরিক্ত ৯০ বিলিয়ন ডলার।
ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের বক্তব্যের কারণে হেগসেথ তীব্র সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছেন। জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের সিনেটর জন অসফ অতিরিক্ত অর্থ চাওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, আগে হেগসেথ জানিয়েছিলেন যে ইরানের সামরিক বাহিনী ‘ধ্বংস’ হয়ে গেছে। তাহলে এখন অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন কেন?
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উল্লেখ করেছেন যে, পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন নামে সন্দেহভাজন একটি ইরানি পারমাণবিক স্থাপনায় তিনি ‘খুব শিগগিরই’ এবং ‘অত্যন্ত জোরালোভাবে’ হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছেন।
ট্রাম্পের এই হুমকির জবাবে ইরানের খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স জানিয়েছে যে, যদি যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলিতে হামলা চালায়, তাহলে পুরো অঞ্চলে হামলার পরিধি আরো বাড়ানো হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন